সিলেটের ‘হলি আরবান’-র যাত্রা শুরু: ‘বিল্ডিং কোড মেনে ভবন নির্মাণের আহ্বান সিটি মেয়র আরিফের’

002সিলেটের সকাল রিপোর্ট ।। নিরাপদ ও উন্নত আবাসন সেবা দিতে প্রবাসী অধ্যুষিত সিলেটে যাত্রা শুরু করছে সর্ববৃহৎ আবাসন প্রকল্প হলি আরবান প্রপার্টিজ প্রা. লিমিটেড। মুনাফা অর্জনের পাশাপাশি সামাজিক দায়বদ্ধতা থেকে প্রকৃতির মাঝে মনকাড়া স্থাপত্য শৈলীর এই বহুতল প্রপার্টিজের সবকটি ফ্ল্যাট আগামী আট বছরের মাঝে গ্রাহকের কাছে হস্তান্তর করা হবে। ভূমিকম্পের সহনীয় মাত্রায় ব্যতিক্রম সবুজ বেষ্টনির স্থাপত্যে নির্মাণ করা হচ্ছে ১৫ তলা বিশিষ্ট এই প্রপার্টি।

শনিবার নগরীর আরামবাগস্থ আমান উল্লাহ কনভেনশন সেন্টারে প্রকল্পের বর্ণাঢ্য উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রকল্পের সার্বিক দিক ও স্থাপত্যশৈলীর বর্ণনা তুলে ধরা হয়। এসময় উপস্থিত সিলেটের বিশিষ্টজনরা হলি আরবানের সাফল্য কামনা করেন। এছাড়া আবাসন গ্রুপের নতুন ব্যতিক্রম এই উদ্যোগকে স্বাগতও জানান তারা।

unnamedহলি আরবান প্রপার্টিজ লি: এর চেয়ারম্যান সাবেক সংসদ সদস্য কলিম উদ্দিন আহমদ মিলনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথির বক্তব্যে সিলেট সিটি করপোরেশনের মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী বলেন, ‘সিলেট ভূমিকম্প প্রবণ জোনে অবস্থিত। এখানে ভবন নির্মাণের বিল্ডিং কোডের বিষয়টি মাথায় রাখতে হবে। পাশাপাশি স্বল্প আয়ের লোকেরা যাতে ফ্ল্যাট কিনতে পারে সে বিষয়টি উদ্যোক্তাদের মাথায় রাখতে হবে।’ তিনি বলেন, এই এলাকায় সিটি করপোরেশনের উদ্যোগে বিভিন্ন প্রকল্প হাতে নেয়া হয়েছে। এগুলো বাস্তবায়িত হলে এলাকার চেহারা পাল্টে যাবে।

হলি আরবানের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মুহাম্মদ দিলওয়ার হোসাইনের পরিচালনায় উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের শুরুতে প্রকল্পের সার্বিক দিক তুলে ধরে প্রতিষ্ঠানের ভাইস চেয়ারম্যান মুনতাসির আলী বলেন, ‘মুনাফা অর্জনের পাশাপাশি সামাজিক দায়বদ্ধতা রয়েছে। আমাদের উদ্দেশ্য মহৎ। ফলে এ প্রকল্পে গ্রাহকের অধিকার যথাযথভাবে বাস্তবায়ন করা হবে। শুধু মুনাফা অর্জন নয়; গ্রাহকরাও যাতে করে যথাসময়ে তাদের ফ্ল্যাট বুঝে পান সেদিকেও সৃষ্টি থাকবে আমাদের।’

