‘পাঠকই প্রথম আলোর সাহস’

সিলেটে প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর অনুষ্ঠানে আনিসুল হক

সিলেটের সকাল ডেস্ক :: প্রথম আলোর সহযোগী সম্পাদক ও প্রখ্যাত লেখক আনিসুল হক বলেছেন, ‘গণতন্ত্রের বিকল্প আরও গণতন্ত্র। বাংলাদেশটা সর্বক্ষেত্রে এগিয়ে যাচ্ছে, এটাই গণতন্ত্র। এই দেশকে এগিয়ে নিতে প্রথম আলো তাই প্রতিনিয়ত সাহসের গল্প শোনাতে চায়, তরুণ প্রজন্মকে স্বপ্ন দেখায়। যেখানে ভুল, সেখানে ধরিয়ে দিতে সমালোচনা করতেও তাই প্রথম আলো কখনোই কুণ্ঠাবোধ করে না। লাখ লাখ পাঠকই মূলত প্রথম আলোর সাহস।’

বুধবার বিকেল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত সিলেটে প্রথম আলোর ১৯তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে অনুষ্ঠিত প্রীতিসম্মিলনীতে তিনি এসব কথা বলেছেন। নগরের রিকাবীবাজার এলাকার কবি নজরুল অডিটোরিয়ামে প্রথম আলোর কাছের মানুষ, সহযাত্রী ও শুভানুধ্যায়ীদের অংশগ্রহণে এ অনুষ্ঠান হয়। অনুষ্ঠানে সাংসদ, রাজনীতিক, শিক্ষাবিদ, ব্যবসায়ী, নারীনেত্রী, আইনজীবী, সাহিত্যিক, শিল্পী, সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব, সাংবাদিক, ক্রীড়াবিদ, সুশীল সমাজের প্রতিনিধিসহ প্রথম আলোর সুহৃদ ও স্বজনেরা অংশ নেন।

বেলা ৫টা ২০ মিনিটে ‘সাত সাহসী’ শীর্ষক প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শনীর মাধ্যমে শুরু হয় মূল অনুষ্ঠান। এরপরই মঞ্চে আসেন মেট্টোপলিটন ইউনিভার্সিটির সাবেক উপাচার্য ভাষাসংগ্রামী মো. আবদুল আজিজ। বক্তৃতায় তিনি বলেন, ‘প্রথম আলো নেশার মতো। প্রথম আলো এক ভালোবাসার নাম। ১৯ বছর ধরে পাঠকেরা নেশার ঘোরে কাটিয়েছেন। একটি দিন যদি এ বহুল প্রচারিত দৈনিকটি পড়া না হয়, তবে সারা দিন মনে হয়-কি যেন একটি কাজ করা বাকি রয়ে গেছে। যেটি এখনও বহমান। প্রথম আলো এখন পূর্ণ যৌবন লাভ করেছে। আগামীতে এই যৌবন আরও আলো ছড়াবে।’

এরপর ‘পাঠকের মুখোমুখি’ শীর্ষক এক পর্বে শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ফরিদ উদ্দিন আহমেদ, হাফিজ আহমদ মজুমদার শিক্ষা ট্রাস্টের চেয়ারম্যান কবির এইচ চৌধুরী, জেলা আইনজীবী সমিতির সাবেক সভাপতি এমাদ উল্লাহ শহীদুল ইসলাম, মহানগর পুলিশের সহকারী কমিশনার রফিকুল ইসলাম, বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা) সিলেটের সাধারণ সম্পাদক আবদুল করিম কিম, কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার ভাইস চেয়ারম্যান নাসরিন জাহান, বাংলাদেশ ওভারসিজ সেন্টারের প্রধান নির্বাহী শামসুল আলম, কবি কাসমির রেজা, মাহমুদ শিকদার প্রমুখ বক্তব্য দেন। পুরো অনুষ্ঠানটি সঞ্চালন করেন প্রথম আলো সিলেট আঞ্চলিক কার্যালয়ের নিজস্ব প্রতিবেদক উজ্জ্বল মেহেদী।

