শামসুর রহমান স্মৃতি বৃত্তি পরীক্ষার ১৮ বছর

রাজিব চৌধুরী পিয়াস
Logo 1 Logo 1 যে শিশুটির জন্ম হয়েছিল ১৯৯৮ সালের ২৬ জানুয়ারি সে আজ পরিপূর্ণ মানব। তার বিচার-বুদ্ধি, শিক্ষা-দীক্ষা সাফল্যের চূড়ান্ত পর্যায়। তাকে লালন-পালন করতে কতো না বেগ পেতে হয়েছে পিতামাতাকে।
শামসুর রহমান স্মৃতি বৃত্তি নামক শিশুটির জন্ম হয়েছিল এই একই দিনে। ১৯৯৯ সালের ৫ নভেম্বর সিলেট সরকারি অগ্রগামী বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে সিলেট সদরের ৫ম শ্রেণীর শিক্ষার্থীদের মধ্যে পরীক্ষা অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে যে সাফল্যের যাত্রা শুরু হয়েছিল তা আর থামেনি।
বেশ কয়েক বছর আগে সিলেট সরকারি অগ্রগামী বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় যেমন কলেজে রূপান্তর হয়ে সিলেট সরকারি অগ্রগামী বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজ নাম ধারণ করেছে তেমনি আজ থেকে কয়েক বছর আগে ২০০৩ সালে প্রাথমিকের সাথে ৮ ম শ্রেণীর জুনিয়র বৃত্তি নেয়ার মাধ্যমে বৃত্তি পরিচালনা ব্যবস্থা শামসুর রহমান ফাউন্ডেশনের অন্তভূক্ত হয়ে তার পরিধি বাড়িয়েছে। শামসুর রহমান স্মৃতি প্রাথমিক ও জুনিয়র বৃত্তি পরীক্ষা-আজ সিলেট বিভাগের শিক্ষার্থীদের মধ্যে অনুষ্ঠিত হয়। গত ২০ অক্টোবর ২০১৭ সিলেট শহরের জিন্দাবাজারস্থ সিলেট সরকারি অগ্রগামী বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজ-এ অনুষ্ঠিত এ বৃত্তি পরীক্ষায় ২৪৭৫ জন পরীক্ষার্থী অংশগ্রহণ করে। সিলেটের সিটি কর্পোরেশনের বর্তমান মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী, সাবেক মেয়র বদর উদ্দিন আহমদ কামরান ও সিলেটের জেলা প্রশাসক রাহাত আনোয়ার কেন্দ্র পরিদর্শন করে এত শিক্ষার্থীর অংশগ্রহণ দেখে অবাক হন এবং শিক্ষার প্রতি মানুষের অগ্রসর ভূমিকা দেখে আল্লাহর প্রতি শুকরিয়া জানান।
শামসুর রহমান ফাউন্ডেশনের সার্বিক কর্মকান্ডের বিবরণ দিতে গেলে পৃষ্ঠার পর পৃষ্ঠা লিখতে হবে। আর সংক্ষিপ্ত বিবরণে তুলে ধরতে গেলে বলতে হবে এ প্রতিষ্ঠান একটি শিক্ষা উন্নয়নমূলক সংগঠন। সম্পূর্ণ পারিবারিক অর্থায়নের এবং পরিবারের সকলের সহযোহিতায় শামসুর রহমান ফাউন্ডেশন শিক্ষার বাইরে মানুষের উপকারে বিভিন্ন প্রকল্প বাস্তবায়ন করে থাকে। শামসুর রহমানের বড় ছেলে সূফী সুহেল আহমদ এ প্রতিষ্ঠানের চেয়ারম্যান। মেজ ছেলে ছায়েদ আহমদ জুয়েল ও ডা. সুমা বেগম ভাইস চেয়ারম্যান, সদস্য সচিব হিসেবে রয়েছেন লেখক জিবলু রহমান। পরিবারের পুত্রবধূ ডা. সফিনা বেগম (মুনমুন) পরীক্ষা নিয়ন্ত্রকের দায়িত্ব পালন করছেন।
