যুবদের জন্য স্বতন্ত্র মন্ত্রণালয় চালুর দাবি সিলেট কল্যাণ সংস্থার

সিলেটের সকাল ডেস্ক :: ক্রীড়া মন্ত্রণালয় থেকে পৃথক করে যুবদের জন্য স্বতন্ত্র মন্ত্রণালয় চালুর দাবি জানিয়েছে সিলেট কল্যাণ সংস্থা। সোমবার সংবাদ সম্মেলনে এই দাবি জানানো হয়। বিশ্ব যুব দিবস ২০১৭ উদযাপন উপলক্ষে এ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। এতে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি মোহাম্মদ এহছানুল হক তাহের।

লিখিত বক্তব্যে তিনি বলেন, ‘যুবদের জাগরণ, বাংলাদেশের উন্নয়ন’ এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে ১ নভেম্বর দেশে উদ্যাপিত হবে জাতীয় যুব দিবস ২০১৭। এ দিবসকে সামনে রেখে সিলেটের অন্যতম সংগঠন সিলেট কল্যাণ সংস্থা গ্রহণ করেছে টানা ১৪ দিনের কর্মসূচি। ইতোমধ্যে স্বাগত শোভাযাত্রা, সিলেট জেলার পেশাজীবী, যুব সংগঠন, যুব আত্মকর্মী ও বাংলাদেশ জাতীয় ইমাম সমিতি, সিলেট জেলা ও মহানগর নেতৃবৃন্দের সাথে পৃথক পৃথক মতবিনিময় সভা, সিলেট বিভাগের যুবদের নিয়ে যুব সমাবেশ, যুব মহিলাদের নিয়ে উঠান বৈঠক করা হয়েছে।

এছাড়া যুব দিবসে দিনব্যাপী কর্মসূচি পালন করা হবে। এসব কর্মসূচির প্রধান লক্ষ্য ও উদ্দেশ্যে হচ্ছে যুব সমাজের মধ্যে জাগরণ সৃষ্টি করা। পাশাপাশি যুবদের মধ্য থেকে আত্মকর্মী ও যুব সংগঠক সৃষ্টি করা। দেশের বেকারদের মধ্যে সিংহভাগই যুবগোষ্ঠী। এদের সঠিক ব্যবস্থাপনা ও প্রশিক্ষণের মাধ্যমে কাজে লাগাতে পারলে দেশ ও জনগণ উপকৃত হবে।

তিনি বলেন, দেশের আর্থ সামাজিক উন্নয়নের মূল চালিকাশক্তি যুবসমাজ। যুবসমাজের মেধা, সৃজনশীলতা ও প্রতিভা একটি জাতির অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক উন্নয়নের গতিপথকে পরিশীলিত করে। এসব কর্মকান্ডে যুবসমাজের সক্রিয় অংশগ্রহণের জন্য উপযুক্ত প্লাটফরম তৈরি করা প্রয়োজন। জাতীয় যুবনীতি অনুসারে বাংলাদেশে ১৮ থেকে ৩৫ বছর বয়সী জনগোষ্ঠীকে যুব হিসেবে সংজ্ঞায়িত করা হয়। এ বয়সসীমার জনসংখ্যা দেশের মোট জনসংখ্যার প্রায় এক-তৃতীয়াংশ; যা অনুমানিক ৫ কোটি। যুবকদের কল্যাণে সরকারের যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের অধীনে যুব উন্নয়ন অধিদপ্তর বিভিন্ন বিষয়ে প্রশিক্ষণ প্রদান করছে। সিলেটেও রয়েছে যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের কার্যক্রম। এখান থেকে বেকার যুবসমাজ উন্নতমানের ও আধুনিক প্রশিক্ষণ গ্রহণের সুযোগ পাচ্ছেন। কিন্তু সিলেটের বেকার যুবরা এসব প্রশিক্ষণ সম্পর্কে অবগত নয়। তাই তারা এ বিশাল সুযোগ থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। অথচ এই কেন্দ্র থেকে প্রশিক্ষণ গ্রহণ শেষে যে সনদপত্র পাওয়া যাচ্ছে তা সরকারের যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয় স্বীকৃত। এ সনদ প্রাপ্তির পর প্রশিক্ষিত যুবরা দেশ-বিদেশের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে ভালো বেতনে কাজের সুযোগ পাচ্ছেন এবং পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। পাশাপাশি যুব উন্নয়ন অধিদপ্তর হতে প্রাপ্ত সনদ ব্যাংক থেকে ঋণপ্রাপ্তিতেও কাজে লাগছে।

তিনি জানান, ১ নভেম্বর বুধবার জাতীয় যুব দিবসে সকাল ৮টায় ক্বীনব্রীজ (উত্তর) সংলগ্ন আলী আমজদের ঘড়ির পার্শ্বে যুব গণজমায়েত, সকাল ১০টায় দিনব্যাপী কর্মসূচীর উদ্বোধন, সাড়ে ১০টায় ক্বীনব্রীজের উত্তর পার্শ্ব থেকে শুরু হয়ে কেন্দ্রীয় মুসলিম সাহিত্য সংসদ পর্যন্ত বর্ণাঢ্য যুব শোভাযাত্রা, সাড়ে ১১টায় মুসলিম সাহিত্য সংসদ’র শহীদ সোলেমান হলে আলোচনা সভা এবং যুব সংগঠক ও আত্মকর্মী সৃষ্টিতে বিভিন্ন ক্ষেত্রে কৃতিত্বের অধিকারী সিলেট বিভাগের যুবদের মধ্যে সম্মাননা স্মারক প্রদান করা হবে। তিনি দিবসটিকে সামনে রেখে সরকারের কাছে দাবি জানান- ক্রীড়া মন্ত্রণালয় থেকে যুবদের জন্য স্বতন্ত্র যুব মন্ত্রণালয় চালু করার।

এসময় উপস্থিত ছিলেন সংস্থার প্রতিষ্ঠাতা সদস্য মোঃ মিজানুর রহমান মিজান, মোঃ হাসান তালুকদার সোহেল, সংস্থা পরিচালনা কমিটির আহ্বায়ক এ.কে কামাল হোসেন, সদস্য গাজী আলমগীর হোসাইন, হুমায়ূন রশিদ চৌধুরী, আরাফাত হোসেন সোহাগ, মোঃ মুখলিছুর রহমান, মোঃ বদরুল ইসলাম, মোঃ আব্দুল মুকিত, মোঃ আব্দুশ শহীদ, মোঃ সুমন ইসলাম, মোঃ নাজমুল হুসাইন, মোহাম্মদ সাজ্জাদ খান, তারেক আহমদ, পলাশ আহমদ, শাকিল আহমদ, খালিক নুর, সৈয়দ রাজন আহমদ প্রমুখ।

শেয়ার করুন