আশিয়ান সিটির প্রকল্পে নিষেধাজ্ঞা বহাল

সিলেটের সকাল ডেস্ক ।। রাজধানী ঢাকার দক্ষিণ খান মৌজায় আশিয়ান সিটি আবাসন প্রকল্প নিয়ে হাইকোর্টের দেয়া রিভিউ রায়ের বিরুদ্ধে রিটকারী ও রাষ্ট্রপক্ষকে আপিলের অনুমতি দিয়েছে সর্বোচ্চ আদালত। একইসঙ্গে উভয়পক্ষকে ৪ সপ্তাহের মধ্যে আপিলের সারসংক্ষেপ জমা দেয়ার নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

হাইকোর্টের বিশেষ বেঞ্চের দেয়া রিভিউ রায়ের স্থগিতাদেশ বহাল রেখে সোমবার (০৭ আগস্ট) এ আদেশ দেয় প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের আপিল বেঞ্চ।

আদালতে পরিবেশবিদ সংগঠন বেলা ও অপরাপর সংগঠনগুলোর পক্ষে ছিলেন ড. কামাল হোসেন, ফিদা এম কামাল, সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান ও মিনহাজুল হক চৌধুরী। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম। আশিয়ান সিটির পক্ষে শুনানি করেন অ্যাডভোকেট কামরুল হক সিদ্দিকী।

পরে আইনজীবী রিজওয়ানা হাসান সাংবাদিকদের বলেন, হাইকোর্টের রিভিউ রায়ের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপক্ষ ও আমাদের লিভ টু আপিল গ্রহণ করেছে আপিল বিভাগ। আদালত ৪ সপ্তাহের মধ্যে লিভ টু আপিলের সারসংক্ষেপ জমা দিতে বলেছেন। এছাড়া হাইকোর্টের স্থগিতাদেশ এবং আশিয়ান সিটির প্রকল্পের সকল কার্যক্রমের ওপর যে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছিল সেটি আগের মতই থাকবে।

তিনি আরও জানান, প্রকল্পের সকল কার্যক্রমের ওপর নিষেধাজ্ঞা মানে হলো আশিয়ান সিটি কোনও প্রকার উন্নয়ন কাজ করতে পারবে না; বিজ্ঞাপন দিতে পারবে না এবং অর্থ লেনদেনও করতে পারবে না বলে জানান এ আইনজীবী।

উত্তর খান, দক্ষিণ খান, বেরাইদ, বরুয়া বাথুর মৌজায় অননুমোদিত স্থানে প্রকল্প তৈরির অভিযোগ এনে ২০১২ সালের ২২ ডিসেম্বর আইন ও সালিশ কেন্দ্র (আসক), অ্যাসোসিয়েশন ফর ল্যান্ড রিফর্ম অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট, বাংলাদেশ পরিবেশ আইনবিদ সমিতি (বেলা), ব্লাস্ট, বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন, ইনস্টিটিউট অব আর্কিটেক্ট বাংলাদেশ, নিজেরা করি, পরিবেশ বাঁচাও আন্দোলন একটি রিট দায়ের করে।

ওই সময় বেলার পক্ষ থেকে বলা হয়েছিল, ওই এলাকায় আশিয়ান সিটি প্রথমে ৫৫ একর জমির ওপর অবস্থানগত ছাড়পত্র পায়। তখন আশিয়ানের পক্ষ থেকে বলা হয়েছিল, তারা কোনও জলাভূমি ভরাট করবে না। কিন্তু তারা কাগজপত্রে ৪৩ দশমিক ১১ একর দেখালেও প্রকল্পে মোট ২৩০ দশমিক ৪৬ একর জমি ভরাট করেছিল। গত বছরের ১৬ আগস্ট আশিয়ান সিটির রিভিউ আবেদন গ্রহণ করে বিচারপতি সৈয়দ এবি মাহমুদুল হক, বিচারপতি নাঈমা হায়দার ও বিচারপতি কাজী রেজা-উল হকের হাইকোর্টের বৃহত্তর বেঞ্চ আশিয়ান সিটি আবাসিক প্রকল্প অবৈধ ঘোষণার রায় বাতিল করে।

পরে এ রায় স্থগিত চেয়ে রাষ্ট্রপক্ষ ও রিটকারীরা চেম্বার আদালতে গেলে চেম্বার বিচারপতি তা আপিলের পূর্নাঙ্গ বেঞ্চে পাঠিয়ে দেয়। পরে ২২ আগস্ট প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বাধীন ৫ বিচারপতির আপিল বেঞ্চ দুটি আবেদনের শুনানি নিয়ে হাইকোর্টের রিভিউ রায় স্থগিত করে দেয়। সেইসঙ্গে রিটকারী ও রাষ্ট্রপক্ষকে লিভ টু আপিলের অনুমতি দেয় আপিল বিভাগ। সেই লিভ টু আপিলই আজ গ্রহণ করল আপিল বিভাগ।

শেয়ার করুন