শামসুর রহমান ফাউন্ডেশনের দেয়া সেলাই মেশিনের মাধ্যমে সমাজের অনেকে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। প্রতি বছর এ কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে। মৃত ব্যক্তিদের কাফন-দাফনের সহযোগিতা এ প্রতিষ্ঠানের অন্যতন একটি দিক। বিভিন্ন্ শিক্ষার্থীদের বই প্রদান, ফি প্রদান এগুলোতে জন্ম থেকেই করা হচ্ছে। বিভিন্ন মাদ্রাসায় ইট, টিন, সিমেন্ট, রড প্রাদান করা হয়েছে। বিভন্ন বিদ্যালয়ে স্টীলের আলমীরা প্রদান এখনো অব্যাহত রয়েছে। এসবগুলো দেয়া কেবল গোয়াইনঘাটের বিভিন্ন ইউনিয়নে কার্যকর রয়েছে। কম্বল বিতরণও একটি অন্যন্য পদক্ষেপ।
শামসুর রহমান ফাউন্ডেশনের উদ্যোগের শামসুর রহমানের বড় ভাই ‘মুহিবুর রহমানের’ নামে গোয়াইনঘাট উপজেলার পরগণা বাজার উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজে ১৬ লক্ষ টাকা ব্যয় করে একটি ভবন নির্ণাণ করে দেয়া হয়েছে।
শামসুর রহমান স্মৃতি প্রাথমিক ও জুনিয়র বৃত্তি বিগত ১৮ বছরে প্রায় ৫০০০ হাজার শিক্ষার্থী পেয়েছে। শামসুর রহমান ফাউন্ডেশন ৫ম শ্রেণীতে প্রথম গ্রেডে ১০ জন, দ্বিতীয় গ্রেডে ১০ জন, তৃতীয় গ্রেডে ১০ জন এবং যেসকল বিদ্যালয় থেকে ৫ জন শিক্ষার্থী অংশগ্রহণ করে তাদের ১টি এবং যেসকল বিদ্যালয় থেকে ১০ জন শিক্ষার্থী বা তার বেশি অংশ গ্রহণ করে তাদের ২টি কোটা বৃত্তি দেয়া হয়। আগে শিক্ষার্থীদের মধ্যে নগদ অর্থ ও ক্রেস্ট দেয়া হতো। বিগত ৪ বছর থেকে বই পড়ায় উৎসাহিত করার জন্য ‘বই উপহার ও সনদ পত্র’ দেয়া হচ্ছে। নিজস্ব প্রকাশনা প্রতিষ্ঠান ‘শ্রীহট্ট প্রকাশ’-এর শিশুতোষ বই দেয়া হয় শিক্ষার্থীদের।
বই দেয়া প্রসঙ্গে শামসুর রহমান ফাউন্ডেশনের সদস্য সচিব লেখক জিবলু রহমান বলেছেন, জাতির উন্নয়নের মূল চাবিকাঠি হলো পড়ালেখা। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের বাইরে বিভিন্ন প্রতিথযশা লেখকদের বই পড়লে অতিরিক্ত জ্ঞার্নাজন করা সম্ভব। আগে আমরা লক্ষ্য করতাম, বিয়ে বা জন্মদিনে বা বড় বড় অনুষ্ঠানে বই উপহার দেয়া হতো। এ সংস্কৃতি প্রায় উঠে গেছে। জাতিকে সে ধারায় ফিরিয়ে আনতে আমাদের এ প্রয়াস। সকল বিদ্যালয়গুলো যদি বার্ষিক ক্রীড়া অনুষ্ঠানে পুরস্কার হিসেবে বই বিতরণ করতো তাহলে নতুন নতুন লেখকও সৃষ্টি হতো আবার বিভিন্ন তথ্যের সাথে পরিচিত হতো পারতো শিক্ষার্থীরা।

শেয়ার করুন