‘আইপি লগ’ সংরক্ষণের নির্দেশ

23717_IP-Logeসিলেটের সকাল ডেস্ক ।। দেশের সব ইন্টারনেট সেবাদানকারী (আইএসপি) প্রতিষ্ঠানকে অন্তত এক বছর পর্যন্ত ‘আইপি লগ’ সংরক্ষণের নির্দেশনা দিয়েছে বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি)। পাশাপাশি নির্দেশনায় ওয়াইফাই বা হট স্পট সেবা দেয়ার ক্ষেত্রে ব্যবহারকারীর পরিচয় সংরক্ষণ বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। তবে এই নির্দেশনা পালনে কারিগরি সক্ষমতা নেই দেশের আইএসপি প্রতিষ্ঠানগুলোর।

জানা গেছে, সাইবার অপরাধীদের শনাক্ত করতে বিটিআরসির ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড অপারেশনস বিভাগ থেকে ইতিমধ্যেই সব আইএসপি ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে এ-সংক্রান্ত একটি চিঠি পাঠানো হয়েছে।

এ বিষয়ে ইন্টারনেট সেবাদাতা প্রতিষ্ঠানগুলোর সংগঠন ইন্টারনেট সার্ভিস প্রোভাইডার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (আইএসপিএবি) সাধারণ সম্পাদক ইমদাদুল হক সোমবার মুঠোফোনে ব্রেকিংনিউজকে জানান, নিয়ন্ত্রক সংস্থার নির্দেশনা পালন করতে শুরু করেছি। তবে কারিগরি সক্ষমতার কারণে পূর্ণাঙ্গ ভাবে এই নির্দেশনা পালন করা সম্ভব হচ্ছে না। কেননা এ জন্য প্রয়োজনী সরঞ্জাম কিনতে প্রচুর বিনিয়োগ দরকার। তথ্য সংরক্ষণে আমাদের বাড়াতে হবে স্টোরেজ ডিভাইসের ক্যাপাসিটি। পরিবর্তন করতে হবে রাউটারগুলো। যা এখনই সম্ভব নয়। ফলে আপাতত আমরা ‘মেইল লগ’ সংরক্ষণ করতে পারলেও ‘ইউআরএল লগ’ সংরক্ষণে অক্ষম।

এদিকে ইন্টারনেট ব্যবহার করতে গিয়ে একজন ব্যক্তি কখন কোন ওয়েবসাইটে ঢুকবে তা তার সম্পূর্ণ ব্যক্তিগত বিষয় বল মন্তব্য করেছেন মানবাধিকারকর্মী ও সাইবার বিশেষজ্ঞরা। তাদের বলছেন, এই তথ্যগুলো আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী কখন, কীভাবে পেতে পারে সে বিষয়টি আইনের মাধ্যমে নিশ্চিত করতে হবে।

সূত্রমতে বিটিআরসি’র চিঠিতে বলা হয়েছে, জাতীয় নিরাপত্তার স্বার্থে আইএসপিদের এই নির্দেশনা মেনে চলতে হবে। ‘আইপি লগে’ ইন্টারনেট ব্যবহারকারীর ডিভাইসের পরিচয়, সময়সূচি এবং ব্যবহারকারী কোন ওয়েবসাইট পরিদর্শন করছে (ইউআরএল) তা সংরক্ষণ করতে হবে। এছাড়াও ওয়াইফাই বা হট স্পট সেবা দেয়ার ক্ষেত্রে ব্যবহারকারীর নাম, মুঠোফোন নম্বর সংরক্ষণ করতে হবে। আর প্রয়োজনীয় সময়ে নিরাপত্তা সংস্থা বা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী যাতে যেকোনো ব্যবহারকারীকে শনাক্ত করতে পারে, সে জন্য আইএসপিকে আইপি লগ সরবরাহ করতে হবে।

জানা গেছে, দেশে ১১০টি ন্যাশনওয়্যাইড, ৪০০টি ক্যাটাগরি ভিত্তিক এবং ৫০০টি লাইসেন্সপ্রাপ্ত আইএসপি প্রতিষ্ঠান রয়েছে। এর বাইরে ৪ হাজারের মতো লাইসেন্সবিহীন প্রতিষ্ঠান রয়েছে। এসব প্রতিষ্ঠানগুলোকে নিয়ন্ত্রণে আনতে না পারলে এসব উদ্যোগ কোনো কাজে আসবে না।

প্রসঙ্গত, কম্পিউটার কিংবা মুঠোফোনের মাধ্যমে ইন্টারনেটে সংযুক্ত হতে হলে একটি পরিচিতি নম্বর বা ঠিকানা লাগে, যা আইপি (ইন্টারনেট প্রটোকল) অ্যাড্রেস নামে পরিচিত। কোন আইপি অ্যাড্রেসের বিপরীতে কোন ব্যক্তি কোন সময় ইন্টারনেট-সেবা নিচ্ছে, তা আইএসপিতে রেকর্ডভুক্ত করে রাখার উপায় হলো ‘আইপি লগ’।

শেয়ার করুন