আকাশ সংস্কৃতির আগ্রাসনে ক্ষতিগ্রস্ত বাংলাদেশের চলচ্চিত্র

জিবলু রহমান :: আকাশ সংস্কৃতির আগ্রাসন আমাদের চলচ্চিত্রকে ক্ষতিগ্রস্ত করছে। বিশেষ করে ভারতীয় সিনেমা দেখে আমাদের ছেলেমেয়েরা হিন্দি শিখে ফেলেছে। চ্যানেলগুলো আমাদের ধ্বংস করে ফেলেছে।

চাল, ডাল, চিনি, লোহা-লক্কড়, তামার সাথে সাথে ভারতীয় চলচ্চিত্র আমদানির পাঁয়তারা আজকের নয়, এই পাঁয়তারা স্বাধীনতার পর থেকে চলছে এবং এর রকম পাঁয়তারা হয়েছিল ১৯৭২ সালে। তখন সুধীজনরা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের দ্বারস্থ হলে তাদের কথা মনোযোগ দিয়ে শুনে বলেছিলেন, ‘হ্যাঁ, আমাদের সংস্কৃতি, আমাদের কৃষ্টিকে লালন করতে হবে। কারণ, আমার দেশ বাংলাদেশ। আমার মাতৃভাষা বাংলা, আমি বাংলাকে ভালোবাসি, বাংলাকে প্রটেকশন দিতে হবে।’

এটাকে ফলোআপ করেছিলেন জিয়াউর রহমান। তিনিও কিন্তু বিষয়টি ছাড় দেননি। এটাকে ফলোআপ করেছেন হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ। তিনি কিন্তু হাত দেননি। এটা ফলোআপ করেছেন খালেদা জিয়া, তিনিও কিন্তু হাত দেননি। এমনকি বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তিনিও কঠোর মনোভাব ব্যক্ত করেছেন। কিন্তু তথ্যমন্ত্রীর ভূমিকা উল্টো।

বাংলাদেশের জাজ মাল্টিমিডিয়া ইতোমধ্যে দেশের ৫০টি সিনেমা হলকে ডিজিটাল করেছে বলে দাবি করেছে। ঘোষণাও দিয়েছে ২০০ সিনেমা হলকে ডিজিটাল করার। কিন্তু এরই মধ্যে কলকাতার সবচেয়ে প্রভাবশালী ব্যানার ভেঙ্কটেশ ফিল্মসের নাম জাজের সাথে জড়িয়েছে। ভেঙ্কটেশের সাথে মিলে জাজ মিডিয়া বাংলাদেশকে ভারতীয় ছবির বাজার বানাতে চায় কিনা এমন প্রশ্নও উঠেছে।

১৮ মার্চ ২০১৩ দেশের একটি জাতীয় দৈনিকে প্রকাশিত বিজ্ঞাপন ও চলচ্চিত্র নির্মাতা মোস্তফা সরোয়ার ফারুকীর ‘মাননীয় তথ্যমন্ত্রী, যদি সত্যিই দিন বদল চান’ শিরোনামে একটি লেখায় প্রকাশ, ‘বাংলাদেশের তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক হনুর মধ্যস্থতায় এ দেশের একজন ব্যবসায়ী ও ভারতের শ্রী ভেঙ্কটেশ ফিল্মসের মধ্যে বাংলাদেশে ২০০ ডিজিটাল প্রজেকশনওয়ালা সিনেমাল হল নির্মাণের চুক্তি হয়েছে।’

ওই লেখাতে ফারুকী অভিযোগ করে বলেন, ‘আমাদের পরিষ্কারভাবে জানতে হবে, এ ২০০ সিনেমা হল নির্মাণের সরকারের ভূমিকা কী? সরকার কি তাদের জায়গা লিজ দেবে? কোনো রকম অর্থনৈতিক সুবিধা দেবে? ছবি প্রদর্শনের ব্যাপারে কোনো শর্ত থাকবে? থাকলে কী কী শর্ত? এগুলো খোলাসা হওয়া দরকার। একটা কথা পরিস্কার করে বলতে চাই, এসব হল নির্মাণে সরকার কোনো সুবিধা দিক বা না দিক, সরকারকে একটা বিষয় নিশ্চিত করতে হবে, যেন ইন্ডাষ্ট্রিতে কোনো ধরনের মনোপলির জন্ম না হয়।’ তিনি বলেন, ‘২০০ সিনেমা হলে কোন এক ভারতীয় ব্যবসায়ীর নিয়ন্ত্রণে থাকলে এর সাংস্কৃতিক পরিণাম খুবই ভয়াবহ হতে পারে।’

