প্রতিবন্ধীদের মূলধারায় অন্তর্ভুক্তির আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর

image_179786_0ডেস্ক রিপোর্ট ।। প্রতিবন্ধী ও অটিজমে আক্রান্ত লোকজনকে সমাজের মূলধারায় মর্যাদার সঙ্গে বসবাসের সুযোগ করে দিতে বিশ্বের সব দেশের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, “আসুন, আমরা এদের বহুমুখী প্রতিভাকে স্বীকৃতি প্রদানে সংকল্পবদ্ধ হই। যাদের এই অসামঞ্জস্যতা, তার কোনো চিকিৎসা নেই, তাদের মর্যাদার সঙ্গে জীবনযাপনের সুযোগ করে দিই। যাতে করে তারা সমাজের মূলধারায় সম্পৃক্ত হতে পারে।”

বুধবার সকালে ভুটানে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা অটিজম এবং নিউরোডেভেলপমেন্টাল ডিসঅর্ডার-বিষয়ক তিন দিনের আন্তর্জাতিক সম্মেলনের উদ্বোধনী পর্বে বিশেষ অতিথির ভাষণে এ কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী তার ভাষণে বলেন, “ঝুঁকির মুখে থাকা নাগরিকদের সুরক্ষা প্রদান করা সকল দেশের জন্যই প্রয়োজনীয় এবং সরকারগুলোর উচিত এজন্য নীতি এবং কর্মসূচি প্রণয়ন করা। যাতে করে কোনো নাগরিকই যেন অবহেলার স্বীকার না হয়।”

শেখ হাসিনা বলেন, “তারা (অটিজম আক্রান্তরা) দেশের অর্থনৈতিক সমৃদ্ধিতে ভূমিকা রাখার সুযোগের দাবিদার। এটা আমাদেরই কর্তব্য তাদের জন্য জীবনের প্রতিটি স্তরে শিক্ষা থেকে শুরু করে কর্মসংস্থান পর্যন্ত প্রয়োজনীয় পর্যাপ্ত সামাজিক এবং মেডিকেল সাহায্য প্রদান করা।”

প্রধানমন্ত্রী বলেন, “সাম্প্রতিক বছরগুলোতে অটিজম স্পেকট্রাম ডিসঅর্ডার (এএসডি) বিষয়ে অর্থনৈতিক এবং কারিগরিভাবে সীমাবদ্ধ দেশগুলোর কৌশলগত পরিকল্পনা প্রণয়ন এবং কাঠামোগত পদ্ধতি নির্ধারণের সচেতনতা অনেকাংশে বৃদ্ধি পেয়েছে।”

“এক্ষেত্রে আমাদের প্রতিশ্রুতি সত্ত্বেও তাদেরকে দিক-নির্দেশনা প্রদানের মত কোন মডেল বা নির্দেশিকা এতদিনেও তৈরী হয়নি,” উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রী।
শেখ হাসিনা বলেন, “যেসব কর্মসূচি নেয়া হচ্ছে সেগুলোর সঙ্গে আন্তঃদেশীয় বা অন্তঃদেশীয় কর্মকান্ডের সমন্বয় করাটা খুব জরুরি। আর এটার ক্ষেত্রেই চ্যালেঞ্জের মুখে রয়েছে সকল দেশ।”

প্রধানমন্ত্রী বলেন, “বর্তমান বিশ্বে অটিজম এবং অন্যান্য নিউরোডেভেলপমেন্টাল ডিসঅর্ডার বিষয়ে বৈজ্ঞানিক গবেষণার নিয়মতান্ত্রিক কাঠামো ছাড়া সার্ভিস ডেলিভারি মডেল কখনও কার্যকর হতে পারে না। অর্থনৈতিকভাবে পর্যাপ্ত এবং অদূর ভবিষ্যতের জন্য ও টেকসই-মজবুত হতে পারে না।”

তিনি বলেন, “এক্ষেত্রে ডাটার স্বল্পতা, সাংস্কৃতিকভাবে সচেতন, প্রমাণভিত্তিক ইন্টারভেনশন কর্মসূচি এবং বিদ্যমান থাকা কর্মসূচি এবং সেবার বিষয়ে নিবিড় পর্যবেক্ষণ উল্লেখযোগ্য। ‘এজন্য কখনো কখনো মানসম্পন্ন কর্মসূচিও বড় বড় শহর কেন্দ্রিক জনগোষ্ঠীর বাইরে পৌঁছতে পারে না কিংবা তাদের আয়ত্তের মধ্যে থাকে না।”

