রোহিঙ্গাদের ফেরত নিতে মিয়ানমার রাজি: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

সিলেটের সকাল ডেস্ক :: গেল আগস্টের শেষ দিক থেকে গত প্রায় দুই মাসে সেনা অভিযানের মুখে রাখাইন থেকে সাগর ও সীমান্ত পাড়ি দিয়ে বাংলাদেশ পালিয়ে আসা রোহিঙ্গাদের নিজ দেশে ফিরিয়ে নিতে মিয়ানমার সরকার রাজি হয়েছে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল।

মঙ্গলবার নেপিডোতে মিয়ানমারের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী লে. কর্নেল চ সুয়ি এবং পুলিশ প্রধানের সাথে বৈঠকের পর বাংলাদেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান গণমাধ্যমকে এ কথা জানান। খবর বিসিবি।

বাংলাদেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনের লক্ষ্যে দুই দেশের সমান সংখ্যক প্রতিনিধি নিয়ে খুব শীঘ্রই একটি যৌথ ওয়ার্কিং কমিটি গঠন করা হবে। নভেম্বরের ৩০ তারিখের মধ্যে এই যৌথ কমিটি গঠনের প্রস্তাব করা হয়েছে।’

তিনি আরও জানান, তিনি মিয়ানমার কর্তৃপক্ষকে বলেছেন কফি আনান কমিশনের সুপারিশের ভিত্তিতে যৌথ এই কমিটি ঠিক করবে রোহিঙ্গাদের কিভাবে ফিরিয়ে নেওয়া হবে।

আসাদুজ্জামান কামাল বলেন, ‘তারা রোহিঙ্গাদের ফেরত নেওয়ার কথা বলেছে, তারা জানিয়েছে তাদের সরকার প্রধান কফি আনান কমিশন বাস্তবায়নের জন্য কয়েকটি কমিটি তৈরি করেছে। কিন্তু আমরা বলেছি বাংলাদেশের সমান সংখ্যক প্রতিনিধি নিয়ে যৌথ ওয়ার্কিং কমিটির তত্বাবধানেই কফি আনান কমিশনের বাস্তবায়ন হতে হবে।’

জাতিসংঘের সাবেক মহাসচিবের ওই কমিশন রোহিঙ্গাদের নাগরিক অধিকার দেওয়ার সুপারিশ করেছে, যা নিয়ে মিয়ানমার সরকারের ঘোরতর আপত্তি রয়েছে।

বাংলাদেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আরও জানান, তিনি রাখাইনে নির্যাতন বন্ধের দাবি করেছেন যাতে রোহিঙ্গাদের অনুপ্রবেশ বন্ধ হয়।

তিনি বলেন, ‘এই দাবির প্রেক্ষিতে মিয়ানমার সরকার বলছে, রাখাইনে কোনও নির্যাতন হচ্ছে না, তারা (রোহিঙ্গারা) নিজেরাই নাকি চলে যাচ্ছে। আমি বলেছি চলে যাওয়া ঠেকান আপনারা।’

তবে তিনি নিজে রাখাইনে যেতে চাইলেও মিয়ানমারের পক্ষ থেকে এ ব্যাপারে ইতিবাচক সারা পান নি বলে এক প্রশ্নের উত্তরে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান।

সীমান্তে স্থলমাইন পুঁতে রাখার ব্যাপারে মিয়ানমার অন্যদের ওপর দোষ চাপাতে চাচ্ছে জানিয়ে কামাল বলেন, ‘সীমান্তে মাইন পাতার প্রসঙ্গ তোলার পর, মিয়ানমার কর্তৃপক্ষ “অন্যদের” দোষারোপ করেছে। তবে মিয়ানমার বলেছে তারা মাইন অপসারণের উদ্যোগ নেবে।’

আগামীকাল বুধবার মিয়ানমারের নেত্রী অং সান সু চি’র সঙ্গে বাংলাদেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বৈঠকের কথা রয়েছে। বৈঠকে রোহিঙ্গা ইস্যুতে বাংলাদেশের দাবি, প্রস্তাব ও বক্তব্য তুলে ধরা হবে।

তবে মিয়ানমার সরকার ‘আরসা জঙ্গিদের’ ব্যাপারে বাংলাদেশের কাছ থেকে গোয়েন্দা তথ্য চেয়েছে বলেও গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল।

উল্লেখ্য, ঢাকা: চলতি বছরের ২৫ আগস্টের পর থেকে গত দুই মাসে পৌনে ছয় লাখের মতো রোহিঙ্গা নতুন করে বাংলাদেশে প্রবেশ করেছে। আগে থেকে প্রায় পাঁচ লাখ রোহিঙ্গার বাস ছিল বাংলাদেশে। সব মিলে বর্তমানে ১০ লাখেরও বেশি রোহিঙ্গা আশ্রয় নিয়েছে বাংলাদেশে। এখনও প্রায় প্রতিদিনই সাগর পাড়ি দিয়ে বাংলাদেশে আসছে রোহিঙ্গারা।

শেয়ার করুন