বিয়ানীবাজারে বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি

দুবাগে ডাইক মেরামতের আশ্বাস শিক্ষামন্ত্রীর

ছাদেক আহমদ আজাদ, বিয়ানীবাজার প্রতিনিধি ॥ সিলেটের বিয়ানীবাজার উপজেলায় বন্যা পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হয়েছে। কুশিয়ারা নদীর পানি কমতে থাকায় বাড়িঘর ও রাস্তাঘাট থেকে পানি নামতে শুরু করেছে। ফলে আশ্রয়কেন্দ্র থেকে মানুষ বাড়ি ফেরার স্বপ্ন দেখছেন। পরপর দু’বারের বন্যায় কৃষককুল দিশেহারা হয়ে পড়েছেন। তাদের ধানক্ষেত পুরোপুরি বিনষ্ট হয়েছে। সর্বস্ব হারিয়ে তারা সরকারের কাছে সার্বিক সাহায্য কামনা করেছেন।

এদিকে, বন্যার্তদের মধ্যে সরকারি সাহায্য ‘চাল’ প্রত্যেক ইউনিয়ন পরিষদের মাধ্যমে বিতরণ অব্যাহত রয়েছে। উপজেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি হাজি আব্দুল হাছিব মনিয়া, জেলা বিএনপির সভাপতি আবুল কাহের শামীম ও উপদেষ্টা মাওলানা আব্দুর রশীদের অর্থায়নে পৃথকভাবে বন্যার্তদের মধ্যে ত্রাণসামগ্রী বিতরণ করা হচ্ছে। বিভিন্ন দেশ থেকে প্রবাসীরাও ত্রাণ সামগ্রী পাঠাচ্ছেন বলে খবর পাওয়া গেছে।

এদিকে, মঙ্গলবার দিনব্যাপী দুবাগ, শেওলা ও কুড়ারবাজার ইউনিয়নের বন্যা কবলিত কয়েকটি এলাকা পরিদর্শন করেছেন শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ এমপি। এ সময় তিনি আগামী এক মাসের মধ্যে দুবাগ ইউনিয়নে কুশিয়ারা নদীর ভেঙ্গে যাওয়া ৫টি ডাইক মেরামত করার ঘোষণা দেন। এ সময় তিনি বলেন, শেখ হাসিনা সরকারের আমলে না খেয়ে কেউ মারা যায়নি। এবারও তার ব্যত্যয় ঘটবে না। এখন যারা বন্যায় সাময়িক অসুবিধার মধ্যে আছেন তাদেরকে চাল দেওয়া হচ্ছে। বন্যা নেমে গেলে রাস্তাঘাট, স্কুল-কলেজ, বাড়িঘর মেরামতের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

তিনি বলেন, আমি আপনাদের কর্মী। অতীতে আপনাদের পাশে ছিলাম, এখন আছি, আগামীতেও পাশে থাকবো। শিক্ষামন্ত্রী বলেন, আ’লীগ সরকার যেকোন দুর্যোগে মানুষের পাশে দাঁড়ায়। তাদের প্রতি সহমর্মিতা জানিয়ে সাহায্যের হাত প্রসারিত করে। কারণ আ’লীগের মূল শক্তিই হচ্ছে জনগণ। তিনি দলীয় নেতাকর্মীদের বন্যার্তদের পাশে থাকার আহ্বান জানান।

বন্যাদুর্গত এলাকা পরিদর্শনকালে শিক্ষামন্ত্রীর সাথে ছিলেন বিয়ানীবাজার উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আতাউর রহমান খান, মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান রোকশানা বেগম লিমা, রাজনীতিবিদ হাজি আব্দুল আহাদ কলা মিয়া, আহমদ হোসেন বাবুল, শিক্ষামন্ত্রীর এপিএস দেওয়ান মাকসুদুল ইসলাম আউয়াল, দুবাগ ইউপি চেয়ারম্যান এম এ সালাম, শেওলা ইউপি চেয়ারম্যান জহুর উদ্দিন প্রমুখ।

শেয়ার করুন