হান্নান শাহ’র প্রথম মৃত্যুবার্ষিকী আজ

সিলেটের সকাল ডেস্ক।। আজ২৭ সেপ্টেম্বর বুধবার । বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) আ স ম হান্নান শাহর প্রথম মৃত্যুবার্ষিকী। ২০১৬ সালের এই দিনে সিঙ্গাপুরের র্যা ফেলস হার্ট সেন্টারে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।

হান্নান শাহ ১৯৪১ সালের ১১ অক্টোবর গাজিপুরের কাপাসিয়া উপজেলার ঘাগটিয়া গ্রামে সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। তার বাবা ফকির আব্দুল মান্নান পাকিস্তান সরকারের মন্ত্রী ও বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের প্রথিতযশা আইনজীবী ছিলেন।

মৃত্যুবাষিকী বিষয়ে হান্নান শাহ বড় ছেলে শাহ রেজাউল হান্নান গণমাধ্যমকে জানান, পারিবারিকভাবে আমরা কাপাসিয়ার ঘাগটিয়া গ্রামের বাড়িতে বুধবার বেলা ১২টায় মিলাদ ও দোয়ার আয়োজন করেছি। এছাড়া দলীয়ভাবে আমি কোন কর্মসূচির খবর এখনও পাইনি। আমাকে ফোন করে কাপাসিয়ায় স্মরণ সভার আয়োজনের কথা জানানো হয়েছে।

বিএনপির ঢাকা বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক ও গাজীপুর জেলা বিএনপির সভাপতি এ কে এম ফজলুল হক মিলন জানান, সোমবার কাপাসিয়ায় কবর জিয়ারত হবে। গাজীপুরে বিএনপির কার্যালয়ে ২৮ সেপ্টেম্বর বিকেলে মিলাদ ও আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়েছে। ২৯ সেপ্টেম্বর পল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে মিলাদ হবে। ৩০ সেপ্টেম্বর জাতীয় প্রেসক্লাবে আলোচনা সভা হবে, সভায় বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য খন্দকার মোশাররফ হোসেন প্রধান অতিথি থাকবেন। আর ২০ অক্টোবর বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর কাপাসিয়ায় হান্নান শাহর গ্রামের বাড়িতে স্মরণসভায় অংশ নিবেন।

এছাড়া গাজীপুরে সিনিয়র নেতা অধ্যাপক এমএ মান্নান, হাসান উদ্দিন সরকারসহ সবাইকে ২৮ সেপ্টেম্বর বিকেলে জেলা বিএনপির কার্যালয়ে মিলাদ ও আলোচনা সভায় উপস্থিত থাকতে বলা হয়েছে।

হান্নান শাহ ১৯৫৬ সালে ঢাকার সেন্ট গ্রেগরি স্কুল থেকে মেট্রিকোলেশন পাস এবং ঢাকা কলেজ থেকে উচ্চ মাধ্যমিক পাস করেন। বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের সময়ে অন্য বাঙালি সেনা কর্মকর্তাদের সঙ্গে পাকিস্তানের কারাগারে বন্দি ছিলেন তিনি। ১৯৭৩ সালের সেপ্টেম্বরে বাংলাদেশে ফিরে তিনি বাংলাদেশ সেনাবাহিনীতে যোগ দেন। ১৯৮৩ সালে ব্রিগেডিয়ার জেনারেল পদে থাকাকালীন এরশাদ সরকার বাংলাদেশ সেনাবাহিনী থেকে বাধ্যতামূলক তাকে অবসর প্রদান করা হয়। অবসরের পর এরশাদ সরকারের সময়ে বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন করপোরেশনের (বিএডিসি) চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পেয়েছিলেন হান্নান শাহ।

বিএনপিতে যোগদানের শুরুতে তিনি ঢাকা মহানগর বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। দলের সাংগঠনিক সম্পাদক (ঢাকা বিভাগ) হিসেবে ১৯৮৬ থেকে ১৯৯৩ সাল পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করেন। একই সময়ে তিনি গাজীপুর জেলা বিএনপির সভাপতির দায়িত্ব পালন করেছেন। তিনি ১৯৯৩ থেকে ২০০৯ সাল পর্যন্ত বিএনপি চেয়াপারসন খালেদা জিয়ার উপদেষ্টা কাউন্সিলের সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। হান্নান শাহ ২০০৮ সালে বহুল আলোচিত ফখরুদ্দিন-মঈন উদ্দিনের সেনা সমর্থীত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময়ে গণতন্ত্র বিরোধী কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে সর্ব প্রথম মুখ খোলেন।

হান্নান শাহ একধারে কৃতি ফুটবলার, হকি ও গল্ফ খেলোয়ার ছিলেন। তিনি ১৯৫৮ সালে ঢাকার ওয়ান্ডার্স ক্লাবের গোল রক্ষক ছিলেন। তিনি বক্সিংয়ে সেনাবাহিনীতে রেকর্ড তৈরী করেছিলেন। বাংলাদেশ সুটিং ফেডারেশনের সভাপতিও ছিলেন।

হান্নান শাহ ১৯৯১ সালের নির্বাচনে গাজীপুর-৪ আসন (কাপাসিয়া) থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়ে বাংলাদেশ সরকারের পাট ও বস্ত্র মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ২০০৯ সালের পঞ্চম জাতীয় কাউন্সিল অনুষ্ঠিত হলে তাকে বিএনপির সবোর্চ্চ ফোরাম জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য করা হয়। ২০১৬ সালে অনুষ্ঠিত দলের ষষ্ঠ জাতীয় কাউন্সিলে তার এই পদ বহাল ছিল।

 

শেয়ার করুন