অবশেষে সিলেটের ছন্দপতন

মিজান আহমদ চৌধুরী, সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়াম থেকে : অবশেষে সিলেট ৬ উইকেটে হেরে গেলো দুর্বল খুলনার কাছে । তাও নিজের চেনা মাঠে।
খেলা শেষ হতে বাকী পাঁচ ওভার। খুলনার জয় তখন হাতের নাগালে। উইকেটে ব্রেথওয়েথ ও ক্লিনগার ব্যাট চালাচ্ছেন হাত খুলে। এরই মাঝে জনারন্য স্টেডিয়াম মুহুর্তেই ফাকাঁ। হ্যাট্রিক জয় দেখা সিলেটের দর্শকরা হতাশার মহা সমুদ্রে। এবার আর চারে চার হলোনা। ক্রিকেট উৎসবের শেষ দিনে দুর্বল খুলনার কাছে পরাজয় সিলেটের। ১২ বল বাকী থাকতেই কাংখিত জয় তুলে নিলো অতিথি খুলনা। এ যেন প্রত্যাশার দিগন্তে হতাশা সূর্যাস্ত।
কাল হোমগ্রাউন্ডের শেষ দিনে কেমন যেন এলোমেলো সিলেট। এটি কি হ্যাট্রিক জয়ের আতœতৃপ্তি ? না ক্লান্ত শ্রান্ত দল ! এ নিয়ে প্রেস বক্সে , গ্যালারীতে আলোচনার ঝড়। টস হেরে ব্যাট করতে নেমে পথ হারায় সিলেট। আগের ম্যাচ গুলোর চেয়ে এ যেন ভিন্ন এক সিলেট। দুই নির্ভর যোগ্য ওপেনার শুরু থেকেই মিস করেন বল। তবে এর মাঝে উপল থারাঙ্গা পরপর দুটি চার মেরে বড় কিছুর আভাস দেন। অপর প্রান্তে ফ্লোচার বিবর্ন। দলীয় ১৯ রানে ক্যারাবিয়ান এই ওপেনার ব্যক্তিগত মাত্র ৪ রানে শফিউল ইসলামের বলে মিড অনে মাহমুদ উল্লাহর হাতে ক্যাচ দিয়ে ফিরেন। আগের তিন ম্যাচের হিরো ফ্লেচারের আউটে হোচট খাওয়ার মতো। পরিপূর্ন দর্শক গ্যালারীতে তখন নেমে আসে রাজ্যের নিরবতা । এরপর স্বাগতিক দর্শকদের গত তিন ম্যাচের মতো আবারো হতাশ করেন আইকন প্লেয়ার সাব্বির। শূণ্য রানে তিনি ফিরলে ১৮ হাজার দর্শকের গ্যালারীতে নামে পিনপতন নিরবতা। প্রশ্ন আসতেই পারে তিন ম্যাচে ব্যর্থ সাব্বির কেন তিন নম্বরে? গুনাতিলাকা কিংবা হোয়াইটলি কেন নয়? ফ্লেচার ও সাব্বিরের চলে যাওয়ার পর দুই উইকেটে ২০ রানে পরিণত হয় সিলেট সিক্সার্স। তৃতীয় উইকেট জুটিতে গুনাথিলাকাকে সঙ্গে নিয়ে ২৮ বলে ৩১ রানের জুটি গড়েন থারাঙ্গা। কিন্তু শিশিরভেজা উইকেটে শেষ পর্যন্ত ঠিকতে পারেননি থারাঙ্গা। টানা তিন ম্যাচে ফিফটি করা থারাঙ্গাকে ফেরান মাহমুদ উল্লাহ । ২৬ রান করে তিনি আরিফুল হতের হাতে ক্যাচ দেন। প্রথম তিন ম্যাচে যেখানে সিলেটের প্রথম ১০ ওভারে ছিলো ১০ করে রান রেট ,সেখানে কাল ৬ এর নিচে। পঞ্চম উইকেট জুটিতে অধিনায়ক নাসির নিজের কাধেই তুলে নিলেন দায়িত্ব। দেখেশুনে ব্যাট চালিয়ে বড় একটা স্কোরের ইংগিত দেন নাসির।গুনাতিলাকাকে সঙ্গ করে এগুনোর চেষ্টা করলেও দলীয় ৬৭ রানে সাজঘরে ফেরেন এই লংকান পিঞ্চ হিটার। এরপর নাসিরের সঙ্গি হন আগের ম্যাচের খানিকটা ক্ষন ঝড় তুলা ইংলিশ প্লেয়ার হোয়াইটলির। তিনি এসে কাল ঝড় না তুললেও নাসিরের ট্রাস্টেড পার্টনার হিসেবেই আবিভর্’ত হন । ৪৪ বলে ৫৭ রানের গুরুত্বপূর্ণ জুটি গড়ে দলকে টেনে নেন ১৩৫ পর্যন্ত। হোয়াইটলি ২৭ রান করে আউট হলেও নাসির ৩৫ বলে ৪৭ রানের অধিনায়কোচিত ইনিংস খেলে অপরাজিত থাকেন । আর নাসিরের ব্যাটিংয়ে লড়াই করার পুজিঁ পায় সিলেট।
খুলনা টাইটানের হয়ে আর্চার ও মাহমুদ উল্লাহ দুটি এবং শফিউল একটি করে উইকেট লাভ করেন।
খুলনার সামনে ১৩৬ রানের মামুলি টার্গেট। তাড়া করতে উইকেটে নামেন নাজমুল হোসেন শান্ত আর ডেঞ্জারম্যান ওয়ালটন। বোলিংয়ে নেমেই আলো ছড়ান সিলেটের তাইজুল। পরপর দুই বলে তলে নেন শান্ত ও ওয়াল্টনকে। এরপর ক্লিনগার ও রসো উইকেটে এসে স্বভাবসুলভ ব্যাটিং চালান। তাদের একেকটি বাউন্ডারী ১৮ হাজারের গ্যালারীতে নেমে আসে নিরবতা। এরই মাঝে আবারো রসোকে তুলে নেন তাইজুল। ফলে আবারো প্রান পায় গ্যালারী। শেষ পর্যন্ত এ হাসি টিকেনি গ্যালারীর। ক্লিংগার ও ব্রাথওয়েথ খুলনার জয় নিশ্চিত করেই মাঠ ছাড়েন। আর সিলেটের দর্শকরা ভাসতে থাকেন হতাশার মহাসমুদ্রে। খুলনার ক্লিনগার ৩৬ বলে ৪৭, মাহমুদুল্লাহ ২৩ বলে ২৭ ও বাথওয়েথ ১৬ বলে ২৩ রান করেন। ব্যাটে বলে ভুমিকা রাখায় ম্যাচ সেরাও হন অধিনায়ক মাহমুদুল্লাহ।
এদিকে সিলেটের হতাশার মাঝে আরেকটি খবর আসে অফিসিয়লদের কাছ থেকে। রাজশাহী র সাথে স্লো ওভারের কারনে সিলেটকে জরিমানা করা হয়। ম্যচ রেফারী নাইমুর রহমান তা নিশ্চিতও করেন।

শেয়ার করুন