‘পাঠকদের মুখোমুখি’ অনুষ্ঠানের পরপরই সিলেটের বিভিন্ন রাজনৈতিক সংগঠনের নেতৃত্বস্থানীয়রা মঞ্চে এসে প্রথম আলোকে নিয়ে তাঁদের স্বপ্ন ও বেদনার বিষয়ে খোলামেলা বক্তব্য দেন। এ পর্বে সিটি করপোরেশনের মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী, আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক মিসবাহ উদ্দিন সিরাজ, হবিগঞ্জ-সিলেটের সংরক্ষিত নারী আসনের সাংসদ আমাতুল কিবরিয়া কেয়া চৌধুরী, গণতন্ত্রী পার্টির কেন্দ্রীয় সভাপতি মো. আরশ আলী, মহানগর আ.লীগের সভাপতি বদরউদ্দিন আহমদ কামরান, সাধারণ সম্পাদক আসাদ উদ্দিন আহমদ, জেলা আ.লীগের সাধারণ সম্পাদক সাবেক সাংসদ শফিকুর রহমান চৌধুরী, মহানগর বিএনপির সভাপতি নাসিম হোসাইন, সাধারণ সম্পাদক বদরুজ্জামান সেলিম, সাবেক সাংসদ সৈয়দা জেবুন্নেসা হক ও সিপিবি সিলেটের সাবেক সভাপতি বেদানন্দ ভট্টাচার্য বক্তব্য দেন।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন একুশে পদকপ্রাপ্ত লোকসংগীত শিল্পী সুষমা দাশ, জাতীয় ক্রীড়া পুরস্কারপ্রাপ্ত ফুটবলার রণজিত দাস, প্রবীণ রাজনীতিবিদ ইকবাল আহমদ চৌধুরী, প্রবীণ শিক্ষাবিদ বিজিত কুমার দে, কলাম লেখক রফিকুর রহমান লজু, কবি শুভেন্দু ইমাম, জেলা ক্রীড়া সংস্থার সাধারণ সম্পাদক মাহিউদ্দিন আহমদ সেলিম, মুক্তিযোদ্ধা সুব্রত চক্রবর্তী জুয়েল, সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্টার বদরুল ইসলাম শোয়েব, মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক অধিদপ্তর সিলেট অঞ্চলের পরিচালক হারুনুর রশীদ, সুজন-সুশাসনের জন্য নাগরিক সিলেটের সভাপতি ফারুক মাহমুদ চৌধুরী, ওসমানীনগর উপজেলার চেয়ারম্যান মইনুল হক চৌধুরী, উদীচী সিলেটের সভাপতি এ কে শেরাম, সিলেট চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্টির জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি মাসুদ আহমদ চৌধুরী, গোবিন্দগঞ্জ ডিগ্রি কলেজের অধ্যক্ষ সুজাত আলী রফিক, বিয়ানীবাজার পৌরসভার মেয়র আবদুস শুকুর, সিলেট জেলা পরিষদের ১ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য মোহাম্মদ শাহানুর, সিলেটের অতিরিক্ত সরকারি কৌসুলি (এডিশনাল পিপি) শামসুল ইসলাম, এপিপি নূরে আলম সিরাজী, সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোট সিলেটের সভাপতি আমিনুল ইসলাম চৌধুরী, সম্মিলিত নাট্য পরিষদ সিলেটের সাধারণ সম্পাদক রজতকান্তি গুপ্ত প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন। সবশেষে কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ও জাতীয় কবি নজরুল ইসলামের অনুপ্রেরণাদানকারী দুটি গান ‘সঙ্কোচের বিহ্বলতা নিজেরে অপমান’ এবং ‘দুর্গম গিরি, কান্তার-মরু, দুস্তর পারাবার’ বাজানোর মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠান শেষ হয়।

শেয়ার করুন