সিলেটে বৃহস্পতিবার আফগানিস্তানের মুখোমুখি বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-১৯

মিজান আহমদ চৌধুরী : এশিয়া কাপ ও বিশ্বকাপের প্রস্তুতির অংশ হিসেবে বৃহস্পতিবার থেকে শুরু হচ্ছে বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-১৯ ও আফগানিস্তান অনূর্ধ্ব-১৯ ক্রিকেট দলের মধ্যকার পাঁচ ম্যাচ সিরিজের ওয়ানডে সিরিজ ।সিরিজের ম্যাচগুলো সম্পূর্ণ উন্মোক্ত থাকবে দর্শকদের জন্য। বিনা টিকেটে দর্শকরা মাঠে প্রবেশ করে খেলা দেখতে পারবেন।

দেশের মাটিতে গত বিশ্বকাপে সেরা চার দলের একদল ছিলো বাংলাদেশের যুব দলটি। অনেকে মনে করেছিলো স্বাগতিক হিসেবে বাংলাদেশের কাছে থাকবে বিশ্বকাপের ট্রফিটি।সেবার হট ফেবারিট হয়েও সেমিফাইনালে ওয়েস্ট ইন্ডিজের কাছে হেরে বিশ্বকাপ থেকে বিদায় নেয় বাংলাদেশ।তবে পুরো টুর্ণামেন্ট বাংলাদেশের নজরকাড়া খেলা সবার মন মাতিয়েছে। সেই দলের কয়েক জন রয়েছে বর্তমান যুব দলটিতে। তাই বড় দুটি টুর্ণামেন্টকে সামনে রেখে বেশ আগ থেকে মাঠে নেমে পড়েছে বাংলাদেশ। আগামী বিশ্বকাপ অনুষ্ঠিত হবে নিউজিল্যান্ডে। সেখানকার বাউন্সি উইকেটের কথা চিন্তা করেই আফগানিস্তান সিরিজের সব খেলা দেওয়া হয়েছে সিলেটে। কারণ সিলেটের উইকেট দেশের অন্যান্য উইকেট থেকে কিছুটা ফাস্ট। তাই সেখানে এমন প্রস্তুতির সুযোগ পেয়ে সন্তুষ্ট টাইসার যুবারা।এদিকে, আফগানিস্তান অনূর্ধ্ব-১৯ ক্রিকেট দলের সাথে খেলে নিজেদের সেরা প্রস্তুতিটা সেরে ফেলতে চায় তারা।

আফগানদের হোয়াইটওয়াশ করতে চান যুবা টাইগারদের কাপ্তান সাইফ হাসান। আর নিজেদের সেরাটা খেললে তা করতে পারা খুব কঠিন হবে না বলে মনে করেন।তিনি জানান, ‘অধিনায়ক হিসেবে অবশ্যই চাইবো সিরিজ জিততে। যেহেতু আফগানিস্তানের সঙ্গে খেলা, একটা চেষ্টা থাকবে হোয়াইটওয়াশ করা। অবশ্যই এটা থাকবে। ওরা খুব ভালো দল। অনূর্ধ্ব-১৯ দল হলেও ভালো দল। তবে আমরা যদি আমাদের সেরা খেলাটা খেলতে পারি তাহলে ওদের সঙ্গে জেতা খুব সহজ হয়ে যাবে।’ আফগানিস্তান বিপক্ষে সিরিজটি মূলত এশিয়া কাপ ও বিশ্বকাপের প্রস্তুতির জন্যই আয়োজন করা হয়েছে। শুধু তাই নয়, বিশ্বকাপকে লক্ষ্য রেখে গত দেড় বছর থেকেই কঠিন অনুশীলন করছেন যুবারা।

এদিকে দীর্ঘ বিরতির পর সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামের বসছে আন্তজার্তিক ম্যাচ।২০১৬ সালে প্রথম দিকে অনুর্ধ্ব-১৯ ক্রিকেট বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্বের তিনটি ম্যাচ অনুষ্ঠিত হওয়ার পর স্টেডিয়ামের সংস্কার কাজের জন্য আন্তর্জাতিক ম্যাচ আয়োজন করতে পারেনি ভেন্যুটি। মাঠ ও ড্রেনেজ সিস্টেমের সংস্কারের পর স্টেডিয়ামের আসনসংখ্যা বাড়ানোয় উদ্যোগ গ্রহন করা হয়। পূর্বপাশের গ্যালারীর উপর স্টিলের কাঠামো বসিয়ে দোতলা গ্যালারী বানানো হয়, যেখানে বসানো হয়েছে পাঁচ হাজারেরও বেশি চেয়ার। ফলে স্টেডিয়ামের দর্শক ধারন ক্ষমতা সাড়ে ১৩ হাজার থেকে বেড়ে এখন ১৮ হাজারেরও বেশী হয়েছে। সিলেট বিভাগীয় ক্রীড়া সংস্থার সাধারণ সম্পাদক ও বিসিবি পরিচালক শফিউল আলম চৌধুরী নাদেল, এতদিন আমাদের মাঠ পুরো প্রস্তুুত ছিল না। গ্যালারীর কাজ শেষ হয়েছে। মাঠের ড্রেনেজ ব্যবস্থাও উন্নতি হয়েছে। মাঠটি এখন পুরোপুরি প্রস্তুত। একের পর খেলা আসবেই।

সিলেটের লাক্কাতুরা এলাকায় চা-বাগান আর ছোট ছোট টিলা পাহাড়বেষ্টিত এই স্টেডিয়ামটি প্রতিষ্ঠিত হয়েছে ২০০৭ সালে। তখন এর নাম দেওয়া হয়েছিল সিলেট বিভাগীয় স্টেডিয়াম। তবে ২০১৪ সালের আইসিসি টি-২০ বিশ্বকাপ ও আইসিসি প্রমীলা টি-২০ বিশ্বকাপ সামনে রেখে স্টেডিয়ামটির সংস্কার করা হয়েছিল ২০১৩ সালে। ২০১৪ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি স্টেডিয়ামটি উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ওই বছর ১৭ মার্চ টি-২০ বিশ্বকাপের আয়ারল্যান্ড-জিম্বাবুয়ের ম্যাচ দিয়ে যাত্রা শুরু হয়েছিল সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামের।

শেয়ার করুন