ফারুকী তার লেখায় আরো বলেন-‘পশ্চিমবঙ্গের বহু সিনেমা হল যে দু’তিন জন ব্যবসায়ীর নিয়ন্ত্রণে, শ্রী ভেঙ্কটেশ ফিল্মস তাঁর অন্যতম। ইন্ডাষ্ট্রিতে তাদের অনেক ভালো অবদান আছে। আবার ইন্ডাষ্ট্রির ওপর এই একচ্ছত্র নিয়ন্ত্রণে তারা কিছু খারাপ ভূমিকাও রাখছে। এসব ব্যবসায়ীর প্রভাব ও নির্দেশনায় কলকাতার বেশিরভাগ ছবিই এখন তামিল ছবির প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ কপি।’

জাজ মাল্টিমিডিয়ার সিইও শীষ মনোয়ারের বক্তব্য হচ্ছে-‘এখানে ব্যবসায় তো সবার জন্য উন্মুক্ত। আমি করলে যদি সেটি মনোপলি হওয়ার সুযোগ থাকে, তাহলে অন্যরা এসে করুক। তা হলে তো আমার এক হাতে ব্যবসায় থাকবে না।’

ফারুকীর লেখা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘সব কিছু না জেনে কথা বলা ঠিক নয়। কী চুক্তি হয়েছে, তার কী শর্ত রয়েছে সেসব ফারুকীর জানতে হবে। যারা এসবের বিরোধিতা করছেন, তাদেরও চুক্তির বিস্তারিত জানা উচিত।’ তিনি আরো বলেন, ‘আমরা প্রেক্ষাগৃহ ডিজিটালের কাজটি একাই করছি। শ্রী ভেঙ্কটেশ ফিল্মসের সাথে যৌথভাবে চলচ্চিত্র বানানোর একটা প্রাথমিক চুক্তি করেছি।’ (সূত্র: দৈনিক নয়াদিগন্ত ২১ মার্চ ২০১৩)

ভারতীয় ছবি আমদানি নিয়ে চলচ্চিত্রাঙ্গনে এখন বিতর্ক চলছে। প্রথম দফা এই বিতর্ক শুরু হয় ২০১১ সালে। প্রায় ৩৮ বছর পর ২০১১ সালের ২৩ ডিসেম্বর ভারতীয় বাংলা ছায়াছবি ‘জোর’ মুক্তির মাধ্যমে প্রাথমিক শুরুটা করে দেশীয় প্রদর্শকরা। এরপর আরও দুটি ছবি ‘সংগ্রাম’ ও ‘বদলা’ পর্যায়ক্রমে মুক্তি দেয়।

চলচ্চিত্র সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সংস্থা যখন কঠোর আন্দোলনের ঘোষণা করে তখন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার মৌখিক নির্দেশে সাময়িকভাবে ভারতীয় ছবি আমদানি প্রদর্শন বন্ধ থাকে।

সম্প্রতি সিমেনা হল মালিকরা আবার ভারতীয় ছবি প্রদর্শনে ব্যাপক তৎপরতা শুরু করেছেন। বিশেষ করে তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু কলকাতা ঘুরে এসে দুই বাংলার চলচ্চিত্র প্রদর্শনে সিনেমার অবাধ বাণিজ্যের কথা বললে সিনেমা হল মালিকরা নড়েচড়ে বসেন। দেশীয় চলচ্চিত্র শিল্পকে যুগোপযোগী না করে সরকার ভারতীয় ছবি প্রদর্শনে তৎপর কেন? আমাদের চলচ্চিত্র শিল্পে এখন নাজুক অবস্থা যাচ্ছে। সে মূহুর্তে ভারতীয় ছবি প্রদর্শন মানে শেষ পেরেকটুকু ঠুকে দেয়া। ভারতীয় চলচ্চিত্র মুক্তি দেয়া নিয়ে চলচ্চিত্র প্রযোজক-পরিচালক ও শিল্পীরা এর বিরোধিতা করে যাচ্ছেন। অন্যদিকে ছবি মুক্তি দেয়ার স্বপক্ষে নেমেছেন সিনেমা হল মালিকরা। স্বাধীন দেশে কেন বিদেশী ছবি দিয়ে দেশের সিনেমা হল বাঁচাব এমন প্রশ্নও তুলেছেন অনেকে।

