বন্যা পরিস্থিতির অবনতি: দুর্গতদের বাঁচান, পুনর্বাসন করুন

বন্যা পরিস্থিতির আরও অবনতি হয়েছে। উত্তরাঞ্চলের প্রধান নদীগুলোর পানি বেড়ে যাওয়ায় কুড়িগ্রাম, লালমনিরহাট, নীলফামারী, গাইবান্ধা, বগুড়া, নাটোর, সিরাজগঞ্জসহ টাঙ্গাইল ও জামালপুর জেলার নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়ে প্রায় সাত লক্ষাধিক মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। এছাড়া দেশের নিম্নাঞ্চলে বন্যার পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকায় বন্যার্তদের দুর্ভোগ বাড়ছে। টানা কয়েক দিন বন্যার পানিতে তলিয়ে থাকা এসব এলাকায় দেখা দিয়েছে খাদ্য ও বিশুদ্ধ খাবার পানির সঙ্কট। এমনকি কয়েকটি জেলায় কয়েকশ’ বিদ্যাপীঠে পানি ঢুকে বন্ধ হয়ে গেছে শিক্ষা কার্যক্রম। গবাদি পশু নিয়ে বিপাকে রয়েছে অনেক মানুষ।

ত্রাণ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রী গতকাল জানিয়েছেন, ‘বন্যা পরিস্থিতি মোকাবেলায় সরকারের কাছে পর্যাপ্ত ত্রাণসামগ্রী রয়েছে। ত্রাণের কোনো সঙ্কট নেই। কোনো মানুষই ত্রাণের আওতার বাইরে থাকবে না।’ অথচ বন্যা-আক্রান্ত মানুষের সহযোগিতায় মাঠপ্রশাসনের বলিষ্ঠ উদ্যোগ দৃশ্যমান নয়। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, দুর্গত এলাকায় ত্রাণ না পৌঁছায় মানবেতর দিন কাটাচ্ছে বানভাসিরা। এর মধ্যে দেখা দিয়েছে নানা পানিবাহিত রোগ। প্রয়োজনীয় চিকিত্সার অভাবে আরও নাকাল হচ্ছে বন্যার্ত মানুষ।

প্রায় প্রতি বছর বর্ষা মৌসুমে দেশের বিভিন্ন অঞ্চল বন্যাকবলিত হয়। বন্যার ধকল সহ্য করেই এ দেশের মানুষের বসবাস। ফলে বন্যায় সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ কমানোর জন্য সরকারের আগাম প্রস্তুতি থাকার কথা। বিশেষ করে নদীতীরবর্তী জেলাগুলোর স্থানীয় প্রশাসনের ত্রাণ ও পুনর্বাসনের জন্য যথেষ্ট বরাদ্দ থাকা উচিত; কিন্তু প্রতি বছর আমরা দেখছি, বন্যার সময় মানুষ যথাযথ ত্রাণসামগ্রী ও সহযোগিতা পায় না। ফলে মানুষকে দুর্ভোগের মধ্যে জীবন পার করতে হয়। এবারও এর ব্যতিক্রম হয়নি।

সরকারের উচিত বন্যাকবলিত এলাকাগুলোতে যত দ্রুত সম্ভব ত্রাণসামগ্রী পাঠানো। একই সঙ্গে বন্যাকবলিত এলাকাগুলোর জন্য প্রতি বছর নির্দিষ্ট পরিমাণ বরাদ্দ রাখা উচিত, যাতে স্থানীয় প্রশাসন দ্রুত পরিস্থিতি মোকাবেলা করতে পারে। সরকারের পাশাপাশি বন্যার্তদের সাহায্যের জন্য সব শ্রেণি-পেশার মানুষ এবং সংগঠনকে এগিয়ে আসতে হবে। সবার আগে বন্যার্তদের কাছে শুকনো খাবার, বিশুদ্ধ পানি আর জীবন রক্ষাকারী ওষুধ পৌঁছে দিতে হবে।

বন্যার্তদের গবাদি পশু রক্ষার জন্য সহায়তা করতে হবে। প্রতি বছর বন্যা হলেও ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য নেই পর্যাপ্ত আশ্রয়কেন্দ্র। চিকিত্সাসেবা কিংবা খাবারের জোগান দেওয়ার জন্য তেমন কোনো স্থায়ী ব্যবস্থা আজ অবধি গড়ে ওঠেনি। যেকোনো প্রাকৃতিক দুর্যোগে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয় নিম্নবিত্তের মানুষ। বন্যার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবেলায় এরূপ থাকাটা বাঞ্ছনীয় নয়। একটি মানুষ কিংবা গবাদি পশুও যেন বন্যার কারণে প্রাণ না হারায়, সেদিকে লক্ষ রাখতে হবে। এ মুহূর্তে বন্যার্তদের পাশে দাঁড়ানো জরুরি। আমরা আশা করি, সরকার বন্যাকবলিত এলাকায় দ্রুত ত্রাণসামগ্রী বিতরণের ব্যবস্থা করবে। পাশাপাশি বন্যায় ক্ষতিগ্রস্তদের পুনর্বাসনেও যথাযথ উদ্যোগ গ্রহণ করবে।

সংকলিত: সকালের খবর

শেয়ার করুন