‘রাতারগুল মোটরঘাটে নৌকার মাঝি ও পর্যটকদের হয়রানির অভিযোগ’

সিলেট প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন

unnamedসিলেটের সকাল ডেস্ক ।। দেশের একমাত্র জলাবন রাতারগুলের মোটরঘাটের সাবলীজ নিয়ে একটি প্রভাবশালী মহল পর্যটকদের হয়রানী ও নৌকার মাঝিদের কাছ থেকে অতিরিক্ত টাকা আদায় করছে বলে অভিযোগ করেছেন স্থানীয় এলাকাবাসী।

বুধবার সিলেট প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলনে খাদিমনগর ইউনিয়নের মটরঘাট এলাকাবাসীর পক্ষে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন মো. রফিকুল ইসলাম।

লিখিত বক্তব্যে তিনি বলেন, সিলেট নগরীর আম্বরখানা-এয়ারপোর্ট রোড হয়ে খাদিমনগর ইউনিয়নের সাহেববাজার থেকে প্রায় ৩ কিলোমিটার দূরে মোটরঘাট। এ ঘাট থেকে নৌকা দিয়ে সিলেটের সুন্দরবন নামে খ্যাত রাতারগুল সোয়ান ফরেস্টের সৌন্দর্য অবলোকনে পর্যটকরা যান।

তাদের অভিযোগ, মোটরঘাট (খেয়াঘাট) টি প্রতি বছর জেলা পরিষদের মাধ্যমে ইজারা দেয়া হয়। ঘাটের লিজ নেয় শহরে বসবাসকারী কিছু নামধারী প্রতিষ্ঠান। তারা ঘাটটি লিজ নিয়ে স্থানীয় কিছু প্রভাবশালী দাঙ্গাবাজ লোকদের কাছে সাবলিজ দেয়। যারা সাবলিজ নেয়, তারা দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে আগত পর্যকটদের কাছ থেকে কৌশলে অতিরিক্ত টাকা আদায় করে। এতে নৌকার মাঝি ও পর্যটকগণ হয়রানির শিকার হন।

এ বিষয়টি নিয়ে গত বছর মোটরঘাটে এলাকাবাসীদের সাথে বৈঠক করেন সিলেট সদর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান, ইউএনও এবং ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান। তারা নৌকার ভাড়া নির্ধারণ করে দিলেও তোয়াক্কা না করে ইচ্ছা মতো পর্যটকদের কাছ থেকে ভাড়া আদায় করা হচ্ছে। এ নিয়ে এলাকাবাসীর সাথে সাবলীজকারীদের সাথে বাকবিতন্ডা লেগেই থাকে।

পর্যটকদের জন্য এটি আকর্ষনীয় হওয়ায় অতি মুনাফার লোভে শোয়েব এন্টারপ্রাইজ, সূর্য এন্টারপ্রাইজ ও তুর্য এন্টারপ্রাইজ ঘাটটি লীজ নেয়।

সংবাদ সম্মেলনে তারা বলেন, সাবলীজ গ্রহণকারীদের দ্বারা পর্যটক বহনকারী নৌকার মাঝি ও পর্যটকদের হয়রানি দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। এতে হয়রানির শিকার হয়ে পর্যটক বিমুখ হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। খেয়াঘাট সরকারি নিয়ম ও চার্ট অনুসরণ করে পরিচালিত হওয়ার দাবি জানিয়ে তারা বলেন, সাবলীজকারীদের হাত থেকে পর্যটকদের বহনকারী নৌকার মাঝিদের রক্ষার দাবি জানান। নতুবা এলাকাবাসী প্রতিরোধ গড়ে তুলতে বাধ্য হবে।

সংবাদ সম্মেলনে এলাকাবীর মধ্যে উপস্থিত ছিলেন, সাবেক মেম্বার মদরিছ আলী, মো. উমেদ আলী, মো. মনু মিয়া, মো. মজর আলী, মো. কলিম উল্ল্যা, মো. কালা মিয়া, আব্দুল আলী, সুরুজ আলী, আবুল মিয়া, আনা মিয়া, তজমুল আলী, হেলাল মিয়া, রফিকুল ইসলাম, আমির আলী, আজিজুর রহমান, গৌতম চন্দ্র দে, জালাল উদ্দিন, আত্তর আলী, হুসন আলী প্রমুখ।

শেয়ার করুন