চলমান বিতর্ক শুরু হয়েছে আমদানি করা চারটি হিন্দি চলচ্চিত্রের একটি প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি দেওয়ার প্রেক্ষাপটে। দেশের চলচ্চিত্র শিল্পী, প্রযোজক, নির্মাতা, কলাকুশলীদের শত আপত্তি, আন্দোলন, দাবি ও সমালোচনা উপেক্ষা করে এসব সিনেমা প্রদর্শন হচ্ছে। কোনোভাবেই তা ঠেকিয়ে রাখা সম্ভব হলো না। স্বাধীনতার পর কোনো সরকার ভারতীয় সিনেমা প্রদর্শনের অনুমোদন না দিলেও মহাজোট সরকারই দিচ্ছে। কোনো নীতিমালা ছাড়াই চলবে এসব সিনেমা। এক্ষেত্রে চলচ্চিত্র প্রযোজক-পরিবেশক সমিতির রিলিজ কমিটি থেকে অনুমতি নেয়ার প্রচলিত নিয়মটিও মানা হয়নি।

উভয় ক্ষেত্রে আমদানিকারক পক্ষ হলেন চলচ্চিত্রের প্রদর্শকেরা, এঁরা প্রেক্ষাগৃহের মালিক। এর তীব্র বিরোধিতা করছে চলচ্চিত্র ঐক্য পরিষদ। পরিষদে আছেন চলচ্চিত্র পরিচালক, প্রযোজক ও কলাকুশলীরা। তাঁরা মনে করছেন, ভারতীয় চলচ্চিত্র বাণিজ্যিকভাবে প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পেলে বাংলাদেশের রুগ্ন চলচ্চিত্রশিল্প ধ্বংস হয়ে যাবে। তাঁরা মানববন্ধন করেছেন, প্রধানমন্ত্রী বরাবর স্মারকলিপি দিয়েছেন, গায়ে কাফন জড়িয়ে মিছিল করেছেন, হলে হলে গিয়ে বিক্ষোভ প্রদর্শন করেছেন, হিন্দি চলচ্চিত্রের ব্যানার ছিঁড়েছেন। এই ডামাডোলে তথ্যমন্ত্রীর দেওয়া প্রতিশ্র“তি মোতাবেক ঐক্য পরিষদ তাদের আন্দোলন আপাতত স্থগিত করেছে।

কেউ কি একবার খোঁজ করে দেখেছেন যে, কলকার রুগ্ন চলচ্চিত্রশিল্পে কীভাবে আবার ভালো জায়গায় চলে গেল? যখনই মুম্বাইয়ের ছবি মানের সঙ্গে প্রতিযেগিতায় গেলেন তারা, মুম্বাইয়ের প্রয়োজকেরাও কলকাতায় ছবি বানালেন। ওদের সিনেমা হলগুলোর পরিবেশও ভালো হয়ে গেল। এখন বাংলা ছবি সেখানে মুম্বাইয়ের ছবির সঙ্গে প্রতিযোগিতা করে। এগুলোতে অশ্লীলতা পরিমাপ বেশি।

সিনেমা মালিকদের বক্তব্য হলো-ভালো চলচ্চিত্র না হলে দর্শক তো হলে আসবে না। ভালো মুভি যে একদমই নেই, তা কিন্তু নয়। ভালো কিছু চলচ্চিত্র আমরা প্রদর্শন করেছি, তবে সে সংখ্যা খুবই কম। মধ্যবিত্ত, উচ্চ মধ্যবিত্ত কিংবা শিক্ষিত দর্শকদের হলে টানবে, আমার মনে হয় সে ধরনের চলচ্চিত্র কমে গেছে। মনপুরা, থার্ড পারসন সিঙ্গুলার নাম্বার ভালো ব্যবসা করেছে। বছরে তিন-চারটা চলচ্চিত্র পাচ্ছি, সেটা দিয়ে পুরো বছর চালানো সম্ভব নয়। হলিউডের চলচ্চিত্র সে কারণেই ঢালাতে হয়।

ভারতের চলচ্চিত্র, বিশেষ করে উপমহাদেশের চলচ্চিত্র এখানে নিষিদ্ধ ছিল। এখনো তাই আছে। ডিজিটাল যুগে কিংবা ইন্টারনেটের যুগে আমরা কতদিন নিষিদ্ধ রাখতে পারব? সরকার যদি ভারতের চলচ্চিত্র প্রদর্শনের অনুমতি না দেয়, তবে সরকারকে স্যাটেলাইট চ্যানেলগুলোও বন্ধ করে দেওয়া উচিত।

