আজ জাতীয় কবির ১১৮তম জন্মবার্ষিকী

26574_64580_national-poet_64001সিলেটের সকাল ডেস্ক ।। দ্রোহ, প্রেম, সাম্য ও মানবতার কবি কাজী নজরুল ইসলামের ১১৮তম জন্মবার্ষিকী আজ। ১৮৯৯ সালের ২৪ মে (জ্যৈষ্ঠ ১১, ১৩০৬ বঙ্গাব্দ) তিনি পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমান জেলার আসানসোল মহকুমার চুরুলিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।

নজরুল ছিলেন অসাম্প্রদায়িকতা ও জাতীয়তাবোধের মূর্ত প্রতীক। অত্যাচার, নিপীড়ন ও শোষণের বিরুদ্ধে ছিলেন উচ্চকণ্ঠ। বিদ্রোহী কবি তার অন্য পরিচয়। তার শিকল ভাঙ্গার গানে জেগে উঠেছিল ঝিমিয়ে পড়া বাঙালি জাতি।

ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলনে তার লেখনী এ উপমহাদেশের মানুষকে উজ্জীবিত করেছিল।  বিদ্রোহী কবির অগ্নিঝরা কবিতা ও গান আমাদের মহান মুক্তিযুদ্ধে ছিল অনন্ত প্রেরণার উৎস। শৌর্য-বীর্য ও স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্বের মন্ত্রে উজ্জীবিত কবির গান ‘চল্ চল্ চল্’ বাংলাদেশের রণসংগীত ।

আবার নজরুল ছিলেন মানবতা ও সাম্যের কবি। কবি নজরুল ছিলেন বহুমুখী প্রতিভার অধিকারী, তিনি একাধারে ছিলেন গল্পকার, ঔপন্যাসিক, নাট্যকার, প্রাবন্ধিক, সাংবাদিক, সম্পাদক ও অনুবাদক। তিনি অনন্যসাধারণ লেখনীর মাধ্যমে আমাদের সাহিত্য, সংগীত ও সংস্কৃতিকে সমৃদ্ধ করেছেন।

তার জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পৃথক বাণী দিয়েছেন। তাকে নিয়ে বিভিন্ন পত্রপত্রিকায় প্রকাশিত হবে বিশেষ নিবন্ধ। বাংলাদেশ বেতার ও টেলিভিশনসহ বিভিন্ন বেসরকারি টেলিভিশনে প্রচারিত হবে বিশেষ অনুষ্ঠানমালা।

রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ তার বাণীতে বলেন, ‘সাম্য ও মানবতার কবি কাজী নজরুল ইসলাম বাংলা সাহিত্য ও সংস্কৃতির ইতিহাসে একটি উজ্জ্বল নক্ষত্র। তিনি একাধারে কবি, সংগীতজ্ঞ, কথা সাহিত্যিক, নাট্যকার, প্রাবন্ধিক ও সমাজ-সংস্কারক। কবির লেখনী শোষিত-নির্যাতিত ও বঞ্চিতদের অধিকার আদায়ে সকলকে সোচ্চার করে, শিক্ষা দেয় অন্যায়ের প্রতিবাদ করতে।’

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তার বাণীতে বলেন, ‘বাংলাদেশের প্রকৃতি, মানুষ ও মানুষের অকৃত্রিম ভালোবাসা নজরুলকে গভীরভাবে আকর্ষণ করেছিল। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান কবি নজরুল ইসলামকে জাতীয় কবি হিসেবে ঘোষণা করেন এবং তাকে সপরিবারে বাংলাদেশে এনে নাগরিকত্ব দেন। জাতির পিতা অসুস্থ নজরুলের চিকিৎসার ব্যবস্থা করেন। এ মাটিতেই কবি চিরনিদ্রায় শায়িত আছেন।’

এ বছর জন্মবার্ষিকীর মূল অনুষ্ঠান হবে ঢাকায়। দিবসটি উপলক্ষে ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে বিকাল ৩টা ৩০ মিনিটে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ। সংস্কৃতিমন্ত্রী আসাদুজ্জামান নূরের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন নজরুল ইন্সটিটিউট ট্রাস্টি বোর্ডের সভাপতি ইমেরিটাস অধ্যাপক রফিকুল ইসলাম।

কবির ১১৮তম জন্মবার্ষিকী উদযাপনের প্রতিপাদ্য বিষয় নির্ধারণ করা হয়েছে- ‘সাম্রাজ্যবাদ ও উপনিবেশবাদ বিরোধী সৈনিক নজরুল’।

আজকে এই উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে এ বিষয়ে স্মারক বক্তব্য দেবেন অধ্যাপক সৌমিত্র শেখর। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে আলোচনার পর বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমি ও নজরুল ইন্সটিটিউটের আয়োজনে ৩০ মিনিটের একটি সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান থাকবে।

অন্যদিকে কবির জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে সকাল ৬টা ৩০ মিনিটে সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয় ও এর অঙ্গ প্রতিষ্ঠানসমূহের পক্ষ থেকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়স্থ কবির সমাধিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ করা হবে। নজরুল ইন্সটিটিউট ও বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমি এ উপলক্ষে আলোচনা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করছে। জাতীয় কবির স্মৃতিবিজড়িত ময়মনসিংহের ত্রিশাল, কুমিল্লার দৌলতপুর ও চট্টগ্রামে স্থানীয় প্রশাসনের ব্যবস্থাপনায় যথাযোগ্য মর্যাদায় তার ১১৮তম জন্মবার্ষিকী উদযাপন করা হবে।

শেয়ার করুন