তামাবিল স্থলবন্দরের কারণে বাংলাদেশ-ভারত উভয় দেশ উপকৃত হবে : অর্থমন্ত্রী

গোয়াইনঘাট প্রতিনিধি :: সিলেট অঞ্চলের সর্বপ্রথম স্থলবন্দরের উদ্বোধন অনুষ্ঠানে অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত বলেছেন, ‘তামাবিল স্থলবন্দর চালু হওয়ায় বাংলাদেশ-ভারত উভয় দেশ উপকৃত হবে। এতে কর্মসংস্থান বাড়ার পাশাপাশি কমবে দারিদ্রতাও।’

শুক্রবার দুপুরে জেলার সীমান্তবর্তী গোয়াইনঘাটের তামাবিলে ৬৯ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত পূর্ণাঙ্গ স্থল বন্দরের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি আরো বলেন, ‘শেখ হাসিনা ক্ষমতায় থাকাকালে আর্থিক উন্নতি হয়। ইতোমধ্যে আমরা মধ্যম আয়ের দেশে পৌঁছে গেছি, যদিও সার্টিফিকেট পাইনি। গত নয় বছরে দেখেছি, আমাদের দেশের মানুষ বাধা না পেলে নিজের জোরেই এগিয়ে যায়। সবাই করিৎকর্মা। এখন আয় বেড়েছে মানুষের প্রচেষ্টায়।’

তিনি বলেন, ‘শেখ হাসিনার কিছু পাওয়ার দরকার নেই। তিনি এখন বিশ্বের শ্রেষ্ঠ নেত্রী। এই রকম সরকার আমাদের দেশে হয়েছে বলে আমি জানি না। শেখ হাসিনার মতো জনসেবক নেই। তার জনসেবার ফলে আমরা উৎসাহিত হয়ে কাজ করি। আপনারা অবদান রাখছেন। ২০৪১ সালে সত্যিই আমরা সমৃদ্ধ দেশে পরিণত হতে পারবো।’

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে নৌ পরিবহণমন্ত্রী শাজাহান খান বলেন, ‘শেখ হাসিনা ৯ বছরে ১১টা স্থলবন্দর চালু করেছেন। আরো দু’টি চালু করা হবে। এছাড়া আরও ১০টি কন্টেইনার বন্দর স্থাপনের কাজ চলছে। ২০১৬-১৭ অর্থবছরে আমাদের আয় হয়েছে ১শ’ ৪৭ কোটি ৯৭ লাখ টাকা। এ বন্দর হওয়াতে কর্মসংস্থান বৃদ্ধি পাবে। আমরা কারো কাছে হাত পাততে চাই না।’

বাংলাদেশ স্থলবন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান তপন কুমার চক্রবর্তীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন- সিলেট-৪ আসনের সংসদ সদস্য ইমরান আহমদ, অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগের সিনিয়র সচিব ও জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের চেয়ারম্যান মো. নজিবুর রহমান, নৌ পরিবহণ সচিব আব্দুস সামাদ। অনুষ্ঠানে স্থানীয় আওয়ামী লীগ ও কয়লা-পাথর আমদানি রফতানিকারক সমিতির নেতৃবৃন্দ বক্তব্য রাখেন।

এই স্থলবন্দরটি হওয়ায় দুদেশের বাণিজ্য আরো সম্প্রসারিত হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। একই সঙ্গে সরকারের রাজস্ব আয় আগের চেয়ে বাড়বে বলেও মনে করছেন তারা। ২০১৫ সালের ৮ মে তামাবিল স্থলবন্দরের নির্মাণকাজ শুরু হয়। চলিত বছরের আগস্টে উদ্বোধন হওয়ার কথা থাকলেও বিভিন্ন কারণে পিছিয়ে যায় এর উদ্বোধন। এ প্রকল্পে প্রায় ৬৯ কোটি টাকা ব্যয় হয়েছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

বাংলাদেশ স্থলবন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান (অতিরিক্ত সচিব) তপন কুমার চক্রবর্তী বলেন, তামাবিল স্থলবন্দর উদ্বোধন হলে ভারতের মেঘালয়সহ ত্রিপুরা, নাগাল্যান্ড, আসাম ও ভূটানের সঙ্গে বাংলাদেশের ব্যবসা-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে। এ ব্যাপারে স্থানীয় সংসদ সদস্য ইমরান আহমদ বলেন, সরকারের আন্তরিক চেষ্টায় তামাবিলকে একটি আধুনিক স্থলবন্দর হিসাবে গড়ে তোলা হয়েছে।

শুধু তামাবিল স্থলবন্দরই নয়, তামাবিলের পাশে একটি অর্থনৈতিক অঞ্চল গড়ে তুলতে মহাপরিকল্পনাও এগিয়ে চলছে।

শেয়ার করুন