নন্দিত কথাসাহিত্যিক হুমায়ূন আহমেদের ৬৯তম জন্মদিন আজ

সিলেটের সকাল ডেস্ক :: নন্দিত কথাসাহিত্যিক হুমায়ূন আহমেদের ৬৯তম জন্মবার্ষিকী আজ। সত্তর দশকের শেষভাগ থেকে শুরু করে মৃত্যু অবধি তিনি ছিলেন বাংলা গল্প-উপন্যাসের অপ্রতিদ্বন্দ্বী কারিগর। আধুনিক বাংলা কল্পবিজ্ঞান সাহিত্যের পথিকৃৎ এবং নাটক ও চলচ্চিত্র পরিচালক হিসেবে সমাদৃত এই ব্যক্তিত্বের জন্মদিন উপলক্ষে আজ নানা অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে।গতকাল রাত ১২টায় কেক কেটে তার জন্মদিন উদযাপন করেছেন স্ত্রী মেহের আফরোজ শাওন। আজ ভোরে হুমায়ুন আহমেদের নিজ হাতে গড়া নুহাশ পল্লীতে যাত্রা এবং এতিমখানায় খাবার পরিবেশন করা হবে পারিবারিকভাবে। এ ছাড়া চ্যানেল আই প্রাঙ্গণে দিনব্যাপী আয়োজন করা হয়েছে ‘হুমায়ূন মেলা’।

বিকাল তিনটায় পাবলিক লাইব্রেরিতে বসবে হুমায়ূন আহমেদের একক বইমেলা ও নাটকের মঞ্চায়ন। অন্যদিকে গতকাল বাংলা একাডেমিতে প্রদান করা হয় ‘এক্সিম ব্যাংক-অন্যদিন হুমায়ূন আহমেদ সাহিত্য পুরস্কার-২০১৬’।গাজীপুর সংবাদদাতা জানান, সদর উপজেলার পিরুজালীতে অবস্থিত নুহাশ পল্লীতে গতকাল রাত ১২টা ১ মিনিটে কেক কাটা হয়েছে বরেণ্য লেখকের জন্মদিন উপলক্ষে। এ ছাড়া পুরো নুহাশ পল্লীকে আলোকসজ্জায় সজ্জিত করা হয়েছে। আজ তার কবরে পুষ্পস্তবক অর্পণ করা হবে।নুহাশ পল্লীর ম্যানেজার সাইফুল ইসলাম বুলবুল জানান, হুমায়ূন আহমেদের জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে নুহাশ পল্লীর পক্ষ থেকে দিনব্যাপী নানা কর্মসূচি পালন করা হবে। সকালে হুমায়ুন আহমেদের স্ত্রী শাওন তার ছেলে নিষাদ ও নিনিতকে নিয়ে নূহাশ পল্লীতে মরহুমের কবর জিয়ারত, দোয়া মাহফিলসহ বিভিন্ন কর্মসূচিতে অংশ নেবেন।এদিকে হুমায়ুন আহমেদের ৬৯তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে তার ভক্তদের সংগঠন হিমু পরিবহনের উদ্যোগে গাজীপুরে বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে। সকালে ক্যানসার সচেতনতামূলক ৩০ জনের একটি সাইকেল র্যালি জেলা শহর থেকে নুহাশ পল্লীতে যাবে। পথিমধ্যে সচেতনতামূলক লিফলেট বিতরণ করা হবে। সংগঠনের ১৫ সদস্যের অপর একটি দল ঢাকা থেকে খালি পায়ে হেঁটে নুহাশ পল্লীতে যাবে। বিকালে গাজীপুর জেলা পরিষদ মিলনায়তনে আলোচনাসভা অনুষ্ঠিত হবে। এতে প্রধান অতিথি থাকবেন গাজীপুরের জেলা প্রশাসক ড. দেওয়ান মুহাম্মদ হুমায়ূন কবীর।

হুমায়ূন আহমেদ ১৯৪৮ খ্রিস্টাব্দের ১৩ নভেম্বর ময়মনসিংহ জেলার অন্তর্গত নেত্রকোনা মহুকুমার কেন্দুয়ার কুতুবপুরে জন্মগ্রহণ করেন। তার পিতা ফয়জুর রহমান আহমদ এবং মা আয়েশা ফয়েজ। হুমায়ূন আহমেদ বিংশ শতাব্দীর বাঙালি জনপ্রিয় কথাসাহিত্যিকদের মধ্যে অন্যতম। তাকে বাংলাদেশের স্বাধীনতাপরবর্তী শ্রেষ্ঠ লেখক গণ্য করা হয়। তিনি একাধারে ঔপন্যাসিক, ছোটগল্পকার, নাট্যকার এবং গীতিকার। বলা হয়, আধুনিক বাংলা কল্পবিজ্ঞান সাহিত্যের তিনি পথিকৃৎ। নাটক ও চলচ্চিত্র পরিচালক হিসেবেও তিনি সমাদৃত। তার প্রকাশিত গ্রন্থের সংখ্যা দুই শতাধিক। বাংলা কথাসাহিত্যে তিনি সংলাপপ্রধান নতুন শৈলীর জনক। তার বেশ কিছু গ্রন্থ পৃথিবীর নানা ভাষায় অনূদিত হয়েছে, বেশ কিছু গ্রন্থ স্কুল-কলেজ বিশ্ববিদ্যালয়ের পাঠ্যসূচির অন্তর্ভুক্ত। তার গল্প-উপন্যাসের জনপ্রিয়তা তুলনারহিত। তার সৃষ্ট হিমু ও মিসির আলি চরিত্রগুলো বাংলাদেশের যুবকশ্রেণিকে গভীরভাবে উদ্বেলিত করেছে। তার নির্মিত চলচ্চিত্রগুলো পেয়েছে অসামান্য দর্শকপ্রিয়তা। তার টেলিভিশন নাটকগুলো ছিল সর্বাধিক জনপ্রিয়। সংখ্যায় বেশি না হলেও তার রচিত গানও সবিশেষ জনপ্রিয়তা লাভ করে।তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রসায়ন বিভাগের অধ্যাপক হিসেবে দীর্ঘকাল কর্মরত ছিলেন। লেখালেখি এবং চলচ্চিত্র নির্মাণের স্বার্থে একপর্যায়ে অধ্যাপনা ছেড়ে দেন।

হুমায়ূন আহমেদের প্রথম স্ত্রীর নাম গুলতেকিন আহমেদ। তাদের বিয়ে হয় ১৯৭৩ খ্রিস্টাব্দে। এই দম্পতির তিন মেয়ে এবং দুই ছেলে। তিন মেয়ের নাম বিপাশা আহমেদ, নোভা আহমেদ, শীলা আহমেদ এবং ছেলের নাম নুহাশ আহমেদ। ২০০৫ সালে তিনি শাওনকে বিয়ে করেন। ২০১০ সালের সেপ্টেম্বর মাসে তার অন্ত্রে ক্যানসার ধরা পড়ে। এরপর চিকিৎসাধীন যুক্তরাষ্ট্রে ২০১২ সালের ১৯ জুলাই কোটি বাঙালিকে কাঁদিয়ে মৃত্যুবরণ করেন হুমায়ূন আহমেদ। ২৪ জুলাই তাকে নুহাশ পল্লীর লিচুতলায় দাফন করা হয়।

শেয়ার করুন