ইসকন ভক্তদের মিলনমেলা শেষ হচ্ছে সোমবার

সিলেটের সকাল ডেস্ক ::  সিলেট নগরীর যুগলটিলা কাজলশাহস্থ আন্তর্জাতিক কৃষ্ণভাবনামৃত সংঘ ইসকনের ৬দিনব্যাপী ইসকন ভক্ত সম্মেলন শেষ হচ্ছে ২০ নভেম্বর সোমবার। গত চারদিনে নানা আয়োজনে অংশ নিয়েছেন হাজার-হাজার ভক্ত অনুরাগী। প্রতিদিন দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে আগত ভক্তদের পদচারনায় মুখরিত হয়ে উঠছে মন্দির প্রাঙ্গন। নামছে ভক্তদের ঢল। প্রতিদিন নানা কর্মসূচির মধ্যে দীক্ষা অনুষ্ঠান, কীর্তনমেলা ও মহাপ্রসাদ বিতরণ করা হচ্ছে। শনিবার অন্যান্য কর্মসূচির মধ্যে ইসকন সিলেটের জাগ্রত ছাত্র সমাজ পরিচালিত পরিবেশিত হয় ম্যাগাজিন অনুষ্ঠান ‘নিত্য আনন্দে জাগো’।

রোববার কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে দীক্ষা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, কীর্ত্তনমেলা ও মহাপ্রসাদ বিতরণ। সমাপনী দিনে সোমবার থাকছে র‌্যালি ও গুরু মহারাজের সাথে শীর্ষ শিষ্যদের সাক্ষাৎ।

এদিকে প্রতিদিনই বিভিন্ন পেশা ও শ্রেণির নেতারা সম্মেলনে এসে পরিদর্শন ও সহযোগিতা করে যাচ্ছেন। ইতোমধ্যে ভারতীয় সহকারি হাইকমিশনার অনিন্দ্র ব্যানার্জি, সিটি মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী, সাবেক সিটি মেয়র বদর উদ্দিন আহমদ কামরান, ইসকন জিবিসি সদস্য ভক্তি পুরুষোত্তম স্বামী মহারাজ, ইসকন মায়াপুরের সংকীর্ত্তন বিভাগের পরিচালক বেনুধারী দাস ব্রহ্মচারী, মহানগর আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক আসাদ উদ্দিন আহমদ, মৎস ও প্রাণি সম্পদ বিভাগের অতিরিক্ত সচিব অরুন কুমার মালাকার, পার্বত্য চট্রগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রনালয়ের অতিরিক্ত সচিব মানিকলাল ভৌমিকসহ অনেকেই সম্মেলনের বিভিন্ন কর্মসূচিতে অংশ নেন ও পরিদর্শন করেন।

ইসকন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছেন, ভক্ত সম্মেলনের প্রধান আকর্ষণ ইসকন জিবিসি দীক্ষাগুরু, বিশ্ব পরিব্রাজকাচার্য শ্রীল জয়পতাকা স্বামী মহারাজ। তিনি সিলেটে অবস্থান করায় সম্মেলন ভিন্ন মাত্রা নিয়ে আসে। তিনি মন্দিরে আগমন করলে তিলধারণের ঠাই মিলেনা মন্দিরে। হাজার হাজার ভক্ত তার সান্নিধ্য পাওয়ার জন্য ভিড় করছেন। দীর্ঘ ১০ বছর পর জয়পতাকা স্বামী মহারাজ সিলেটে আগমন করায় সম্মেলন আর সাফল্য পেয়েছে বলে জানান ইসকন মন্দির সিলেটের অধ্যক্ষ নবদ্বীপ দ্বিজ গৌরাঙ্গ মহারাজ। তিনি জানান, বাংলাদেশের ইতিহাসে এ ধরণের সম্মেলন স্মরনীয় হয়ে থাকবে।

জানা গেছে, ইসকন নতুন একটি মন্দির নির্মানের উদ্যোগ গ্রহন করেছে। প্রায় শতকোটি টাকা ব্যয় ধরে নান্দনিক ওই মন্দিরটির ভিত্তিপ্রস্থর স্থাপনও ছিল ভক্ত সম্মেলনের আরেক আকর্ষণ। শুক্রবার মন্দিরের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন সিলেট সিটি মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী ও ইসকন জিবিসি দীক্ষাগুরু, বিশ্ব পরিব্রাজকাচার্য শ্রীল জয়পতাকা স্বামী মহারাজ। মন্দিরটি নির্মাণ কাজ শেষ হতে ৪-৫ বছর লাগবে। মন্দির নির্মাণে আকর্ষনীয় ও দৃষ্টি নন্দন স্থাপত্যশৈলীর সমাহার ঘটানো হবে। যা সারা দেশের মধ্যে প্রধান ও দর্শনীয় স্থান হবে।

আগামী সোমবার পর্যন্ত ভক্ত সম্মেলন সফলভাবে শেষ করতে সিলেটবাসীসহ ভক্তদের প্রতি অনুরোধ জানিয়েছেন ইসকন মন্দির সিলেটের অধ্যক্ষ নবদ্বীপ দ্বিজ গৌরাঙ্গ দাস ব্রহ্মচারী।

 

শেয়ার করুন