‘ইসি শক্তিশালী না হলে নির্বাচন সুষ্ঠুভাবে হবে না’

সিলেটের সকাল ডেস্ক ।। যেকোনও নির্বাচনকে সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য করতে হলে নির্বাচন কমিশনকে (ইসি) শক্তিশালী করতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন বিশিষ্টজনেরা। তাদের দাবি, ‘ইসি শক্তিশালী না হলে কোনও নির্বাচনই সুষ্ঠুভাবে হওয়া সম্ভব নয়।’

শনিবার দুপুরে জাতীয় প্রেসক্লাবের ভিআইপি কনফারেন্স লাউঞ্জে সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) আয়োজিত ‘সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য সুস্পষ্ট করণীয়’ শীর্ষক গোলটেবিল বৈঠকে তারা এসব কথা বলেন।

বৈঠকে সাবেক পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী আবুল হাসান চৌধুরী বলেন, ‘গণতন্ত্রের শক্তি বিশাল। যেখানে চর্চা হয় সেখানে বাধা আসবে। এজন্য আমাদের সত্যিকার গণতান্ত্রিক একটি নিবার্চন দরকার। কেননা গণতন্ত্র জয়ী হলে আমরা সকলে জয়ী হব। তাই গণতন্ত্রকে জয়ী করতে হলে ইসিকে শক্তিশালী করতে হবে। কেননা নির্বাচন একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।’

সাবেক মন্ত্রিপরিষদ সচিব আলী ইমাম মজুমদার বলেন, ‘ভোটার তালিকায় ২০১৫-১৬ সালে ২৬ শতাংশ নারী অন্তর্ভুক্ত হয়নি। ভোটার তালিকা সুষ্ঠুভাবে না হওয়ার কারণে ২০০৭ সালের নির্বাচন পণ্ড হয়ে যায়। ফলে ভোটার তালিকার হালনাগাদে গুরুত্ব দিতে হবে। এছাড়া ভারতে ইসিতে যেখানে ৩০০ জনের মতো কর্মকর্তা আছে সেখানে আমাদের ৩ হাজারের বেশি জনবল দিয়েও সুষ্ঠু নিবার্চন সম্ভব হচ্ছে না। এটা নিতান্তই দুঃখজনক। তাই ইসিকে আরও বেশি শক্তিশালী করতে হবে। সুষ্ঠু নিবার্চন না হলে সেটা আমাদের সকলের জন্য হবে দুঃখজনক।’

বিশিষ্ট কলামিস্ট ও লেখক সৈয়দ আবুল মকসুদ বলেন, ‘সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য প্রয়োজন দক্ষ নিবার্চন কমিশন। ইসির রুটিন কাজ আছে। তাদের কি কাজ, সেটা আমাদের চেয়ে তারা ভাল জানেন। কিন্তু সেই কাজ কি তারা করছেন? অপরদিকে ইসি দায়িত্ব নেয়ার পর থেকে আর্থসামাজিক ও তাদের কি চ্যালেঞ্জ রয়েছে সেটা চিন্তার দরকার ছিলো। কিন্তু তারা সেটা করেননি।’

সাবেক নির্বাচন কমিশনার ব্রি. জেনারেল (অব.) এম সাখাওয়াত হোসেন বলেন, ‘নির্বাচনে প্রথম বিষয় হচ্ছে নিরাপত্তা। ইসির বাজেটের ৭০ শতাংশ ব্যয় হয় নিরাপত্তায়। যদিও ২০১৪ সালের নির্বাচনে ১৫৪ জন যখন বিনাভোটে জয় লাভ করলেন তখন নিরাপত্তায় আমাদের ৩৫০ কোটি টাকা খরচ হয়েছিলো। কিন্তু ইসির কাছে নিরাপত্তায় এতো ব্যয়ের পরও নির্বাচনী সহিংসতার কোনও তথ্য নেই। কাজেই সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য ইসিকে আরও শক্তিশালী করতে হবে।’

সুজন সম্পাদক ড. বদিউল আলম মজুমদার বলেন, ‘আইনে আমাদের ইসি অনেক শক্তিশালী। তবে বাস্তবে নয়। আমরা একটি গ্রহণযোগ্য নির্বাচন চাই। সেটা যদি সম্ভব না হয় তাহলে আমাদের সবকিছু ভেস্তে যাবে। ইসিকে আরও শক্তিশালী হয়ে কাজ করতে হবে। তবেই সকল রাজনৈতিক দলের কাছে ইসির গ্রহণযোগ্যতা বাড়বে। নয়তো ইসি তার সুনাম হারাবে।’

সুজন সভাপতি এম. হাফিজ উদ্দিনের সভাপতিত্বে আরও বক্তব্য দেন ঢাবির অধ্যাপক সাইফুর রহমান, সাবেক ইসির কর্মকর্তা লুৎফুর রহমান, সুজনের সমন্বয়ক দিলীপ কুমার সরকার প্রমুখ।

শেয়ার করুন