একশ্রেণির দর্শক ঘরে বসে ভারতীয় চলচ্চিত্র দেখতে পাচ্ছে, যাঁদের স্যাটেলাইট সংযোগ নেই তাঁরা বঞ্চিত হচ্ছেন। আমরা যারা সিনেমা হলের দর্শক তাঁরাও বঞ্চিত হচ্ছেন। চ্যানেল চালু আছে, তাহলে সিনেমা হলে ছবি চালাতে সমস্যা থাকার কথা নয়।

সংস্কৃতির একটা গুরুত্বপূর্ণ শাখা চলচ্চিত্র। সংস্কৃতিকে তো আমরা বেঁধে রাখতে পারি না। অথবা সংস্কৃতি বেঁধে রাখারও বিষয় নয়। চলচ্চিত্র মানুষ দেখতে চান। সিনেমা হলে গিয়ে তাঁরা সেটা উপভোগ করবেন। সরকার এটা কত দিন নিষিদ্ধ করে রাখবে। দর্শক তো কেবলের মধ্য দিয়ে তা দেখতে পারছেন। চ্যানেল নিয়ন্ত্রণ না করে, ভিডিও পাইরেসি বন্ধ না করে সরকারের চলচ্চিত্র প্রদর্শনের ওপর বিধিনিষেধ বজায় রাখা উচিত নয়। সবার আগে চ্যানেল নিয়ন্ত্রণ ও ভিডিও পাইরেসি বন্ধ করা জরুরি। ভারতীয় চলচ্চিত্র আসতে পারে, তবে সেটা সীমিত পরিমাণে। আমাদের ছবিও ভারতে প্রদর্শনের ব্যবস্থা করে দিতে হবে। চলচ্চিত্র বাঁচানোর জন্য, হলগুলো বাঁচানোর জন্য সরকারকেই এগিয়ে আসতে হবে। চ্যানেলে যেসব ছবি চালানো হচ্ছে, সিনেমা হলে তা চালানো যেতে পারে। যদি সেটা না হয়, তবে চ্যানেল বন্ধ করে দেওয়া উচিত। আমাদের চলচ্চিত্রে বলিষ্ঠ নেতৃত্বেরও অভাব রয়েছে। নেতৃত্ব সঠিক ও শক্তিশালী হলে চলচ্চিত্রের এ সংকট থেকে আমরা দাঁড়াতে পারব।

ভারতে বাংলাদেশের কোনো চ্যানেল দেখা না গেলেও বাংলাদেশে তাদের চ্যানেলের আধিপত্য বেড়েছে। স্টার প্লাস, জিটিভি, সনি টিভিতে প্রতিদিনই ৭ থেকে ৮টি সিরিয়াল প্রচার হয়। ফলে বাংলাদেশে সংস্কৃতির ক্ষেত্রে ভয়াল থাবা পড়েছে মারাত্মকভাবে। এসব হিন্দি সিরিয়াল মহিলাদের কাছে বেশ জনপ্রিয়। তবে উচ্চবিত্ত গৃহিণীদের কাছে এসব সিরিয়াল বেশি জনপ্রিয়। গৃহীণীদের সময় কাটে এসব সিরিয়াল দেখে। অনেকের ঘুম আসে না এসব সিরিয়াল না দেখলে। বর্তমানে এসব সিরিয়ালের খারাপ দিক এতটাই মারাত্মকভাবে দেখা গেছে, হিন্দি সিরিয়াল দেখার জন্য ঘরে ঘরে ঝগড়া পর্যন্ত হচ্ছে। হিন্দি সিরিয়ালগুলোর কাহিনী বেশিরভাগ ক্ষেত্রে পরকীয়ার ওপর ভিত্তি করে তৈরি। ১৫ থেকে ৬৫ বছর বয়সী মহিলা এসব সিরিয়াল দেখে থাকেন। অবৈধ প্রেম আর সম্পত্তি দখল নিয়ে নানা উদ্ভট বিষয় তুলে ধরা হচ্ছে এসব সিরিয়ালে।

সংস্কৃতি চর্চার নামে এদেশের যারা আইন না মেনে ভারতীয় শিল্পীদের আনছেন তাদের জবাবদিহি করতে হচ্ছে না। ফলে তারা একের পর এক শিল্পীকে আনছেন।

