বিয়ানীবাজার সরকারি কলেজ বন্ধ ঘোষণা

ছাদেক আহমদ আজাদ, বিয়ানীবাজার প্রতিনিধি ।। আধিপত্য বিস্তার নিয়ে ছাত্রলীগের বিবাদমান দুই গ্রুপের সংঘর্ষে একজন নিহতের পর আগামী ২২ জুলাই পর্যন্ত সিলেটের বিয়ানীবাজার সরকারি কলেজ বন্ধ ঘোষণা করেছে কলেজ কর্তৃপক্ষ। ওই সময়ে কলেজের সকল অভ্যন্তরীণ পরীক্ষা স্থগিত থাকবে, তবে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীন সকল পরীক্ষা যথারীতি অনুষ্ঠিত হবে।

সোমবার দুপুরে কলেজের একাডেমিক কাউন্সিলের বৈঠক শেষে এসব সিদ্ধান্তের কথা জানান কলেজ অধ্যক্ষ দ্বারকেশ চন্দ্র নাথ। তিনি জানান, উদ্ভুত পরিস্থিতি অনাকাঙ্খিত ঘটনা এড়াতে একাডেমিক কাউন্সিলের জরুরী বৈঠক থেকে আগামী এসব সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।

তিনি আরো জানান, বেলা ১টার দিকে অনার্স প্রথম বর্ষের ইনকোর্স পরীক্ষা ছিল। এ কারণে আজ ১২টার পর কলেজ ছুটি হয়ে যায়। পরীক্ষার জন্য শিক্ষার্থীরা যখন ক্যাম্পাসে প্রবেশ করছিলেন তখন হঠাৎ একটি কক্ষে বিকট শব্দ শোনা যায়। এরপর সেখান থেকে জাহেদ আহমদ লিটুর (২৫) লাশ পাওয়া যায়। এসময় কলেজের ফটকে পুলিশও অবস্থান করছিল। কিভাবে এ ঘটনাটি ঘটলো তা বুঝে উঠতে পারছেন না বলে জানান অধ্যক্ষ।

প্রসঙ্গত; সোমবার বেলা সাড়ে ১২টার দিকে হঠাৎ করে ইংরেজি বিভাগের নিচতলার একটি কক্ষে (পাভেল গ্রুপের অবস্থান) প্রচন্ড বেগে বিস্ফোরণের শব্দ হয়। সেখানে খালেদ আহমদ লিটু (২৫) নামের এক যুবকের দেহ মেঝেতে পড়ে থাকতে দেখা যায়। তার মুখের ডান পাশ ঝাঁঝরা হয়ে চোখ উঠে যায় এবং শরীর থেকে প্রচুর রক্তক্ষরণ হয়। পরে ঐ কক্ষে অবস্থানরত সহকর্মীরা তাকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। এ ঘটনায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তিনজনকে আটক করেছে পুলিশ।

যে দুই গ্রুপের মধ্যে এই সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে তার এক গ্রুপের নেতা উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি আবুল কাশেম পল্লব ও জেলা ছাত্রলীগের আপ্যায়ন বিষয়ক সম্পাদক পাভেল। নিহত লিটু পাভেল গ্রুপের কর্মী।

শেয়ার করুন