চট্টগ্রাম টেস্ট জিতল অস্ট্রেলিয়া, সিরিজ ড্র

AFP_S703L

স্পোর্টস ডেস্ক ।। ঢাকা টেস্টে অস্ট্রেলিয়াকে হারিয়ে আকাশে উড়ছিল বাংলাদেশ দল। স্বয়ং প্রধানমন্ত্রী স্টেডিয়ামে গিয়ে ‘নায়ক’ সাকিব আল হাসানের মাথায় হাত বুলিয়ে এসেছেন। গণভবনে ঈদের দিন নায়ককে নিজ হাতে খাইয়ে দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। যে ছবিটা ভাইরাল হয়ে গেছে সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমে। একটা অন্যরকম সুখানুভূতি ছড়িয়েছিল বাংলাদেশ দলে। গোটা দেশই শুভকামনা জানাচ্ছিল। ক্রিকেট দুনিয়া থেকেও উড়ে আসছিল প্রশংসা বাণী।

প্রথম ইনিংসে বাংলাদেশ যে খারাপ করেছে সেটি বলা যাচ্ছে না। তবে রানটা আরেকটু বাড়তেই পারত। তারপরও যেটা হয়েছে সেটিও তো খারাপ ছিল না। ৩০৫ রান করেও অস্ট্রেলিয়াকে যে প্রথম ইনিংসে বেধে রাখা গেল না আসলে মিরপুরের নায়কের ব্যর্থতার কারণে।সাকিব যে উইকেটই পেলেন না!

অস্ট্রেলিয়া এই সুযোগটাই কাজে লাগাল। আগের টেস্টে সেঞ্চুরি তুলে নেওয়া ডেভিড ওয়ার্নার চট্টগ্রামেও সেঞ্চুরি তুলে নিলেন।পাশাপাশি স্মিথ-হ্যান্ডসকম্বের ফিফটিতে বাংলাদেশের রানটাও তারা টপকে গেছে। ৩৭৭ করে ৭২ রানের লিডটাই বাংলাদেশের জন্য বাড়তি চাপ হয়ে গেছে। দ্বিতীয় ইনিংস শুরু করতে নেমে টপাটপ উইকেট হারিয়ে ধ্বংসস্তুপে পরিণত হয় বাংলাদেশ।

তামিম ইকবাল-সৌম্য সরকারকে স্বস্তিতে ব্যাট করতে দেখা যায়নি। তামিম অহেতুক ডাউন দ্য উইকেটে খেলতে গেলেন। সৌম্য আগের ইনিংসে পাওয়া আত্মবিশ্বাসটা কাজে লাগাতে পারেননি। আর ইমরুল কায়েস দুই টেস্টেই ব্যর্থতার ষোলকলা পূর্ণ করেছেন। দ্বিতীয় ইনিংসে কি ধরণের শট খেললেন সেটি তিনিই ভালো বলতে পারবেন। গ্লেন ম্যাক্সওয়েল একটু সরিয়ে সেটি তালুবন্দি করলেন। সাকিব এই টেস্টে যেন রাজা থেকে ফকির! ব্যাট কি বল ঠিকঠাক হচ্ছে না কোনকিছুই। অধিনায়ক মুশফিকুর রহীম ভরসা দিয়েছিলেন ঠিকই, কিন্তু নিজের ইনিংসটাকে বড় করতে পারেননি। ১০৩ বল খেলে করেছেন ৩১ রান।

থাকার চেষ্টা করেছিলেন সাব্বিরও।কিন্তু লায়নের বলে তাকে স্ট্যাম্পড হতে হয়েছে। তাঁর আগে ৫৯ বলে ২৪ রান করেছেন। অবশ্য এদিন চারে নামানো হয়েছিল আগের ইনিংস কিছুটা সফল নাসিরকে। তিনিও ব্যর্থ হয়েছেন। আটে নামা মুমিনুল যথারীতি চেষ্টা করেছেন; কিন্তু তাঁর প্রতিরোধ টিকেছে ৬১ বল অবধি। রান করেছেন ৩১। চা বিরতির সময় বাংলাদেশের রান ৮ উইকেটে ১৫৪।

ভরসা বলতে মেহেদি হাসান মিরাজ আছেন ১৩ রান নিয়ে। আর কতদূরইবা যেতে পারবে বাংলাদেশ। এখন লিড দাঁড়িয়েছে ৮২ রানের। বাংলাদেশ যদি প্রথম ইনিংসে কিছু রান লিড নিতে পারত তাহলে বলাই যায় এই টেস্টেও অন্যরকম কিছু  ঘটতে পারত। কিন্তু ৩০৫ রান করেও আলগা বোলিংয়ের ফায়দা নিয়েছে অস্ট্রেলিয়া। যার মাশুল গুণতে হচ্ছে মুশফিকদের। সিরিজ শেষে আফসোস থেকে যাবে যে, বাগে পেয়েও অস্ট্রেলিয়াকে হারানো হলো না।

শেয়ার করুন