বাংলাদেশ-অস্ট্রেলিয়ার যত টেস্ট লড়াই

স্পোর্টস ডেস্ক :  অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে বাংলাদেশের ম্যাচ থাকলে আগে সবাই হিসাব করতে বসে যেত, কত বড় ব্যবধানে হারবে বাংলাদেশ। এমনকি কার্ডিফের সেই ঐতিহাসিক জয়ের পরও এই পরিস্থিতির তেমন কোনো পরিবর্তন হয়নি। তবে, গত দুই বছর ধরে এই ধারণা বদলে গেছে। বাংলাদেশের সমর্থকরা এখন জয়ের আশা নিয়ে মাঠে যান। বাংলাদেশ বনাম অস্ট্রেলিয়া ম্যাচের কথা শুনলে আকাশ আর পাতাল মনে হয় না। এমনি এক পরিস্থিতিতে আগমী ২৭ আগস্ট মুখোমুখি হচ্ছে দুই দল।

সময়টা দীর্ঘ ১১ বছর। এতগুলো বছর বাংলাদেশ সফরে আসেনি অজিরা। সর্বশেষ ২০০৬ সালে দ্বিপাক্ষিক টেস্ট সিরিজে মুখোমুখি হয়েছিল দুই দল। বাংলাদেশের টেস্ট স্ট্যাটাসের বয়স ১৭ বছর হলেও এখন পর্যন্ত অজিদের বিপক্ষে মাত্র ২টি টেস্ট সিরিজ খেলার সুযোগ হয়েছে। প্রথমটি ২০০৩ সালে অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে, আর দ্বিতীয়টি বাংলাদেশের মাটিতে ২০০৬ সালে।

২০০৩ সালে অজিদের মাটিতে অনুষ্ঠিত ওই সিরিজে ২-০ ব্যবধানে হারে বাংলাদেশ। ডারউইনে অনুষ্ঠিত সিরিজের প্রথম টেস্টে শোচনীয় পরাজয় বরণ করতে হয়েছিল টাইগারদের।  ইনিংস ও ১৩২ রানের ব্যবধানে জিতেছিল স্টিভ ওয়াহর অস্ট্রেলিয়া। সিরিজের দ্বিতীয় টেস্টেও ইনিংস ও ৯৮ রানের বড় ব্যবধানে একই পরিণতি বরণ করতে হয়েছিল খালেদ মাহমুদ সুজনের দলকে।

২০০৬ সালে বাংলাদেশের মাটিতে প্রথমবারের মতো টেস্ট সিরিজ খেলে অজিরা। ফতুল্লায় সিরিজের প্রথম ম্যাচে তাদেরকে হারানোর সুযোগ পেয়েও তা কাজে লাগাতে পারেনি বাংলাদেশ। সেই ম্যাচটি এখনো পর্যন্ত এক আক্ষেপ হয়ে আছে বাংলাদেশের ক্রিকেটের জন্য জন্য।  শাহরিয়ার নাফীসের ১৩৮ রানের সুবাদে প্রথম ইনিংসে ৪২৭ রান করে হাবিবুল বাশারের দল। জবাবে প্রথম ইনিংসে ২৬৯ রানেই গুটিয়ে যায় অস্ট্রেলিয়া।

১৫৮ রানে এগিয়ে থাকা বাংলাদেশ দ্বিতীয় ইনিংসে ১৪৮ রানেই অল-আউট হয়ে যায়। জয়ের জন্য অজিদের সামনে টার্গেট দাঁড়ায় ৩০৭ রানের। কিন্তু দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাটিংয়ে নেমে বাঁ-হাতি স্পিনার মোহাম্মদ রফিকের ঘূর্ণিজাদুতে ২৭৭ রানে ৭ উইকেট হারিয়ে বসে অজিরা। কিন্তু রিকি পন্টিংয়ের (১১৮*) অধিনায়কোচিত ইনিংসের কাছে হার মানতে হয় টাইগার বোলারদের। ৩ উইকেটে জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে সফরকারীরা। প্রথম ইনিংসে ৫ এবং দ্বিতীয় ইনিংসে ৪ উইকেট নন রফিক।

শেয়ার করুন