পঞ্চগড়ে রেল লাইনে মেয়েকে রেখে ঝাঁপ দিলেন মা

b42e631f5479566e7c0e5f35b0d882ed-5916ea37dd60c4565সিলেটের সকাল ডেস্ক : পঞ্চগড়ে নিজের মেয়ে সন্তানকে রেললাইনে  রেখে ঝাঁপ দিয়ে আত্মহত্যা করেছে এক মা। এতে ‍মুহুর্তেেই ছিন্নভিন্ন হয়ে যায় মা-মেয়ের দেহ। ভ্যানিটি ব্যাগে রাখা টিকা কার্ডে  মা শ্যামলী বসাক ও মেয়ে পবিত্রা সেন মায়ার ছবি রয়েছে। কার্ডের সুত্রেই তাদের পরিচয় সনাক্ত করা গেছে।

আজ শনিবার দুপুর ১২ টায় পঞ্চগড় সদর উপজেলার বকুলতলা এলাকায়  ঠাকুরগাঁও থেকে একটি ট্রেন আসলে ঘটনাটি ঘটান ঐই নারী। উত্তরা নামের এই লোকাল ট্রেনটি পার্বতীপুর থেকে পঞ্চগড়ে আসছিল।

নিহত মা-মেয়ে আটোয়ারী উপজেলার বারো আউলিয়া গ্রামের শ্যামলী বসাক (২২) ও তাঁর দুই বছরের শারীরিক প্রতিবন্ধী শিশু পবিত্রা সেন মায়া।

প্রত্যক্ষদর্শী এলাকার রশিদুল ইসলাম (৪৪) বলেন, ‘আমরা কয়েক জন রেললাইনের ধারে বাঁশবাগানের ভেতর তাস খেলছিলাম। দুপুর সোয়া ১২টার দিকে ঠাকুরগাঁও থেকে ট্রেন আসছে। এমন সময় এক নারী কোলের এক শিশুকে রেললাইনের ওপর শুইয়ে দিয়ে নিজেও ঝাঁপ দেন। সঙ্গে সঙ্গে তাঁদের ওপর দিয়ে ট্রেন চলে যায়। ঘটনাটি কোনো কিছু বুঝে ওঠার আগেই সবকিছু শেষ হয়ে যায়। আমাদের করার কিছুই ছিল না।’

নিহত শ্যামলী বসাকের বাবা অরুণ বসাকের ভাষ্য, তিন বছর আগে ঠাকুরগাঁও জেলার রাজাগাঁও ইউনিয়নের রুহিয়া আসানপুর এলাকার প্রদীপ সেনের সঙ্গে শ্যামলীর বিয়ে হয়। বিয়ের এক বছর যেতে না যেতে নির্যাতনের শিকার হয়ে গর্ভাবস্থায় বাপের বাড়িতে ফিরে আসেন শ্যামলী। এর পর সন্তানের জন্ম দেন তিনি। কিন্তু শিশুটি প্রতিবন্ধী হওয়ায় স্বামী ও শ্বশুর বাড়ির লোকজন তাঁকে নিতে অস্বীকৃতি জানায়। এ নিয়ে পঞ্চগড় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে একটি মামলা বিচারাধীন রয়েছে। সন্তানের চিকিৎসার জন্য প্রতি সপ্তাহে শ্যামলী জেলা শহরের প্রতিবন্ধী হাসপাতালে যান। আজও চিকিৎসার কথা বলেই বের হন।

ট্রেন লাইনের পাশে পড়ে থাকা শ্যামলী বসাকের ভ্যানিটি ব্যাগ পাওয়া যায়। ব্যাগের ভেতর রাখা পরিচয়পত্র ও সন্তানের টিকা কার্ড, মোবাইল ফোন সেট পাওয়া গেছে। গত দুই বছর থেকে তিনি একটি বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা পরিচালিত স্কুলে শিক্ষকতা করছিলেন।

অরুণ বসাক জানান, পারিবারিক কলহের কারণেই তার মেয়ে নাতনিকে নিয়ে আত্মহত্যা করেছে।

পঞ্চগড় সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রবিউল হাসান সরকার ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে জানান, স্বামীর ওপর রাগ করেই আত্মহত্যা করে থাকতে পারেন। বিষয়টি জিআরপি পুলিশকে অবহিত করা হয়েছে।

শেয়ার করুন