নব-শালবন বিহারে মুগ্ধ দর্শনার্থীরা

নব-শালবন বিহার’র প্রবেশমুখ

কাওসার আহমাদ, কুমিল্লা থেকে ফিরে ।। কুমিল্লা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের ময়নামতি থেকে আকাঁবাকা সরু পথ পাড়ি দিয়ে শালবন বিহার’র ঠিক পশ্চিম দিকের বিপরীতে প্রবেশমুখ।

তাল গাছের গা ঘেষে সুসজ্জ্বিত দৃষ্টিনন্দন তোরণ দাড়িয়ে আছে। তোরণের উচু অংশে তাকাতেই চোখে ভাসে অনবদ্য সুন্দর সোনালী কারুকার্য। তোরণের উপরে দুইপাশে বোদ্ধের ছায়া অবলম্বনে সোনালী রংয়ের দু’ গম্বুজ এরপর একই রংয়ের মাঝে রোদের চিলতে হাসির উজ্জ্বলে দুটি হরিণের মিষ্টি হাসির মাঝে শৈল্পিক করুকার্যে ঘূর্ণায়মান সোনালী গরুর গাড়ি চাকার বাহার। সোনারী রংয়ের উপর সূর্যের রশ্নি কারুকার্যের চাকচিক্য দ্বিগুণ বাড়ায়। এটি কুমিল্লা ঐতিহাসিক ও প্রত্নতাত্ত্বিক কৌটবাড়ি এলাকার ‘নব শালবন বিহার’র প্রবেশদ্বার। আর এই প্রবেশমুখ থেকেই নব-শালবন বিহার’র কারুকার্য দেখে মুগ্ধ দর্শনাথীরা।
প্রবেশদ্বার হতেই বা দিকে চোখে পড়ে সোনালী রংয়ের একটি বিশাল প্রার্থনারত বৌদ্ধের মূর্তি। মূর্তির উপর রোদের আলো সুন্দর্য্যের মাত্র বহুগুণ বাড়িয়েছে। সেই মূর্তিকে রাজকীয় নিরাপত্তা দিচ্ছে দুই পাশে থাকা গর্জনরত একই রংয়ের দুটি সিংহ। এর চারপাশে ভাবগম্ভীর্য নিয়ে দাড়িয়ে আছে সোনালী রংয়ের ৩ টি বড় ও ১ টি ছোট্ট সোনালী মোটক । এরই নিচে শৈল্পিক কারুকার্যে দৃষ্টিনন্দন বৌদ্ধ মন্দির। পাশে রয়েছে বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীদেও প্রার্থনালয়, মেডিটেশন সেন্টার, শালবন বিহার স্কুল, এতিমখানা, লাইব্রেরী, জাদুঘর. সেমিনার ও হোস্টেল কক্ষ।
এসব ভবনে উপরের রয়েছে সোনালী রংয়ের আরোও একাধিক ভাস্কর্য। ভাস্কর্য ছাড়া এখনও নব-শালবন বিহারের ভবনের কারুকার্যের  অনেক কাজ প্রক্রিয়াধীন।

নব-শালবন বিহার’র বৌদ্ধ মূর্তি ও পিছনে বিশাল আকারের সোনালী মোটক

‘অসমাপ্ত কাজেই চোখ জুড়িয়ে গেছে’ এমন মন্তব্য করে সিলেট থেকে আসা পর্যটক সোহাইল আহমদ বলেন, কুমিল্লার ঐতিহাসিক শালবন বিহারের পাশে এমন একটি দৃষ্টিনন্দন স্থান উপভোগ করা পর্যটকদের জন্য বড় সুযোগ। শালবন বিহার দেখতে এসে এতো সুন্দর শৈল্পিক কারুকার্য দেখব কখনও আশা করতে পারিনি।

পর্যটক সাঈদ মোহাম্মদ জিয়া বলেন, ঐতিহাসিক স্থান হিসেবে শালবন বিহার সারা দেশের কাছে যেভাবে পরিচিত সেভাবে নব শালবন বিহারও পরিচিতি পাবে আমার বিশ্বাস। এতো সুন্দর কারুকার্য দেখে আমি মুগ্ধ । ঐতিহাসিক প্রত্নতাত্ত্বিক দর্শন ও জ্ঞানের পিপাসা মিটানেরা জন্য এখানে আসা উপুযুক্ত মনে করেন তিনি। এই জায়গা বেড়াতে আসলে পর্যটকরা আনন্দ ও উপভোগ করতে পারবেন বলে মন্তব্য করেন তিনি।

নব শালবন বিহারের সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, থাইল্যান্ড থেকে উপহার পাওয়া ৬০ টন উজনের ধাতব পদার্থ দিয়ে আড়াই একর ভূমির উপর নব-শালবন বিহার বৌদ্ধ ভাস্কর্য তৈরী করা হয়েছে। যার উচ্চতা ৩০ ফুট । এছাড়ও আরোও দৃষ্টিনন্দন একাধিক ভাস্কর্য রয়েছে।
পর্যটকরা সবসময় ঐতিহাসিক স্থানের সানিধ্য ও দেখার তৃষ্ণা মেটানো এবং জীবনের স্মৃতিপটে সেই দৃশ্য আজীবনের জন্য জমা রাখার জন্য বেড়াতে আসেন । এখানে ইতিমধ্যে দেশ বিদেশের অসংখ্য পর্যটক বেড়াতে এসেছেন। তাই কাজ সম্পন্ন করার পর টিকেট বিনিময়ে দশনার্থীদের প্রবেশের সুবিধা করে দেওয়া হবে।

নব শালবন বিহারের সহকারী তত্ত্বাবধায়ক সুমন বড়ুয়া জানান, থাইল্যান্ডে পিস বৌদ্ধ মন্দিও অনুকরণে সেদেশের স্থপতি মিস্টার সুরাসাইর তত্ত্বাবধানে বাংলাদেশের বিশ্বজিৎ বড়ুয়াসহ একাধিক স্থপতি কাজ করছেন। তিন বছর আগে শুরু হওয়া নব শালবন বিহার আগামী বছর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা উদ্বোধন করবেন তিনি আশা প্রকাশ করেন।

শেয়ার করুন