ইউনেস্কোর কার্লোস জে ফিনলে পুরস্কারে ভূষিত ড. সমীর সাহা

এনায়েত হোসেন সোহেল, প্যারিস,ফ্রান্স থেকে ::  বাংলাদেশের বিশিষ্ট অণুজীববিজ্ঞানী অধ্যাপক ড. সমীর সাহাকে আনুষ্ঠানিকভাবে কার্লোস জে ফিনলে পুরস্কার প্রদান করেছে ইউনেস্কো। ৬ নভেম্ভর সোমবার বিকেলে প্যারিসে অবস্থিত ইউনেস্কোর সদর দপ্তরের দুই নম্বর হলে এ পুরস্কার প্রদান করা হয়। যৌথভাবে দেয়া অপর পুরস্কারপ্রাপ্ত হন পাকিস্থানের অণুজীববিজ্ঞানী ডাক্তার শাহিদা হাসনাইন।
ইউনেস্কোর ৩৯তম সাধারণ অধিবেশনে ১৯৫ টি সদস্য রাষ্ট্রের প্রতিনিধিদের উপস্থিতিতে অনুষ্ঠিত অনুষ্ঠানের শুরুতে বক্তব্য রাখেন ফ্রান্সে নিযুক্ত কিউবার রাষ্ট্রদূত এইচ ই দুফসি মারিয়া বুয়েরগো রোদনগুয়েজ। ইউনেস্কোর ডেপুটি ডাইরেক্টর জেনারেল গেটাচেও ইঞ্জিদা , কিউবার বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রী এইচ ই এলবা রোসা পেরেজ মন্তোয়া। অনুষ্ঠানে আরো বক্তব্য রাখেন পুরস্কাপ্রাপ্ত দুই অণুজীববিজ্ঞানী  অধ্যাপক সমীর সাহা ও ডাক্তার শাহিদা হাসনাইন।
পরে ইউনেস্কো সহকারী ডিরেক্টর জেনারেল গেটাচেও ইঞ্জিদা অধ্যাপক সমীর সাহার হাতে পাঁচ হাজার ডলারের চেক ও সম্মাননা  পুরস্কার তুলে দেন।
শিশু স্বাস্থ্যের ওপর সরাসরি বিরূপ প্রভাব ফেলা নিউমোনিয়া ও মেনিনজাইটিস বা মস্তিষ্ক-ঝিল্লীর প্রদাহ তৈরিতে দায়ী জীবাণু প্রতিরোধে বাংলাদেশে ভ্যাকসিন চালুর জন্য বিশেষভাবে পরিচিতি ও প্রশংসিত এই অণুজীববিজ্ঞানী। অণুজীববিজ্ঞানের প্রায়োগিক চিকিত্‍সার (ক্লিনিক্যাল মাইক্রোবায়োলজি) গবেষণায় গুরুত্বপূর্ণ অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ চলতি বছর আমেরিকান সোসাইটি অব মাইক্রোবায়োলজি পুরস্কারও লাভ করেন সমীর সাহা।
অণুজীববিজ্ঞানে গুরুত্বপূর্ণ অবদানের জন্য প্রতি বছর এ সম্মানজনক পুরস্কারটি দেয়া হয়।
ড. সমীর সাহা বলেন, ইউনেস্কোর পুরস্কারপ্রাপ্তি আমার কাছে একেবারেই অপ্রত্যাশিত ঘটনা। আমি ভাবতেই পারিনি আমাকে এভাবে সম্মানিত করা হবে। পুরস্কারটি কেবল আমার জন্যই বিশেষ নয়, এটি বাংলাদেশের জন্যও একটি বিশেষ ঘটনা। আমি এই বিশেষ প্রাপ্তিতে আনন্দিত ও অভিভূত।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ১৯৮৩ সালে অণুজীববিজ্ঞানে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি নেন সমীর সাহা। এরপরই যোগ দেন ঢাকা শিশু হাসপাতালের  গবেষণাগারে। ১৯৮৯ সালে পিএইচডি ডিগ্রি অর্জন করেন ভারতের বেনারসে ইন্ডিয়ান ইনস্টিটিউট অব মেডিকেল সায়েন্স থেকে।
কিউবা সরকারের পৃষ্টপোষকতায়  ১৯৭৭ সাল থেকে কার্লস জে ফিনলে পুরস্কার দিয়ে আসছে ইউনেস্কো।
শেয়ার করুন