প্রজেক্টরের মাধ্যমে প্রকল্প উপস্থাপন কালে স্থাপত্যবিদ জালাল আহমদ জানান, হলি আরবান প্রপার্টিজের বহুতল ভবনের চারটি ধাপে ডিজাইন করা হয়েছে। ভবনের ডিজাইনের ক্ষেত্রে সবুজের আধিক্য এবং প্রতিটি ফ্ল্যাটে পর্যাপ্ত আলো-বাতাস প্রবেশ করতে পারে সেদিকে খেয়াল রাখা হয়েছে। তাছাড়া ভবনের নবম ও দ্বাদশ তলায় খোলা যায়গা রাখা হয়েছে। যেখানে সবুজের সমারোহ গড়ে তোলা হবে। থাকবে গাছ-পালা। এছাড়া বেইজমেন্টে খোলা দুটি মাঠের পাশাপাশি গাড়ি পার্কিয়ের জন্য সুবিশাল পার্কি লট এবং ভবনের ডিজাইনের ক্ষেত্রে কমিউনিটি ফ্যাসিলিটিজসহ সবুজ ব্যস্টনির ব্যবস্থা রাখা হয়েছে বলেও জানান তিনি।

অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন সাবেক সংসদ সদস্য দিলদার হোসেন সেলিম বলেন, হলি আরবান আবাসন গ্রুপের এমন ব্যতিক্রমি উদ্যোগ প্রশংসনীয়। তারা ব্যবসার পাশাপাশি গ্রাহকের সার্বিক পরিবেশের দিক বিবেচনা করে একটি বাসযোগ্য এপার্টমেন্ট তৈরি করছেন। তাদের এমন উদ্যোগকে স্বাগত জানান তিনি।

সিলেট জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি আ ন ম শফিকুল হক বলেন, আবাসন সমস্যার সমাধানে হলি আরবান প্রপার্টিজ লিমিটেডের এমন প্রয়াস। তিনি তাদের প্রকল্পের সফলতা কামনা করেন।

সিলেট মেট্রোপলিটন চেম্বার অব কমার্সের সভাপতি হাসিন আহমদ বলেন, ‘প্রকৃতির সবুজের সমন্বয় ঘটিয়ে হলি আরবান-এর এপার্টমেন্ট নির্মাণ ব্যতিক্রমধর্মী একটি উদ্যোগ। শুধু বাড়ী তৈরি নয়; বরং পুরো প্রকৃতির সমন্বয়ে বাসযোগ্য এপার্টমেন্ট প্রকল্পটি করছেন তারা। তিনি হলি আরবানের সফলতা কামনা করেন।

সিলেট মহানগর বিএনপির সভাপতি নাসিম হোসাইন বলেন, ‘হলি আরবান প্রকল্প একটি আধুনিক প্রকল্প। যেখানে বসবাসকারীরা প্রকৃতির সানিধ্য পাবেন। এর সাথে সংশ্লিষ্টরা ব্যবসায়িক দিক না দেখে গ্রাহকের দিকও দেখছেন। তারা তাদের মার্কেটিংয়ের অভিজ্ঞতা আর মানসিক শক্তি দিয়ে প্রকল্পটি হাতে নিয়েছেন। হলি আরবান সঠিক সময়ের মধ্যে ফ্ল্যাট গ্রাহকদের মাঝে হস্তান্তর করতে পারবে বলেও আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

মুরারী চাঁদ কলেজের উপাধ্যক্ষ হায়াতুল ইসলাম আকঞ্জি বলেন, ‘ব্যবসার দিক থেকে নয়; বরং সামাজিক দায়বদ্ধতা থেকে নেয়া এমন উদ্যোগ একটি ভালো উদ্যোগ। এটি সমৃদ্ধ হবে। এবং সাফল্যও পাবে।’

বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের পরিচালক ও সিলেট অ্যাপার্টমেন্ট অ্যান্ড রিয়েল এস্টেট গ্রুপের (সারেগ) সভাপতি শফিউল আলম চৌধুরী নাদেল বলেন, ‘প্রবাসী অধ্যুষিত সিলেটে বেশ কিছু আবাসন গ্রুপ রয়েছে। এদের মধ্যে আবার কিছু কিছু কোম্পানী প্রবাসীদের কাছ থেকে টাকা নিয়ে সঠিক সময়ে ফ্ল্যাট কিংবা প্লট বুঝিয়ে দিতে পারেনি। আবার অনেক কোম্পানী টাকা নিয়ে দেউলিয়া হয়ে আছে। তবে সেক্ষেত্রে ব্যতিক্রম হলি আরবান আবাসন। এই গ্রুপের প্রকল্পটি সফল হবে বলে বিশ্বাস করেন তিনি। মনোরম পরিবেশ, দৃষ্টিনন্দন স্থাপত্যশৈলীর এই প্রকল্প সিলেটের অনন্য একটি স্থাপনা হয়ে থাকবে। পাশাপাশি প্রবাসীদের আস্থা ফিরিয়ে আনবে হলি আরবান। তিনি প্রকল্পের সফলতা কামনা করেন।’

