প্রতিটি ধর্ম মানবতার কল্যাণ ও শান্তির কথা বলেছে : ড. নাজমানারা খানুম

সিলেটের সকাল ডেস্ক ।। ধর্মের মূলবাণী উপলব্ধী করতে হবে। ধর্ম মানুষের নৈতিক ভিত্তি। পৃথিবীর প্রতিটি ধর্ম মানবতার কল্যাণ ও শান্তির কথা বলেছে । বর্তমান সামাজিক রাজনৈতিক, বিশ্বপ্রেক্ষাপটে আন্তধর্মীয় সংলাপ অত্যান্ত গুরুত্বপূর্ণ। সংলাপ মানুষের মন থেকে সব ধরণের কুসংস্কার,অন্ধকারচ্ছন্নতা মুক্ত করে। আমাদের সমাজে স্বার্থ চিন্তা ছিলনা, সবাই মিলেমিশে বসবাস করতেন। ধর্মীয় সম্প্রীতি ছিলো, আমাদের দেশ শান্তি সম্প্রীতির দেশ । শান্তি সম্প্রীতির জন্য সবাইকে ধর্মের বাণী অনুসরণ করে ঐক্যবদ্ধ ভাবে কাজ করতে হবে।

শনিবার সিলেট জেলা পরিষদ মিলনায়তনে সকল ধর্মের নেতাদের নিয়ে ‘আন্ত:ধর্মীয় সংলাপ’ অনুষ্ঠানে সিলেটের বিভাগীয় কমিশনার ড মোছাম্মৎ নাজমানারা খানুম প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। আন্তঃধর্মীয় সংলাপ কমিশন সিলেটের উদ্যোগে ব্যতিক্রমধর্মী এই সেমিনারের আয়োজন করা হয়। সংলাপের মূল সুর ছিলো ‘ধর্মে সন্ত্রাসের স্থান নেই’।

সিলেট ক্যাথলিক ধর্মপ্রদেশের ধর্মপাল বিশপ বিজয় এন.ডি’ ক্রুজ ’র সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন-উপ-পুলিশ কমিশনার ফয়সল মাহমুদ, ইসলাম ধর্মের পক্ষে ইসলামিক ফাউন্ডেশন সিলেটের সহকারী পরিচালক শাহ মোহাম্মদ নজরুল ইসলাম , হিন্দু ধর্মের পক্ষে রামকৃষ্ণ মিশনের অধ্যক্ষ স্বামী চন্দ্রনাথানন্দ মহারাজ , বৌদ্ধ ধর্মের অধ্যক্ষ সংঘানন্দ খের , খ্রিস্ট ধর্মের পক্ষে বিজয় এন.ডি’ ক্রুজ বিশপ।
কারিতাস সিলেট অঞ্চল কর্মসূচী কর্মকতা বনিফাস কংলা’র পরিচালনায় সংলাপ অনুষ্ঠানে অতিথিবৃন্দ বলেন, পৃথিবীতে প্রত্যেক ধর্মই শান্তি আর সম্প্রীতির কথা বলেছে যুগে যুগে। কোনো ধর্ম জুলুম-নির্যাতন, অন্যায়-অত্যাচার, সন্ত্রাস ও নরহত্যাকে অনুমোদন করে না। ধর্মের জন্য মানুষ নয়, মানুষের জন্যই ধর্ম। ধর্মকে সঠিকভাবে অনুধাবন করলে সমগ্র পৃথিবীর মানুষকে আমরা আত্মীয় মনে করতে পারবো। পৃথিবীতে সন্ত্রাস দূরীভূত করে বিশ্বশান্তি প্রতিষ্ঠা ও সামাজিক শান্তি-সম্প্রীতি অর্জনে সামগ্রিক প্রচেষ্টা অপরিহার্য কর্তব্য। মিয়ানমারে রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাসের নিন্দা জানিয়ে বক্তারা বলেন-এটা মানবাতা বিরোধী অপরাধ।

আলোচনা সভার শুরুতে স্বাগত বক্তব্য রাখেন বিকার জেনারেল ফাদার স্থ্যানিলাউস গমেজ। এছাড়াও সেমিনারে মুসলিম-হিন্দু-বৌদ্ধ ও খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের আমন্ত্রিত ধর্মীয় বিশেষজ্ঞ, সরকারি-বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, লেখক, সমাজসেবক, আইনজীবী, বুদ্ধিজীবী, এনজিও প্রতিনিধি ও বিশিষ্ট ব্যক্তিরা অংশগ্রহণ করেন।

শেয়ার করুন