শান্তিতে নোবেল বিজয়ী চীনা নেতা জিয়াওবো’র ক্যান্সারে মৃত্যু

শান্তিতে নোবেল পুরস্কার বিজয়ী চীনের প্রখ্যাত মানবাধিকার কর্মী ও গণতন্ত্রপন্থি নেতা লিও জিয়াওবো মারা গেছেন। তিনি দীর্ঘদিন ধরে লিভার ক্যান্সারে ভুগছিলেন। মৃত্যুর সময় তার বয়স হয়েছিল ৬১ বছর। চীনের শেনইয়াং এর উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় সিটির দ্য ফাস্ট হসপিটাল অব চায়না মেডিকেল ইউনিভার্সিটিতে তিনি চিকিত্সা নিচ্ছিলেন। তাকে গত মাসে কারাগার থেকে সেখানে আনা হয়েছিল। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক থেকে মানুষের অধিকার ও গণতন্ত্র নিয়ে কাজ করতে শুরু করেন লিও। তবে তাকে সরকারের পক্ষ থেকে সন্ত্রাসী হিসেবে চিহ্নিত করা হয়। ভিন্ন মত অবলম্বন করায় এবং সরকারের বিরুদ্ধে অবস্থানের কারণে তাকে বার বার কারাবরণ করতে হয়েছে। এমনকি তাকে গৃহবন্দিও করা হয়েছে।

 

লিওর অবস্থা খারাপ হতে থাকলে চিকিত্সকরা তাকে বিদেশ নিয়ে যাওয়ার পরামর্শ দিয়েছিলেন। পশ্চিমা দেশগুলো থেকেও চীনা সরকারের উপর এ ব্যাপারে চাপও ছিল। এই রাজনৈতিক কর্মী ২০১০ সালে শান্তিতে নোবেল পুরস্কার লাভ করেন। এই নোবেল পুরস্কারের কারণে তখন তীব্র প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছিল চীন। দেশটির মানুষের অধিকার বাস্তবায়নের লড়াইয়ের জন্য ‘শীর্ষস্থানীয় প্রতীকী’ ব্যক্তি হিসেবে বিবেচনা করা হয় তাকে।

 

বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক থেকে মানবাধিকার কর্মী হয়ে ওঠা জিয়াওবোকে রাষ্ট্রবিরোধী অপরাধী গণ্য করে চীন। ২০০৯ সালে চীনের গণতান্ত্রিক সংস্কার সংশ্লিষ্ট চার্টার এইট পিটিশনের সহলেখক তিনি। এই অপরাধে তাকে রাষ্ট্রদ্রোহী আখ্যা দিয়ে কারাদণ্ড দেয়া হয়েছিল। এছাড়া ১৯৮৯ সালের তিয়ানআনমেন স্কোয়ারে বিক্ষোভকারীদের মুক্তি চেয়ে তিন বছর ‘লেবার ক্যাম্পে’ কাটিয়েছিলেন তিনি। বিবিসি।
শেয়ার করুন