গোয়াইনঘাটে ইসলামী ব্যাংকের কর্মকর্তা লাঞ্চিতের ঘটনায় আটক ৩

গোয়াইনঘাট প্রতিনিধি :: সিলেটের গোয়াইনঘাটের বাঘের সড়ক এলাকায় খাজা ব্রিক্স ফিল্ড নামের একটি ইট ভাটায় ঋণের কিস্তির টাকা উত্তোলনে গিয়ে ইসলামী ব্যাংকের তিন কর্মকর্তাকে আটকে রেখে মারধর করেছে সেখানকার কর্মচারীরা। এ ঘটনায় তিনজনকে আটক করেছে পুলিশ। একই সাথে ওই তিন ব্যাংক কর্মকর্তাকে উদ্ধার করা হয়।

বৃহস্পতিবার দুপুরে এ ঘটনা ঘটে। তবে এ ঘটনায় পাল্টাপাল্টি বক্তব্য দিয়েছেন ব্যাংক কর্মকর্তা ও ব্রিক্স ফিল্ডের কর্তৃপক্ষ। আটককৃতরা হচ্ছে- ইটভাটার মালিক সালেহ আহমদ, তার ভাই আলিম উদ্দিন এবং ম্যানেজার কাওছার আহমদ।

ইসলামী ব্যাংক সিলেট শাখার কর্মকর্তা ও ইসলামী ব্যাংকের ভাইস চেয়ারম্যন মোঃ সরওয়ার হোসেন জানান, খাজা ব্রিক্স ফিল্ডে ইসলামী ব্যাংক সিলেট শাখার দেড় কোটি টাকা লোন রয়েছে। ওই লোনের টাকা উত্তোলনের জন্য বৃহস্পতিবার সকাল ১০টায় ইসলামী ব্যাংক কর্মকর্তা মোঃ ওয়াহিদুজ্জামান ও মোঃ আহসান আলীকে সাথে নিয়ে এ ব্রিক্স ফিল্ডে উপস্থিত হই। এসময় ব্রিক্স ফিল্ডের ম্যানেজার কাওসার আহমদ টাকা না দিয়ে আমাদের সাথে তর্কে জড়িয়ে পড়ে। ম্যানেজার এবং আমাদের মধ্যে কিছু সময় তর্ক বিতর্কের পর আমরা এখান থেকে একটি লেগুনা যোগে সিলেটের উদ্দ্যেশে রওয়ানা হই। হরিপুর আসার পর মালিক পক্ষ আমাদের গাড়ি গতিরোধ করে ব্রিক্স ফিল্ডে ফিরিয়ে নিয়ে আসে। ব্রিক্স ফিল্ডে আসার পর আমাদের উপর সকলে মিলে আক্রমন চালায়। এতে আমাদের পরনের জামা কাপড় চিড়ে ফেলে।

কৌশলে তারা ব্যাংক অফিসে খবর দিলে র‌্যাব ও গোয়াইনঘাট থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে তাদের উদ্ধার করেন বলে জানান তিনি।

অপর দিকে মালিক পক্ষ সালেহ আহমদ জানান, ‘ইটভাটার মালিকানা নিয়ে পারিবারিক সমস্যা রয়েছে। একারণে তাদের আটক করি।’

গোয়াইনঘাট থানার এসআই সমিরন চন্দ্র দাস জানান,এ ঘটনার খবর পেয়ে খাজা ব্রিক্স ফিল্ড থেকে ইসলামী ব্যাংকের ৩কর্মকর্তাকে উদ্ধার করি। এ ঘটনায় জড়িত সন্দেহে ৩জনকে আটক করে গোয়াইনঘাট থানায় আনা হয়েছে।

এ বিষয়ে অফিসার ইনচার্জ (তদন্ত) হিল্লোল রায় জানান,খাজা ব্রিক্স ফিল্ডে ইসলামী ব্যাংকের ৩কর্মকর্তা আটকের খবর পেয়ে তাৎক্ষনিক এসআই সমিরনকে ঘটনাস্থলে প্রেরণ করি। বিকাল ৫টায় র‌্যাবের সহযোগিতায় ব্যাংক কর্মকর্তাদের উদ্ধার ও জড়িত সন্দেহে ৩ জনকে আটক করা হয়েছে। এ ঘটনায় রাত পর্যন্ত থানায় কোন মামলা হয়নি।

শেয়ার করুন