নিউইয়র্কে সিপার আহমেদের জানাজায় প্রবাসীদের ঢল

সিলেটের সকাল ডেস্ক ।। নিউইয়র্কে বাংলাদেশিদের পরিচিত মুখ সিপার আহমেদ চৌধুরীর জানাজায় প্রবাসীদের ঢল নেমেছিল। স্থানীয় সময় ৩ আগস্ট বৃহস্পতিবার মাগরিবের নামাজের পর সিপার আহমেদের জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। জানাজায় জ্যামাইকা মুসলিম সেন্টারে স্থান সংকুলান না হওয়ায় মুসল্লিদের বাইরে সারি বাঁধতে হয়।

জানাজার আগে সিপার আহমেদের ছেলে নাহিয়ান চৌধুরী তাঁর বাবার জন্য সবাইকে দোয়া করতে বলেন। এ সময় এক হৃদয়বিদারক দৃশ্যের অবতারণা হয়। এর আগে বিকেল থেকেই কুইন্সের জ্যামাইকা মুসলিম সেন্টারে ভিড় বাড়তে থাকে। যুক্তরাষ্ট্রের অন্যান্য অঙ্গরাজ্য, এমনকি কানাডা থেকে বন্ধু-স্বজনদের আগমনে জ্যামাইকার মসজিদ এলাকা শোকাতুর হয়ে ওঠে।

মসজিদের পেছন দিকে সিপার আহমেদের মরদেহ একনজর দেখার জন্য নারী-পুরুষের ভিড় জমে। প্রথম দফায় সিপার আহমেদের প্রতি শ্রদ্ধা জানানোর সুযোগ দেওয়া হয় নিকটাত্মীয় ও নারীদের। পরে নিউইয়র্কে বাংলাদেশি কমিউনিটির নেতা, মুক্তিযোদ্ধা, সাংবাদিক, রাজনীতিক থেকে শুরু করে বিভিন্ন সংগঠনের নেতা-কর্মীরা সিপার আহমেদের প্রতি শেষ শ্রদ্ধা জানান।

গত তিন দশক নিউইয়র্কে প্রবাসীদের সব আনন্দ-বেদনার সহযাত্রী ছিলেন সিপার আহমেদ। তাঁর অকালমৃত্যুতে অনেকেই ভেঙে পড়েন। সিপার আহমেদের অনুজ মিনহাজ আহমেদ চৌধুরী ও মামা ডা. সাব্বির আহমেদ চৌধুরী পরিবারের পক্ষ থেকে মরহুমের জন্য দোয়া প্রার্থনা করেন। সিপার আহমেদকে নিয়ে ব্যক্তিগত স্মৃতিচারণা করেন জ্যামাইকা মুসলিম সেন্টারের সেক্রেটারি মঞ্জুর আহমেদ চৌধুরী।

স্থানীয় সময় শুক্রবার নিউইয়র্ক নগর প্রান্তের ওয়াশিংটন মেমোরিয়াল কবরস্থানে সিপার আহমেদকে দাফন করার কথা।

২ আগস্ট সন্ধ্যায় হৃদ্‌রোগে আক্রান্ত হন সিপার আহমেদ। তাঁকে দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। রাত আটটায় এল্মাহার্স্ট হাসপাতালের জরুরি বিভাগে তাঁকে মৃত ঘোষণা করা হয়। সিপার আহমেদের বয়স হয়েছিল ৫৩ বছর। তিনি এক ছেলে, এক মেয়েসহ অনেক আত্মীয়স্বজন ও গুণগ্রাহী রেখে গেছেন।

সিপার আহমেদের প্রবাসী স্ত্রী মাত্র দুই সপ্তাহ আগে মেয়েকে নিয়ে দেশে গেছেন। স্বামীর মৃত্যুসংবাদ জানার পরই তিনি নিউইয়র্কের উদ্দেশে যাত্রা করেন। বৃহস্পতিবার সকালে নিউইয়র্কে পৌঁছান তিনি।

সিপার আহমেদের জানাজায় অংশ নিতে যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন অঙ্গরাজ্য ও কানাডা থেকে প্রবাসীরা নিউইয়র্কে আসেন। ছবি: হেলিম আহমেদপারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, ইয়েলো ক্যাবের কাজের পালা শেষ করে বাড়ির আঙিনায় সবজি বাগান পরিচর্যা করছিলেন সিপার আহমেদ। এ সময় তিনি বুকে প্রচণ্ড ব্যথা অনুভব করেন। নিকটাত্মীয়কে ডাক দেন। জরুরি বিভাগে খবর দেওয়া হলে দ্রুত তাঁকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়।

সিপার আহমেদ প্রায় তিন দশক আগে আমেরিকা আসেন। তাঁর গ্রামের বাড়ি সিলেটের বিয়ানীবাজার থানার বাহাদুরপুর গ্রামে। সিলেট শহরের নাইয়রপুল এবং রায়নগর এলাকায় তাঁদের পরিবারের বসবাস ছিল। প্রবাসী হওয়ার আগে সিপার আহমেদ সিলেট শহরের পরিচিত মুখ ছিলেন। নিউইয়র্কের বহু সামাজিক কর্মকাণ্ডে তিনি জড়িত ছিলেন। তিনি ইস্ট এলমাহার্স্ট জামে মসজিদের কার্যকরী কমিটিতে দায়িত্ব পালন করেছেন।

-সূত্র: প্রথমআলো

শেয়ার করুন