শুভেচ্ছা বক্তব্যে সিলেট প্রেসক্লাবের সভাপতি ইকরামুল কবির হলি আরবানের সফলতা কামনা করেন। পাশাপাশি স্বল্প আয়ের মানুষের জন্য যেন এই প্রকল্পে বিশেষ কোন ব্যবস্থা রাখা হয় সে ব্যাপারে সংশ্লিষ্টদের প্রতি অনুরোধ জানান।

অনুষ্ঠানে সিলেট জেলা প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক শাহ্ দিদার আলম নবেল, খেলাফত মজলিসের সিলেট মহানগর সভাপতি সৈয়দ মুশাহিদ আলী, সিলেট জেলা আইনজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদক এডভোকেট হোসেন আহমদ, জেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের উপপরিচালক নিবাস রঞ্জন দাস, সিলেট ব্যবসায়ী ঐক্য কল্যাণ সংস্থার সভাপতি আলহাজ্ব মখন মিয়া বক্তব্য রাখেন। অনুষ্ঠানে সিলেটের বিভিন্ন স্তরের গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।

প্রসঙ্গত; হলি আরবান প্রপার্টিজ প্রা. লিমিেিটড এয়ারপোর্ট রোডে একটি মেগা প্রকল্প গ্রহণ করেছে। এই প্রকল্পের চারপাশে রয়েছে- এম এ জি ওসমানি আস্তর্জাতিক বিমানবন্দর, সিলেট পর্যটন মোটেল, সিলেট ক্যাডেট কলেজ, বাংলাদেশ ফরেস্ট স্কুল, লাক্কাতোড়া ও মালনী ছড়া চা বাগান, এ্যাডভাঞ্চার ওয়ার্ল্ড, পাঁচ তারকা হোটেল, সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়াম, মসজিদ, স্কুলসহ অনেক গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান।

এ প্রকল্পে প্রি-স্কুল, ডে-কেয়ার সেন্টার, হেলথ সেন্টার, সুপার শপ, শিশুদের খেলার মাঠ, লন্ড্রী, ওয়াটার বডি, নামাজের জায়গা, জিমনেসিয়াম, বিউটি পার্লার (লেডিস এন্ড জেন্টস), ৮টি লিফ্ট, জেনারেটর, কমিউনিটি হল ও ২৪ ঘণ্টা নিরাপত্তা ব্যবস্থাসহ সব ধরণের নাগরিক সুবিধা নিশ্চিত করা হয়েছে। এছাড়া, এ প্রকল্পে বিভিন্ন সাইজের ২৩৫টি ফ্ল্যাট রয়েছে। কোম্পানীর নিজস্ব এক একর (১০০ শতক) জায়গাজুড়ে এই প্রকল্প অবস্থিত। প্রকল্পে ২৩৫ টি ফ্লাট রয়েছে। আট বছরের ভেতর প্রকল্পের কাজ সমাপ্ত হবে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

এদিকে, প্রকল্পের উদ্বোধন উপলক্ষে শিশুদের চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়। বিকেল ৩ থেকে শুরু হওয়া প্রতিযোগিতায় শতাধিক শিশু অংশ নেন। পরে বিকেলেই বিজয়ীদের মাঝে আকর্ষণীয় ৫টি পুরস্কারের পাশাপাশি অংশগ্রহণকারী সকল শিক্ষার্থীর হাতে পুরষ্কার তুলে দেয়া হয়।

শেয়ার করুন