বাউল সাধক শাহ আব্দুল করিমের দেহত্যাগ দিবসে

আজ মঙ্গলবার (১২ সেপ্টেম্বর) মরমী বাউল সাধক শাহ আব্দুল করিমের দেহত্যাগ দিবস। ২০০৯ সালের এই দিনে তিনি লোকান্তরিত হন। আমার সৌভাগ্য, তাঁর সাক্ষাৎকার গ্রহণ এবং তাঁর গানের আসর আয়োজন করার সৌভাগ্য আমার হয়েছিল।

তাঁর সাথে দীর্ঘ আড্ডা ১৯৭৭ সালে। এক মালজোড়া গানের (প্রশ্ন -উত্তর ) অনুষ্ঠানে। তাঁর প্রতিদ্বন্দ্বী শিল্পী ছিলেন ময়মনসিংহের বাউল আলী হোসেন সরকার। এর পর দেখা হয়েছে অনেক বার। আমিও আমার লেখা বাউল গানের বই “ বাউলের আর্তনাদ “হৃদে গাঁথা মালা“ – তুলে দিয়েছি তাঁর হাতে। তিনিও দিয়েছেন তাঁর লেখা বই। প্রবাস থেকে দেশে গেলে, সুযোগ পেলেই আড্ডা দিয়েছি তাঁকে ঘিরে। সিলেটের “বইপত্র“ -তে আমার সুহৃদ প্রতিম কবি মোস্তাক আহমাদ দীন এর আয়োজনেও হয়েছে নানা বিষয়ে আড্ডা। শাহ করিম ছিলেন একজন অসাধারণ, নির্লোভ, বিনয়ী সাধক মানুষ।

তিনি প্রাণ খুলে গেয়েছেন… “ভব সাগরের নাইয়া…/ মিছে গৌরব করো রে পারার ধন লইয়া…..“ মনে পড়ছে, “বুঝলে কি, বুঝবে কি ওরে ও মন ধুন্ধা/ এই দুনিয়া মায়ার জালে বান্ধা।” গানটি যখন আশির দশকের প্রথম দিকে ‘বেদ্বীন’ ছায়াছবিতে গীত হয় তখনি সঙ্গীত পিপাসু আত্মান্বেষী মানুষের মনে একটি চিরায়িত মরমীতত্ত্বের পূর্ণঝলক জাগিয়েছিলেন মরমী কবি শাহ আব্দুল করিম। একটি গহীন ভাটি জনপদের মানুষ তিনি। সঙ্গীত ছিল তার নেশা। তিনি মুখে যে পয়ারগুলো বলতেন, তাই ছান্দসিক তাই গান। না কোনও অভাব কোনও অনটনই তাকে সাধনা থেকে রুখতে পারেনি। তিনি গেয়েছেন, লিখেছেন, তত্ত্ববিনিময় করেছেন, সঙ্গীততত্ত্ব তালিম দিয়েছেন শতাধিক শিক্ষানবীশ শিল্পী-সাধককে।

কবি শাহ আব্দুল করিমের গানের সাথে আমার প্রথম পরিচয় মুক্তিযুদ্ধের পরপরই। সিলেট বেতারের তিনি একজন নিয়মিত শিল্পী। “কোন মেস্তরী বানাইল কেমন দেখা যায়/ ঝিলমিল ঝিলমিল করেরে ময়ূরপংখী নায়” এরকম অগণিত সারী গানের প্রধানশিল্পী ছিলেন তিনি। তার সহশিল্পীরা ছিলেন একঝাঁক তুখোড় তরুণ-তরুণী। যারা এখন প্রতিষ্ঠিত শিল্পী হিসেবেই পরিচিতি পেয়েছেন।

আজ আমি একটি অনুরোধই করবো। দয়া করে তাঁর গানের কথাগুলো হুবহু রেখে শিল্পীরা গান গাইবেন। তাঁর গানের কথা বিকৃত করবেন না। সুর যত আধুনিক-ই করা হোক না কেন, গানের কথা বিকৃত করা হলে গীতিকারের পরমাত্মা বড় কষ্ট পায়। তাঁর গানের জয় হোক।

লেখক: ফকির ইলিয়াস, প্রবাসী

শেয়ার করুন