মিয়ানমারে অবরোধ আরোপের আহ্বান এইচআরডব্লিউ’র

সিলেটের সকাল ডেস্ক ।। মিয়ানমারে রোহিঙ্গা মুসলিমদের ওপর নির্যাতনকে ‘মানবতাবিরোধী অপরাধ’বলে আখ্যায়িত করেছে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস ওয়াচ (এইচআরডব্লিউ)। একইসঙ্গে এর জন্য দেশটির ওপর অবরোধ আরোপের আহ্বান জানিয়েছে সংস্থাটি।

মঙ্গলবার ওয়েবসাইটে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এইচআরডব্লিউ এ আহ্বান জানায়।

এইচআরডব্লিউর ওই প্রতিবেদনে বলা হয়, মিয়ানমারের সামরিক বাহিনী রোহিঙ্গা মুসলমানদের বিরুদ্ধে হত্যা, নিপীড়ন, ধর্ষণ, বলপ্রয়োগে উচ্ছেদের মতো মানবতাবিরোধী অপরাধ করে যাচ্ছে।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, রাখাইন রাজ্যের উত্তরাঞ্চলে মিয়ানমারের সেনাবাহিনী গুরুতরভাবে মানবাধিকার লংঘন করেছে। গত ২৫ আগস্ট থেকে রাখাইনে রোহিঙ্গাদের ওপর সেনাবাহিনী যে নিপীড়ন চালিয়েছে- তা আন্তর্জাতিক আইনের আওতায় মানবতাবিরোধী অপরাধের শামিল।

এইচআরডব্লিউ বলছে, সেনাবাহিনীর মানবতাবিরোধী অপরাধ সংঘটনের ক্ষেত্রগুলো হলো: কোনও জনগোষ্ঠীকে স্থানান্তরিত ও বাস্তুচ্যুত হতে বাধ্য করা, হত্যা, ধর্ষণ ও অন্যান্য যৌন সন্ত্রাস এবং আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের (আইসিসি) রোম স্ট্যাচুর বিবেচনায় নিপীড়নমূলক কর্মকাণ্ড করা।

প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০১২ এবং ২০১৬ সালে উগ্র বৌদ্ধ ভিক্ষু এবং রাখাইনের বিভিন্ন জাতিগত গোষ্ঠীর অন্তর্ভুক্তরা রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা বাহিনীর সহায়তায় হত্যাকাণ্ড চালিয়েছিলো। তখনও মানবতাবিরোধী অপরাধ সংঘটনের জন্য বার্মা সরকারকে দায়ী করেছিল হিউম্যান রাইটস ওয়াচ।

হিউম্যান রাউটস ওয়াচ মনে করে, মিয়ানমারের সেনাবাহিনী রোহিঙ্গাদের ওপর বিস্তৃত ও কাঠামোবদ্ধ হামলা চালিয়েছে।

এর আগে স্যাটেলাইটে ধারণকৃত ছবিতে দেখা গেছে, যে এলাকায় জ্বালাও-পোড়াও এর আলামত পাওয়া গেছে- তা রাখাইন রাজ্যের ১০০ কিলোমিটার পর্যন্ত বিস্তৃত।

হিউম্যান রাইটসের প্রতিবেদনে দাবি করা হয়, গত ২৫ আগস্ট থেকে মিয়ানমারের সেনাবাহিনী রোহিঙ্গাদের স্থানান্তরিত ও বাস্তুচ্যুত হতে বাধ্য করেছে।

এর আগে ১৭ সেপ্টেম্বর এক প্রতিবেদনে এইচআরডব্লিউ জানিয়েছিলো, মিয়ানমারের রাখাইনে রোহিঙ্গা-অধ্যুষিত ২১৪টি গ্রাম ধ্বংস হয়ে গেছে। স্যাটেলাইটে তোলা হিউম্যান রাইটস ওয়াচের ছবিতে রাখাইনের মংডু এবং রাথেডং এলাকায় হাজার-হাজার ঘরবাড়ি ধ্বংসের চিহ্ন দেখা গেছে।

গত আগস্ট মাসে রাখাইনে শুরু হওয়া সেনা অভিযানের পর থেকে এ পর্যন্ত প্রায় সাড়ে ৪ লাখ রোহিঙ্গা পালিয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছে। তবে মঙ্গলবার পুলিশের চট্টগ্রাম রেঞ্জের ডিআইজি এস এম মনিরুজ্জামান এক সাক্ষাৎকারে রোহিঙ্গাদের এই সংখ্যা ১০ লাখ হতে পারে বলে জানিয়েছেন।

শেয়ার করুন