গণমানুষের কবি দিলওয়ার-এর ৫ম মৃত্যুবার্ষিকী আজ

সিলেটের সকাল রিপোর্ট: গণমানুষের কবি দিলওয়ারের ৫ম মৃত্যুবার্ষিকী আজ। ২০১৩ সালের ১০ অক্টোবর শেষ নি:শ্বাস ত্যাগ করেন বাংলা সাহিত্যের এই শক্তিমান কবি। অভিভক্ত ভারতবর্ষে কবি দিলওয়ার এর জন্ম।

ব্রিটিশ-ভারতের অন্তর্গত শ্রীহট্ট জেলার (বর্তমান সিলেট) দক্ষিণ সুরমার ভার্থখলা গ্রামে ১৯৩৭ সালের ১ জানুয়ারি দিলওয়ার-এর জন্ম হয়। (পুরো নাম দিলওয়ার খান) ডাক নাম দিলু। পিতা মরহুম মৌলভী মোহাম্মদ হাসান খান এবং মাতা মরহুমা মোসাম্মৎ রহিমুন্নেসা।

ঝালোপাড়া পাঠশালা থেকে প্রাথমিক শিক্ষা শেষ করে রাজা জি.সি. হাইস্কুল থেকে মেট্রিকুলেশন পাশ করেন ১৯৫২ সালে। ১৯৫৪ সালে এম.সি কলেজ থেকে আই.এ পাশ করেন। তারপর শারীরিক অসুস্থতার জন্য একাডেমিক পড়াশুনার ইতি টানেন।

দক্ষিণ সুরমা হাইস্কুলের শিক্ষক হিসেবে কর্মজীবন শুরু। শিক্ষকতার স্থায়িত্বকাল মাত্র দুই মাস। তারপর সাংবাদিক জীবন। ১৯৬৭ থেকে ১৯৬৯ দৈনিক সংবাদের সহকারী সম্পাদক, ১৯৬৯-১৯৭১ সম্পাদক সমস্বর। ১৯৭৩-১৯৭৪ দৈনিক গণকন্ঠের সহকারী সম্পাদক। ১৯৭৪-এ সিনিয়র ট্রান্সলেটর মাসিক উদয়ন, বাংলা সাংস্কৃতিক কেন্দ্র, ঢাকা। ফেব্রুয়ারি ১৯৭৫ সম্পাদক উল্লাস, জুন ১৯৭৫ সম্পাদক-মৌমাছি। ১৯৭৬ সম্পাদক গ্রাম সুরমার ছড়া। জানুয়ারি ১৯৮১ সম্পাদক মরুদ্যান ১৯৮৫ সম্পাদক-সময়ের ডাক। ১৯৮৬ প্রধান সম্পাদক-সিলেট পরিদর্শক।

‘তুমি রহমতের নদীয়া’ তাঁর রচিত গান দিয়ে সিলেট বেতার কেন্দ্র উদ্বোধন করা হয়। সিলেট কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার-এর প্রতিষ্ঠাতা আহবায়ক, সিলেট খেলাঘর এর প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি; সিলেট উদীচী শিল্পী গোষ্ঠীর প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি; ভার্থখলা স্বর্ণালী সংঘ’-এর জন্মদাতা এবং স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের গীতিকার ছিলেন কবি দিলওয়ার।

তরুণ বয়সে ১৯৫৩ সালে বের হয় কবির প্রথম কাব্যগ্রন্থ ‘জিজ্ঞাসা’। কবিতা ‘সাইফুল্লাহ হে নজরুল’ তাঁর প্রথম প্রকাশিত রচনা যা প্রকাশ হয় দৈনিক যুগভেরীতে ১৯৪৮/৪৯ সালে। তাঁর ১২টি কাব্যগ্রন্থ, ২টি গানের বই; ২টি প্রবন্ধ গ্রন্থ, ২টি ছড়ার বই, দিলওয়ার রচনা সমগ্র ১ম খ-, দিলওয়ার রচনা সমগ্র ২য় খন্ড, ভারত-বাংলাদেশ মৈত্রীর ডাকে (সংবর্ধনা স্মৃতিচারণ-২০০১) বিভিন্ন সময় প্রকাশ হয়। মৃত্যুর পূর্ব পর্যন্ত ষাটোর্ধকাল কবি দিলওয়ার অসংখ্য লেখা লিখেছেন। বিভিন্ন জনের কাছে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে আছে এবং যা অপ্রকাশিত।

ঊনসত্তরের গণআন্দোলনের সংগে একাত্ম হয়ে সিলেটের কবি-সাহিত্যিক-সাংবাদিক-শিল্পীদের নিয়ে গঠন করেন ‘সমস্বর লেখক ও শিল্পী সংস্থা’। সংস্থাটি ছিল স্বাধীনতার প্রতীক।

একুশে পদক, বাংলা একাডেমী পুরস্কারসহ বিভিন্ন সম্মাননায় ভূষিত হন কবি দিলওয়ার।

মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ে পাঠ্য পুস্তকে কবির রচনা ‘রক্তে আমার অনাদি অস্থি’ কবিতাটি অন্তর্ভুক্ত হয়।

আজ কবি’র ৫ম প্রয়াণদিবসে কবি দিলওয়ার পরিষদ সকাল ৯টায় কবির সমাধিসৌধে পুষ্পস্তবক অর্পণের মাধ্যমে কবির প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন জানাবে। এছাড়া দোয়া ও প্রার্থনা সভার উদ্যোগ নিয়েছেন কবি দিলওয়ার পরিষদ।

শেয়ার করুন