রাগীব আলী ও তার ছেলের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলার আপীল ১৭ আগস্টের মধ্যে নিষ্পত্তির নির্দেশ

ডেস্ক রিপোর্ট:তারাপুর চা-বাগানের জমি আত্মসাতে ভূমি মন্ত্রণালয়ের স্মারক (চিঠি) জালিয়াতির মামলায় দণ্ডিত শিল্পপতি রাগীব আলী ও তাঁর ছেলে আবদুল হাইর বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলার আপিল ১৭ আগস্টের মধ্যে নিষ্পত্তি করতে সিলেট বিভাগীয় বিশেষ জজ আদালতকে নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট। রাগীব আলী ও তাঁর ছেলের আইনজীবী আবদুর রাজ্জাক বলেন, বিচারিক আদালতের দেওয়া দণ্ডাদেশের বিরুদ্ধে তাঁদের করা আপিল বিচারাধীন। এই আপিল বিচারাধীন থাকায় জামিন চেয়ে আবেদন করা হয়। বিচারপতি এ কে এম আসাদুজ্জামান ও বিচারপতি রাজিক আল জলিলের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ বৃহস্পতিবার সিলেট বিভাগীয় বিশেষ জজ আদালতকে ১৭ আগস্টের মধ্যে আপিল নিষ্পত্তি করতে নির্দেশ দিয়েছেন, তা না হলে তাঁদের জামিন বিবেচনা করতে বলেছেন।

আদালতে রাগীব আলী ও তাঁর ছেলের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী মো. আবদুর রাজ্জাক। রাষ্ট্রপক্ষে শুনানিতে অংশ নেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মো. বশিরউল্লাহ।

আদেশের পর মো. বশিরউল্লাহ বলেন, হাইকোর্টে তাঁদের জামিন হয়নি। দুজনের করা জামিন আবেদন নিষ্পত্তি করে দিয়ে হাইকোর্ট দণ্ডাদেশের বিরুদ্ধে তাঁদের করা বিচারাধীন আপিল নিষ্পত্তি করতে বলেছেন।

মামলা সূত্রে জানা যায়, দেবোত্তর ওই সম্পত্তি আত্মসাতের জন্য জাল-জালিয়াতির মাধ্যমে সরকারি আদেশ সৃজনের অভিযোগে ২০০৫ সালের ২ নভেম্বর সিলেট কোতোয়ালি থানায় মামলাটি করেন সহকারী কমিশনার (ভূমি)আব্দুল কাদির । এ মামলায় চলতি বছরের ২ ফেব্রুয়ারি সিলেটের মুখ্য মহানগর হাকিম রায় দেন। রায়ে চারটি ধারায় তাঁদের ১৪ বছরের কারাদণ্ডাদেশ ও প্রত্যেককে ১০ হাজার টাকা করে জরিমানা করা হয়। সব সাজা একসঙ্গে চলবে বলে রায়ে উল্লেখ করায় কার্যত তাঁদের ছয় বছর কারাদণ্ড হয়েছে। এর আগে গত ২৩ নভেম্বর ভারতের করিমগঞ্জ ইমিগ্রেশন পুলিশের হাতে রাগীব আলী ও গত ১২ নভেম্বর ভারত থেকে জকিগঞ্জ এসে গ্রেপ্তার হন আবদুল হাই। বিচারিক আদালতের রায়ের বিরুদ্ধে গত ১৬ ফেব্রুয়ারি দণ্ডিত রাগীব আলী ও তাঁর ছেলে সিলেট মহানগর দায়রা জজ আদালতে আপিল করেন। এই আপিলে তাঁরা জামিন চাইলে গত ২৪ মে সিলেটের বিশেষ দায়রা জজ আদালতে তা নামঞ্জুর হয়। পরে হাইকোর্টে জামিন চেয়ে তাঁরা আবেদন করেন, শুনানি নিয়ে বৃহস্পতিবার তা নিষ্পত্তি করে আদেশ দেওয়া হয়।

শেয়ার করুন