প্রশ্নটা কার কাছে করব?

tony69_1253178851_1-question-markএবারের প্রাথমিকের বইয়ে অনেক ভুল নিয়ে কথা বলা হচ্ছে। শুধু ভুল নয়, এর সঙ্গে নানা ধরনের কথাও উঠে আসছে বারবার। এরই মধ্যে প্রথম শ্রেণীর বইয়ে ‘ওড়না’ শব্দটির ব্যবহার নিয়ে বিতর্ক দেখা দিয়েছে। তৃতীয় শ্রেণীর বাংলা বইয়ে আদর্শ ছেলে কবিতাটিকে সম্পূর্ণ বিকৃত করা হয়েছে!

আমি একজন কিন্ডারগার্টেন স্কুলশিক্ষকের সঙ্গে এ ব্যাপারে কথা বলেছিলাম; কিন্তু তিনি আমাকে বললেন, বিষয়টি তিনি এখনও জানেন না। বাংলা বই খুলে দেখানোর পর তার অভিমতÑ বিষয়টি দুঃখজনক।

একটি ভুল যখন হয় তখন দ্রুত চিহ্নিত করে ব্যবস্থা নেয়াই জরুরি। আদর্শ ছেলে কবিতাটি যেভাবে লেখা হয়েছে তা খুবই লজ্জাজনক। ছেলেমেয়েরা এসব পড়ে কী শিখবে? আমরা তাদের শিক্ষার জায়গাটায় আসলে কি দিতে পারছি? যদি বইয়ে ভুল থাকে তবে অবশ্যই না বুঝে অনেকে ভুলটাই শিখবে। ওড়নার ব্যাপারটি এরই মধ্যে লজ্জার পর্যায়ে পৌঁছে গেছে!

বিষয়টা আরও অবাক করা এ কারণে যে, বইগুলো দেশের শীর্ষস্থানীয় মানুষগুলো দ্বারা অনেকবার পাঠের পর অনুমোদন দেয়া হয়। তারপরও এত ভুল থাকলে বিষয়টি প্রশ্নের তীর ছুড়বে এটাই স্বাভাবিক! আমরা পাঠ্যবই একেবারে স্বচ্ছভাবে দেখতে চাই। এটি যে চাইতে হবে এ বিষয়টাই কেন আসবে। বিশেষ করে নজরে আসার ব্যাপার হলো বাংলা বইয়েই বেশি পরিলক্ষিত ভুলগুলো। তবে কি শিক্ষার মেরুদ- প্রাথমিক শিক্ষাকে নড়বড়ে করার জন্যই কেউ পাঁয়তারা করছে?

গ্রামের শিক্ষার্থীরা এমনিতেই অনেক কিছু শেখা থেকে বঞ্চিত হয়ে যায় অভিজ্ঞ শিক্ষক না থাকার কারণে। এর সঙ্গে আছে শিক্ষকদের ক্লাস না করানো, উপবৃত্তির টাকা নিয়ে দুর্নীতি, পরীক্ষায় বেশি নম্বর পাইয়ে দেয়ার মতো দুর্নীতি! নতুন আবার যোগ হলো বইয়ের মধ্যে যাচ্ছেতাই শব্দ ঢোকানো, ভাষার বিকৃতি এবং বানান ভুল!

বইয়ের ভুল ও বিকৃতির ব্যাপারে আমার কথা এখানে নয়, আমার কথা হলো, যাদের ওপর মূল্যায়নের দায়িত্ব দেয়া হয় তারা কি তাদের কাজটি সঠিকভাবে করে কিনা। যদি করেই থাকে তবে এমন কেন হচ্ছে?

শিক্ষামন্ত্রীর কাছে আমার আকুল আবেদন, যারা দুর্নীতির সঙ্গে জড়িত তাদের বের করে শাস্তির ব্যবস্থা করুন। এদের বিরুদ্ধে সঠিক ব্যবস্থা না নিতে পারলে পুরো শিক্ষা ব্যবস্থার ওপরই এর ঘা এসে লাগবে!

লেখক: সাঈদ চৌধুরী ।। শ্রীপুর, গাজীপুর

শেয়ার করুন