সুনামগঞ্জের পর্যটন শিল্পের বিকাশ কতদূর?

দিগন্ত বিস্তৃত হাওর, খরস্রোতা পাহাড়ি ঝর্ণা, পাহাড়ের বুক চিড়ে নেমে আসা নদী, সবুজ পানির লেক, ঐতিহাসিক স্থাপনা, কী নেই সুনামগঞ্জে! একটি এলাকাকে পর্যটন এলাকা হিসাবে গড়ে তোলার সব উপাদানই আছে এখানে। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তাই ২০১০ সালের ১০ই নভেম্বর তাহিরপুরে এসে সুনামগঞ্জের পর্যটন শিল্পের বিকাশের জন্য যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। সে অনুযায়ী প্রকল্পও প্রণয়ন করা হয়েছে। বাকী রইল শুধু বাস্তবায়ন। সেখানেই আমরা আটকে আছি। এ যেন বিয়ের সব আয়োজনই ঠিক শুধু পাত্রি নির্বাচন করা বাকি।

হাওরে যখন বার বার ফসলহানীতে মানুষ দিশেহারা তখন পরিবেশ বান্ধব পর্যটনশিল্পের প্রসার হতে পারত বিকল্প কর্মসংস্থানের উপায়।

একটি স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন হিসাবে আমরা পরিবেশ ও হাওর উন্নয়ন সংস্থা এ নিয়ে বিভিন্ন সময় মাননীয় পর্যটন মন্ত্রীর সাথে দেখা করেছি। তাঁকে পর্যটন স্পট দেখানোর জন্য সুনামঞ্জে নিয়ে এসেছি। তিনিও প্রকল্প বাস্তবায়নে কাজ চলছে বলে আশ্বস্ত করেছেন। কিন্তু দৃশ্যমান কিছুই শুরু হয়নি। তবে আশার বিষয় যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নতি হওয়ায় এখন পর্যটক বাড়ছে। মাননীয় পর্যটন মন্ত্রীর দেওয়া তথ্য অনূযায়ী বারিকের টিলায় একটি পর্যটন কমপ্লেক্স হচ্ছে। অন্যদিকে নানামুখী অপতৎপরতায় এখন হাওরে পাখি কমছে, গাছ কমছে, পাড় কেটে টিলাকে হুমকির মুখে ফেলা হচ্ছে।

তবে কী আমাদের পর্যটন বিকাশের স্বপ্ন স্বপ্নই থেকে যাবে!!

আমার জানামতে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনা যে প্রতিশ্রুতি দেন তা বাস্তবায়নে আন্তরিক প্রচেষ্টা চালান। এর এক জ্বলন্ত প্রমান সর্বশেষ তিনি প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী হাওরাঞ্চলের সংযোগ সড়ক বাস্তবায়নে প্রয়োজনে ফ্লাইওভার নির্মানের নির্দেশ দেন। এটি হাওর এলাকার প্রতি তাঁর আন্তরিকতার ও বহিঃপ্রকাশ। তবে সুনামগঞ্জের পর্যটন শিল্পের বিকাশের প্রতিশ্রুতি আজও ফাইলবন্দি কেন?

কাশমীর রেজা : সভাপতি-পরিবেশ ও হাওর উন্নয়ন সংস্থা

শেয়ার করুন