নিজস্ব শিক্ষক ছাড়াই চলছে সিলেট আইএইচটি

বিশেষ রিপোর্ট ।। গত ৬ বছর ধরে নিজস্ব কোন শিক্ষক ছাড়াই চলছে সিলেট ইন্সটিটিউট অব হেলথ টেকনোলজি (আইএইচটি)। বর্তমানে প্রেষণে থাকা ৬ শিক্ষক দিয়ে চলছে প্রতিষ্ঠানটির কার্যক্রম। এ অবস্থায় প্রতিষ্ঠানটির শিক্ষা কার্যক্রম মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। শিক্ষক সংকট ছাড়াও প্রতিষ্ঠানটিতে আরো বিভিন্ন সমস্যা বিদ্যমান। এর মধ্যে রয়েছে-নারী শিক্ষার্থীদের আবাসন সংকট এবং প্রতিষ্ঠানের নিজস্ব সীমানা প্রাচীর না থাকা।

সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্রের সাথে কথা বলে জানা গেছে, ২০১১ সালে প্রতিষ্ঠিত এই প্রতিষ্ঠানটিতে বর্তমানে ৫টি কোর্স চালু রয়েছে। এগুলো হলো-ল্যাবরেটরী টেকনোলজি, রেডিওলজি এন্ড ইমেজিং, ফিজিও থেরাপি, ডেন্টাল টেকনোলজি (ডেন্টিস্টি) ও ফার্মেসী অনুষদ। এ সব কোর্সের অধীনে বর্তমানে শিক্ষার্থীর সংখ্যা ৮৫৬ জন। এসব কোর্সে নতুন করে আবার ভর্তি বিজ্ঞপ্তি আহ্বান করা হয়েছে। ফলে নতুন করে ভর্তি হবে আরো আড়াইশ’ শিক্ষার্থী। এর ফলে প্রায় ১১শ’ শিক্ষার্থীকে পাঠ করাবেন মাত্র ৬ জন শিক্ষক। এ ৫টি অনুষদ ছাড়াও স্পেশাল ডিপ্লোমা ইন কমিউনিটি হেলথ কোর্স চালুর বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন আছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।

সূত্র মতে, তিন বছর মেয়াদী এসব কোর্স সুষ্ঠু ভাবে পরিচালনা করতে হলে অন্তত ৪৫ শিক্ষকের প্রয়োজন। প্রতিষ্ঠার পর থেকে প্রতিষ্ঠানটিতে নিজস্ব কোন শিক্ষক নিয়োগ হয়নি। অধ্যক্ষের বাইরে কর্মরত বাকি ৬ জন শিক্ষকই আছেন ডেপুটেশনে (প্রেষণ)। পাশাপাশি খন্ডকালীন কিছু শিক্ষকও এখানে পাঠদান করেন। এ অবস্থায় অনেকটা খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে চলছে প্রতিষ্ঠানটির কার্যক্রম।

নগরীর পূর্ব শাহী ঈদগাহে প্রতিষ্ঠিত এ প্রতিষ্ঠানে নেই সীমানা প্রাচীরও। সম্মুখ প্রান্তে সীমানা প্রাচীর থাকলেও পিছনের দিকে নেই কোন প্রাচীর। প্রতিষ্ঠানটি নারী শিক্ষার্থীদেরও আধিক্য রয়েছে। এ অবস্থায় বখাটেরাও সেখানে উৎপাত করে বলে ইন্সটিটিউট সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।

প্রতিষ্ঠানটির মহিলা হোস্টেলের আসন সংখ্যা প্রায় ৩শ’। অথচ এখানে প্রায় ৫শ’ নারী শিক্ষার্থী অধ্যয়ন করে। এবার নতুন করে ভর্তিকৃত শিক্ষার্থীদের বিশেষ করে মেয়েদের নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় থাকতে হবে বলে ভুক্তভোগীরা জানিয়েছেন।

যোগাযোগ করা হলে ইন্সটিটিউট অব হেলথ টেকনোলজির অধ্যক্ষ ডাঃ মোঃ নাছির উদ্দিন ভূইঁঞা জনবল সংকটসহ প্রতিষ্ঠানটির বিভিন্ন সমস্যার কথা স্বীকার বলেন, এ কারণে সুষ্ঠুভাবে প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম চালানো যাচ্ছে না। তিনি জানান, প্রতিষ্ঠানটির অর্গানোগ্রাম এরই মধ্যে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন পেয়েছে। অর্গানোগ্রামটি এখন অর্থ মন্ত্রণালয়ের অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে। সীমানা প্রাচীর না থাকায় বখাটেদের উৎপাতের বিষয়টি তিনি স্বীকার করেন।

অপর এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে শিক্ষার্থীরা বিশেষ করে মেয়েরা এ প্রতিষ্ঠানটিতে পড়তে আসে। কিন্তু, আবাসিক সুবিধা না থাকায় মেয়েদের নানা সমস্যায় পড়তে হয়। এ নিয়ে তাদের অভিভাবকরা সারাক্ষণ দুশ্চিন্তায় থাকেন। তিনি এও বলেন, ফলাফলের দিক দিয়ে দেশের ৮টি আইএইচটির মধ্যে সিলেট সেরা। এর মধ্যে প্রতিষ্ঠানটির দুটি ব্যাচ তাদের কোর্স সফলভাবে সম্পন্ন করেছে। পাস করা শিক্ষার্থীদের মধ্যে কেউই বেকার নেই। সিলেট বিভাগের সকল বেসরকারী ম্যাটস আই এইচটি-এর সকল রকম পরীক্ষার কার্যক্রমও এই প্রতিষ্ঠানে পরিচালিত হয়। তিনি প্রতিষ্ঠানটির প্রতি সংশ্লিষ্ট সকলের সুদৃষ্টি কামনা করেন।

শেয়ার করুন