নুহাশ পল্লীতে হচ্ছে হুমায়ূন স্মৃতি জাদুঘর

সিলেটের সকাল ডেস্ক ।। পঞ্চম মৃত্যুবার্ষিকীতে নানা আয়োজনের মধ্য দিয়ে বুুধবার জনপ্রিয় লেখক হুমায়ূন আহমেদকে স্মরণ করেছেন ভক্ত ও পরিবারের সদস্যরা।

২০১২ সালের এই দিনে না ফেরার দেশে চলে যান নেত্রকোণায় জন্ম নেয়া পাঠকপ্রিয় সাহিত্যিক হুমায়ূন আহমেদ। মৃত্যুর পর সমাহিত হন গাজীপুরে তারই প্রতিষ্ঠিত নুহাশ পল্লীতে। জনপ্রিয় এই লেখকের পঞ্চম মৃত্যুবার্ষিকী ঘিরে নেত্রকোণার কেন্দুয়ায় গ্রামের বাড়ি ও নুহাশ পল্লীতে ছিলো বিভিন্ন আয়োজন।

বুধবার সকালে নুহাশ পল্লীতে লেখকের কবরে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানানোর পর তার স্ত্রী মেহের আফরোজ শাওন জানান, হুমায়ূনের স্মৃতি রক্ষায় সেখানে একটি স্মৃতি জাদুঘর প্রতিষ্ঠা করা হচ্ছে।

সাংবাদিকদের তিনি বলেন, ‘আশা করছি, আগামী ১৩ নভেম্বর হুমায়ূন আহমেদের জন্মদিনে ওই জাদুঘরের একটি অংশ উদ্বোধন করা যাবে।’

মৃৃত্যুর আগে দেশে একটি ক্যান্সার হাসপাতাল প্রতিষ্ঠার স্বপ্নের কথা জানিয়েছিলেন হুমায়ূন আহমেদ। সেই স্বপ্ন বাস্তবায়নে সবাইকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান শাওন।

এ সময় অন্যদের মধ্যে হুমায়ূন আহমেদের পুত্র নিষাদ ও নিনিত, শাওনের মা তহুরা আলী, বাবা প্রকৌশলী মোহাম্মদ আলী, হুমায়ুন আহমেদের বোন সুফিয়া হায়দার ও রোকসানা আহমেদসহ অসংখ্য ভক্তরা উপস্থিত ছিলেন।

এর আগে বেলা পৌনে ১২টার দিকে পরিবারের পক্ষ থেকে হুমায়ুন আহমেদের কবরে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানানোর পাশাপাশি দোয়া অনুষ্ঠিত হয়। হুমায়ূন আহমেদের উপন্যাসের জনপ্রিয় চরিত্র হিমু ভক্তদের সংগঠন হিমু পরিবহনের অর্ধশতাধিক সদস্য লেখকের প্রয়াণ দিবসে তার কবরে এসে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান। ঢাকা থেকে নুহাশ পল্লীতে যাওয়ার পথে ক্যান্সার সচেতনতামূলক লিফলেট বিতরণ এবং শোকবইতে ভক্তদের স্বাক্ষর সংগ্রহ করেন তারা।

এছাড়া ‘হুমায়ূন আহমেদ প্রকাশনী’ এবং বাংলাদেশ জ্ঞান ও সৃজনশীল প্রকাশক সমিতির সদস্য ও কর্মকর্তারাও উপস্থিত হন নুহাশ পল্লীতে। তারা সেখানে প্রয়াত লেখকের কবর জেয়ারতের পাশাপাশি পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন।

নুহাশ পল্লীর ব্যবস্থাপক সাইফুল ইসলাম বুলবুল জানান, সকাল থেকেই ভক্ত-দর্শকরা নুহাশ পল্লীতে ভিড় জমাতে শুরু করেন। বিশেষ করে হুমায়ূন ভক্ত তরুণ প্রজন্মের অনেক শিক্ষার্থীরা নুহাশ পল্লীতে ভিড় করছেন।

সকালে আশপাশের মাদ্রাসা ও এতিমখানার ছাত্ররা কোরআন তেলাওয়াত শুরু করে। মাদ্রাসা ও এতিম খানার শিক্ষার্থী ছাড়াও নুহাশ পল্লীতে আসা লেখকের ভক্তসহ প্রায় ৬০০ জনের দুপুরের খাবার আয়োজন করা হয়।

১৯৪৮ সালের ১৩ নভেম্বর নেত্রকোণার কেন্দুুয়া উপজেলায় জন্ম নিয়েছিলেন হুমায়ূন আহমেদ। সেই কেন্দুয়ায় গড়ে তুলেছিলেন শহীদ স্মৃতি বিদ্যাপীঠ। সেই বিদ্যাপীঠে হুমায়ূন প্রতিকৃতিতে পুষ্পস্তবক অর্পণের পাশাপাশি তার স্মরণে শোক র‌্যালিতে অংশ নেয় ছাত্রছাত্রীরা।

এদিকে হুমায়ূন আহমেদের প্রয়াণ দিবস ঘিরে কেন্দুয়া উপজেলা সদরেও ছিল নানা আয়োজন। সকাল সোয়া ১০টার দিকে শোক র‌্যালি, হুমায়ূন আহমেদের বইপড়াসহ দোয়া মাহফিল হয়। কেন্দুয়ার হুমায়ূন আহমেদ স্মৃতি সংসদ ও চর্চা সাহিত্য আড্ডা যৌথভাবে এসব কর্মসূচির আয়োজন করে।

র‌্যালিটি উপজেলা পরিষদ চত্বর থেকে বের হয়ে সদরের প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে একইস্থানে গিয়ে শেষ হয়। পরে সেখানে আলোচনা সভায় বক্তব্য রাখেন উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান দেলোয়ার হোসেন ভুইয়া, ইউএনও মোতাশিমুল ইসলাম, চর্চা সাহিত্য আড্ডার উপদেষ্ঠা ইসলাম উদ্দিন বাউল, হুমায়ূন আহমেদ স্মৃতি সংসদের সভাপতি মজিবুর রহমান ও চর্চা সাহিত্য আড্ডার সমন্বয়কারী রহমান জীবন।

শেয়ার করুন