তীব্র উত্তেজনাপূর্ণ ম্যাচে টানা দ্বিতীয় জয় সিলেটের

মিজান আহমদ চৌধুরী, সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়াম থেকে: প্রথম ম্যাচে রীতিমত ঢাকা ডায়নামাইটসকে উড়িয়ে দিয়েছিলো স্বাগতিক সিলেট সিক্সার্স। তবে তারা হয়তো সব রোমাঞ্চ জমা করে রেখেছিলো কুমিল্লা ভিক্টরিয়ান্সের সাথে নিজেদের দ্বিতীয় ম্যাচে। ক্রিকেট ম্যাচের সব রোমাঞ্চ ও উত্তেজনা ছিলো এ ম্যাচে। ম্যাচের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত দর্শকেরা প্রতিটি মুহূর্তে ক্রিকেটের উষ্ণতার স্বাদ পেয়েছেন। বিশেষ করে ম্যাচটি শেষ দিকে পেন্ডুলামের মত করে দুলছিলো ম্যাচটি। ১৪৬ রানের জয়ের লক্ষ্যে খেলতে নেমে সিলেট যখন সহজ জয়ের দেখা দেখছিলো তখন ক্ষনে ক্ষনে ম্যাচের দৃশ্যপদ বদলাতে থাকে। ম্যাচের নাটকটি শুরু হয় মূলত শেষ দুই ওভারে । তখন সিলেটের জয়ের জন্য প্রয়োজন ১৬ রান হাতে ৭ উইকেট । তখন উনিশ তম ওভারে নাসির ও ও শেষ ওভারের প্রথম বলে শুভাগত হোমের বিদায়ে ম্যাটটা নিজেদের দখলে নিয়ে নেয় কুমিল্লা। শেষ ৫ বলে যখন ১০ রানের প্রয়োজন তখন ক্রিজে নতুন দুজন ব্যাটসম্যান। তখনই ম্যাচের দৃশ্যপটে উইকেট রক্ষক ব্যাটসম্যান নুরুল হাসান সোহান। শেষওভারের দ্বিতীয় বলে ড্যারেন ব্র্যাভোকে বিশাল ছক্কা হাঁকান এই ড্যাশিং ব্যাটসম্যান। এরপর যখন দুই বলে দু’রানের প্রয়োজন তখন চার মেরে স্বাগতিক দর্শকদেরকে ম্যাচ জয়ের আনন্দে ভাষান নুরুল হাসান।।
বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগ ক্রিকেটে (বিপিএল) নিজেদের দ্বিতীয় ম্যাচে রোববার দুপুরে কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্সের বিপক্ষে মাঠে নামে স্বাগতিক সিলেট সিক্সার্স। সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে টস হেরে কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্সের দুই ওপেনার লিটন দাস ও ইমরুল কায়েস উড়ন্ত সূচনা করেন। চার ওভারে দলের সংগ্রহ দাড়ায় ৩৬ রানে। তবে এরপরই ছন্দ পতন হয়। সিলেটের প্রথম ম্যাচের মত এদিন ও বোলার ভ’মিকায় সফল ছিলেন অধিনায়ক নাসির। তার হাত ধরেই সিলেট পায় প্রথম উইকেটের দেখা । ১১ বলে ১২ রান করে তিনি ফেলান ইমরুল কায়েসকে। ওপর ওপেনারও ইমরুলের দেখনো রা¯তায় পথ ধরেন। ১৯ বলে একটি ছয় এবং দুটি চারের বিনিময়ে ২১ রান করে তাইজুল ইসলামের বলে উইকেট রক্ষকের হাতে ক্যাচ দিয়ে প্যাভিলিয়নের রাস্তা ধরেন লিটন দাস।এর পরপরই বিদেশী রিক্রুট বাটলারের বিদায়ে ৪৪ রানে ৩ উইকেটে পরিণত হয় কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্সে। তবে অপর প্রন্তের যাওয়া আসার মিছিলে এক প্রান্তে অবিচল থাকেন ক্যারাবিয়ান ড্যাশিং ব্যাটসম্যান স্যামুয়েলস। এক প্রন্ত শুধু আগলে রাখেননি তিনি সুযোগ বুঝে ব্যাট চালিয়েও খেলেছেন। ৪৭ বলে ৬০ রানের ইনিংসে ৩টি অভার বাউন্ডারির সাথে ২টি বাউন্ডারির মার ছিলো। তাকে যোগ্য সঙ্গ দিয়েছেন সিলেটি লোকাল হিরো এই মৌসুমে কুমিল্লার হয়ে খেলা অলক কাপালি । শেষ দিকে তার কার্যকরী ১৯ বলে ২৬ রানের ইনিংসে শেষ পর্যন্ত কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্স ২০ অভারে ৬ উইকেটের বিনিময়ে ১৪৫ রান সংগ্রহ করে।
সিলেট সিক্সার্সের হয়ে সানতকি ও তাইজুল দুটি এবং নাসির ও প্লাংকেট একটি করে উইকেট লাভ করেন।
১৪৬ রানের জয়ে লক্ষ্যে ব্যাট করতে নেমে সিলেট সিক্সার্স গত ম্যাচের মত উড়ন্ত সূচনা করে। প্রথম ম্যাচের চিত্র যেনো ফুটিয়ে তুলেন আন্দ্রে ফ্লেচার ও উপুল তারাঙ্গা। মাত্র ৮ ওভারেই তারা দুজন ৭৩ রান সংগ্রহ করেন। আগের ম্যাচে ফিফটি করা আন্দ্রে ফ্লেচার ২৯ বলে ৩৬ রান করে বিদায় নিলেও টানা দ্বিতীয় ম্যাচে নিজের ফিফটি তুলে নেন উপুল তারাঙ্গা। ৪০ বলে ৫১ রান করে নাসির হোসেনের সাথে ভুল বোঝাবুঝিতে রান আউটের শিকার হয়ে প্যাভিলিয়নে ফেরেন ম্যাচ সেরার পুরস্কার জেতা উপুল তারাঙ্গা।তবে নাসির আর বিদেশী রিক্রুট হোয়াইটলি ব্যাটে এগিয়ে যেতে থাকে সিলেট। তবে নাসির ১৮ এবং হোয়াইটলি ১০ রান করে ফিরে গেলে ম্যাচে নাটকীয়তার মূড় নেয়। তবে শেষ ওভারে সিলেটের যখন ১০ রান প্রয়োজন তখন নুরুল হাসানের ব্যাটে সিলেট সিক্সার্স টানা দ্বিতীয় জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে।

শেয়ার করুন