বিচার বিভাগের স্বাধীনতা নিয়ে আমি শঙ্কিত: প্রধান বিচারপতি

সিলেটের সকাল  ডেস্ক ।। বিচার বিভাগের স্বাধীনতা নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করেছেন প্রধান বিচারপতি এস কে সিনহা। শুক্রবার (১৩ অক্টোবর) রাতে অস্ট্রেলিয়ার উদ্দেশ্যে রাজধানীর হেয়ার রোডের সরকারি বাস ভবন ত্যাগের আগে উপস্থিত সাংবাদিকদের কাছে তিনি এ শঙ্কা প্রকাশ করেন। রাত ৯ টা ৫৭ মিনিটে বাস ভবনের সামনে আসেন প্রধান বিচারপতি। এ সময় তাকে কিছু বলার অনুরোধ জানালে প্রধান বিচারপতি বলেন, ‘আমি পালিয়ে যাচ্ছি না। বিচার বিভাগের স্বার্থে আমি আবার ফিরে আসবো।’

সাংবাদিকদের কাছে নিজেকে সম্পূর্ণ সুস্থ বলেও দাবি করেন প্রধান বিচারপতি। তিনি বলেন,‘আমি সম্পূর্ণ সুস্থ আছি। কিন্তু ইদানিং একটি রায় নিয়ে রাজনৈতিক মহল, আইনজীবী ও বিশেষ করে সরকারের মাননীয় কয়েকজন মন্ত্রী ও মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ব্যক্তিগতভাবে যেভাবে সমালোচনা করেছেন এতে আমি সত্যিই বিব্রত। আমার দৃঢ় বিশ্বাস সরকারের একটি মহল আমার রায়কে ভুল ব্যাখ্যা প্রদান করে পরিবেশন করায় মাননীয় প্রধানমন্ত্রী আমার প্রতি অভিমান করেছেন। যা অচিরেই দূরীভূত হবে বলে আমার বিশ্বাস।’

বিচার বিভাগের স্বাধীনতা নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করে প্রধান বিচারপতি বলেন,‘সেই সাথে বিচার বিভাগের স্বাধীনতা নিয়ে আমি একটু শঙ্কিতও বটে। কারণ গতকাল প্রধান বিচারপতির কার্যভার পালনরত দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রবীণতম বিচারপতির উদ্বৃতি দিয়ে মাননীয় আইনমন্ত্রী প্রকাশ করেছেন যে, দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি অচিরেই সুপ্রিম কোর্টে প্রশাসনিক পরিবর্তন আনবেন। প্রধান বিচারপতির প্রশাসনে দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি কিংবা সরকারের হস্তক্ষেপ করার কোনো রেওয়াজ নেই। তিনি শুধু রুটিনমাফিক দৈনন্দিন কাজ করবেন। এটিই হয়ে আসছে। প্রধান বিচারপতির প্রশাসনে হস্তক্ষেপ করলে এটি সহজেই অনুমেয় যে, সরকার উচ্চ আদালতে হস্তক্ষেপ করছে এবং এর দ্বারা বিচারবিভাগ ও সরকারের মধ্যে সম্পর্কের আরও অবনতি হবে। এটি রাষ্ট্রের জন্য কল্যাণ বয়ে আনবে না।’

সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার পর রাত ১০ টা ২ মিনিটে বিমানবন্দরের উদ্দেশ্যে রওয়ানা দেন প্রধান বিচারপতি।ছুটিতে থাকা প্রধান বিচারপতি রাত ১১টা ৫৫ মিনিটে সিঙ্গাপুর এয়ারলাইন্সের এসকিউ ৪৪৭ ফ্লাইটের টিকিট কেটেছেন।

ইতোমধ্যে ১৩ অক্টোবর থেকে ১০ নভেম্বর পর্যন্ত বিদেশে অবস্থানের বিষয়টি রাষ্ট্রপতিকে চিঠি দিয়ে অবহিত করেছেন প্রধান বিচারপতি।

অসুস্থতার কারণ দেখিয়ে গত ২ অক্টোবর এক মাসের ছুটিতে যান এস কে সিনহা। এর পর রাতে এ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়। প্রজ্ঞাপনে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের বিচারপতি আবদুল ওয়াহ্হাব মিঞাকে ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি হিসেবে নিয়োগ দেয়ার কথা জানায় আইন মন্ত্রণালয়।

প্রধান বিচারপতি এস কে সিনহার বয়স বিচারে অবসরে যাওয়ার দিন ধার্য রয়েছে আগামী বছরের ৩১ জানুয়ারি। তিনি দায়িত্ব গ্রহণ করেছিলেন ২০১৫ সালের ১৭ জানুয়ারি। মেয়াদ শেষ হওয়ার ৩ মাস আগেই দীর্ঘ ছুটিতে গেলেন তিনি। এর আগে গত ৮ থেকে ২৩ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত কানাডা ও জাপান সফরে যাওয়ার জন্য ১৬ দিনের ছুটি নেন প্রধান বিচারপতি।

শেয়ার করুন