শেখ হাসিনা বলেন, “২০১৩ সালের বিশ্ব স্বাস্থ্য সম্মেলনে গৃহীত সমন্বিত মানসিক স্বাস্থ্য অ্যাকশন প্লান ২০১৩-২০২০তে পরিষ্কার বলে দেয়া হয়েছে যে, এই বিষয়ে জরুরী ভিত্তিতে মানসিক এবং মনস্তাত্ত্বিক অসাঞ্জস্য দূর করতে হলে ‘গ্যাপ’ চিকিৎসা পদ্ধতিকে আরো জোরালো করতে হবে।”

প্রধানমন্ত্রী বলেন, “এক্ষেত্রে দেশগুলোর জন্য করণীয় ও লক্ষ্য নির্ধারণ করা আছে। কিন্তু, অর্থনৈতিক অসচ্ছলতা এবং এজন্য বিভিন্ন টুল গ্রহণ এবং বর্জন করার সক্ষমতা, দক্ষ স্বাস্থ্যকর্মীর স্বল্পতা এবং সার্ভিস উন্নয়নের স্বল্পতা আমাদের কর্মপ্রয়াসকে অর্থনৈতিকভাবে এবং নৈতিকভাবে দারিদ্র্যপীড়িত এলাকাগুলোতে বিঘ্নিত করছে।”

প্রধানমন্ত্রী বলেন, “এ ধরনের একটি গুরুত্বপূর্ণ সম্মেলন উদ্বোধন করে আমি সত্যিই সম্মানিত বোধ করছি। পাশাপাশি অটিজম স্পেকট্রাম ডিসঅর্ডারস (এএসডি) ও নিউরোডেভেলপমেন্ট ডিসঅর্ডারস (এনডিডিএস)-এর নিরাময়ে অনেক প্রখ্যাত চিকিৎসাবিদ, গবেষক ও নীতিনির্ধারকগণের আজকের উপস্থিতি দেখে আমি আরো অনুপ্রাণিত হয়েছি।”

তিনি বলেন, “এ ধরনের ব্যাধিপ্রাপ্তরা যেখানেই থাকুক না কেন, তারা সবার ভালবাসা ও সম্মানের মাঝে বাস করার অধিকার রাখে। ১৯৪৪ সালে এটি বিকাশগত ব্যাধি (ডেভেলপমেন্টাল ডিসঅর্ডারস) হিসেবে স্বীকৃতি পেলেও আজো এএসডি বিশ্বব্যাপী একটি গুরুত্বপূর্ণ স্বাস্থ্য সমস্যা হিসেবে রয়ে গেছে।”

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মহামারী সংক্রান্ত তথ্যে দেখা যায়, ১৬০ জনের মধ্যে ১ জন এএসডিতে আক্রান্ত। শেখ হাসিনা বলেন, “বিগত ৫০ বছরের সমীক্ষার ভিত্তিতে এএসডিকে দ্রুত ছড়িয়ে পড়া গুরুতর প্রতিবন্ধিতা হিসেবে অভিহিত করা যায়, যা আমাদেরকে এএসডি সম্পর্কিত মূল বিষয়ে দৃষ্টি দিতে তাড়া দেয়। প্রথমত: এএসডি ও এনডিডিএস আক্রান্ত শিশুদের শনাক্ত করে তাদের জন্য যথাযথ শিক্ষার ব্যবস্থা করতে হবে। সাধারণ শিক্ষা ব্যবস্থায় অংশগ্রহণের সুযোগ সৃষ্টির পাশাপাশি তাদের উপযোগী বিশেষায়িত শিক্ষা পদ্ধতি চালুর জন্য সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতে হবে।”

প্রধানমন্ত্রী বলেন, “দ্বিতীয়ত: টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রার (এসডিজি) মূলমন্ত্র হচ্ছে- কেউ পিছনে থাকবে না- প্রতিবন্ধী ব্যক্তিরা এর ৩, ৪, ৮, ১১ ও ১৭ লক্ষ্যমাত্রার অন্তর্ভুক্ত। আমরা সবাই শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্য বিকাশ ও সবার কল্যাণে অঙ্গীকারবদ্ধ। এই প্রেক্ষাপটেই জাতিসংঘের সদস্যরা সমস্যাটিকে টেকসই উন্নয়নের একটি প্রধান চ্যালেঞ্জ হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে।”

শেখ হাসিনা বলেন, “তৃতীয়ত: এএসডি ও এনডিডি জাতীয় অর্থনীতির ওপরও প্রভাব ফেলে। কারণ এএসডি আক্রান্তদের ৮০ শতাংশই কর্মহীন অবস্থায় থাকে। এসডিজি’র ৮.৫ লক্ষ্যমাত্রার আলোকে তাদের জন্য উপযোগী কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করা উন্নয়নের জন্য অপরিহার্য।” –বাসস

শেয়ার করুন