রাজনৈতিক ও বাণিজ্যিক দখলদারিত্বের পর বাংলাদেশে ভারতীয় সংস্কৃতিক আগ্রাসনের ষোলকলা পূর্ণ হতে চলেছে। পাহাড়প্রমাণ বাণিজ্য ঘাটতির পাশাপাশি সংস্কৃতি জগতে আগ্রাসনের লোলুপ থাবা অপ্রতিরোধ্য হয়ে উঠছে দিন দিন। বাংলাদেশ এখন ভারতীয় শিল্পীদের রমরমা বাজার। এ প্রক্রিয়া হুন্ডির মাধ্যমে ভারতে চলে যাচ্ছে কোটি কোটি টাকা। ভারতীয় নামি-দামি শিল্পীদের এনে প্রোগ্রাম করে ‘জাতে ওঠার’ এক ধরনের হীনমন্যতার ফলে দেশের বৈদেশিক মুদ্রার অপচয় ঘটছেÑবিপরীতে দেশের প্রতিভাবান শিল্পীরা অবজ্ঞা, উপেক্ষার ন্যাক্কারজনক শিকার।

বাংলাদেশকে বলা হয় বাউলের দেশ। এ মাটিতে বহু বাউলশিল্পী জন্ম নিয়েছেন। গান গেয়ে বাংলার সমৃদ্ধ সংস্কৃতিকে বিশ্বব্যাপী সমাদৃত করেছেন বাংলাদেশের বাউলসমাজ। বাংলাদেশের বাউলকূলকে ধ্বংস করা হচ্ছে। তথাকথিত কিছু সংগঠনের নামে ভারত থেকে বাউলশিল্পী এনে ঢাকায় কনসার্ট করানো হচ্ছে। অথচ বাংলাদেশ থেকে একজন বাউল শিল্পী সেদেশে গিয়ে কনসার্ট করতে পেরেছেন বলে জানা যায়নি।

পারিশ্রমিক হিসেবে বিপুল পরিমাণ টাকা হুন্ডি করে ভারতে পাঠানো হচ্ছে। কোনো প্রকার ট্যাক্স দেয়ার বালাই নেই। এক একটি অনুষ্ঠানে অংশ নিয়ে একেকজন শিল্পী কমপক্ষে ৫০ লাখ থেকে ১ কোটি টাকা পর্যন্ত পারিশ্রমিক নিচ্ছেন। বাংলাদেশে আসার আগেই মোটা অঙ্কের টাকা আগাম সম্মানী দিয়ে তাদের বুকিং করতে হয়।

যথাযথ অনুমতি ছাড়াই ভারত থেকে শিল্পীরা বাংলাদেশে আসছেন। যেসব শিল্পী আনা হয়েছে এরা হলেনÑমান্না দে, হৈমন্তি শুক্লা, হরিপ্রসাদ চৌরাসিয়া, জগজিৎ সিং, পঙ্কজ উদাস, কুমার শানু, অলকা ইয়াগনিক, কবীর সুমন, নচিকেতা, সনু নিগম, শান, অনুরাধা ঘোষ, ইন্ডিয়ান আইডল ইমন, কৈলাস খের, সারেগামাপার সঞ্চিতা ও মনীষা, ফেইম গরুকুলের রূপরেখা, চন্দ্রিমা, আইটেম গার্ল শেফালি ও শিরিন, পূর্নদাস বাউল, স্বপন বসু, দিব্যেন্দু দাস বাউল।

ট্যাক্স ফাঁকি দিয়ে হুন্ডি করে টাকা নিয়ে যাচ্ছেন তারা। যেসব মন্ত্রণালয় বা দফতরের অনুমতি প্রয়োজন সেখানে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ‘ম্যানেজ’ করে ভারতীয় শিল্পীদের ঢাকায় আনা হয়। ম্যানেজ করা হয় অনুষ্ঠানের টিকিট বা অন্য উপঢৌকন দিয়ে। ওইসব ব্যক্তি সপরিবারে জামাই আদরে অনুষ্ঠানের প্রথম সাড়িতে বসে উপভোগ করার আমন্ত্রণপান। এছাড়া দলীয় প্রভাব কাজে লাগিয়েও অনেকে যথাযথ অনুমতি নেয়া হচ্ছে না।

jiblu78.rahman@gmail.com

শেয়ার করুন