রূপ, রস আর মানবিকতার গল্পে ১২তম ব্রিটিশ কারি এওয়ার্ড!

3সাজু আহমদ, লন্ডন থেকে ॥ অনুষ্ঠানে রূপ, রস, গল্প ছিল, ইতিহাসের বাস্তবতাও ছিল। সব মিলিয়ে অসাধারণ একটি অনুষ্ঠান ছিল এবারের ১২ তম ব্রিটিশ কারি এওয়ার্ড। গত ২৮ নভেম্বর লন্ডনের বাটারসি পার্কের বিশাল হলে প্রায় ষোলশ’ মানুষের উপস্থিতিতে এবারের ব্রিটিশ কারি এওয়ার্ড এর বিশেষ আকর্ষণ ছিল ব্রিটিশ রাজপরিবারের সদস্য ডাচেছ অব ইয়র্ক সারাহ ফারগুসন
এর অংশগ্রহণ। অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করেছেন ব্রিটিশ সরকারের পরিবহনমন্ত্রী ক্রিস গেইলিং, বাংলাদেশ সরকারের বিলেতস্থ হাইকমিশনার নাজমূল কাউনাইন, লর্ড, শ্যাডো মিনিস্টার, একাধিক এমপি, মূলধারার অসংখ্য জনপ্রিয় শিল্পী, ফুটবলার, মিডিয়া ব্যক্তিত্ব, শীর্ষস্থানীয় ব্যবসায়ী, শেফ, বাংলা মিডিয়ার শীর্ষস্থানীয় সাংবাদিক, কবিসহ সমাজের নেতৃস্থানীয় ব্যক্তিবর্গ।
অনুষ্ঠানে এক ভিডিও বার্তায় ব্রিটেনের প্রধানমন্ত্রী তেরেসা মে বলেন, আজকে কারি ব্রিটেনের জনগণের মনে ফিস ও চিপসের মতো জায়গা করে নিয়েছে। এই মুহূর্তে বাড়িতে অথবা স্থানীয় রেস্টুরেন্টে বসে হাজার হাজার ব্রিটিশ পরিবার সুস্বাদু কারি খাচ্ছে। ওয়েস্ট মিনিস্টারের মতো সারা দেশেও কারি জনপ্রিয়। ব্রিটিশ কারি এওয়ার্ড মিশেলিন স্টার সহ অন্যান্য পুরস্কারের চেয়েও বেশি জনপ্রিয়-কারণ এটি কারীর স্বাদ ভোগকারী জনগণের ভোটে নির্ধারিত হয়।
2ব্রিটেনের পরিবহনমন্ত্রী ক্রিস গেইলিং বিলেতের ব্যবসাসহ সর্বক্ষেত্রে বাংলাদেশীদের অবদানের কথা কৃতজ্ঞচিত্তে স্মরণ করেন। বিলেতে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত নাজমুল কাউনাইন একই পরিবারের ৫ জন সদস্যের মূল পরিকল্পনায় এ ধরণের একটি অসাধারণ অনুষ্ঠান উপহার দেয়ার জন্য ব্রিটিশ কারি এওয়ার্ডের প্রতিষ্ঠাতা এনাম আলী এমবিই এর পরিবারের ভূঁয়সী প্রশংসা করেন।
ব্রিটেনের মূলধারার বিশিষ্ট অভিনেতা আলিস্টার ম্যাগাওয়ান এর উপস্থাপনায় এওয়ার্ডের প্রতিষ্ঠাতা এনাম আলী রেস্টুরেন্ট ব্যবসার সমস্যা বর্ণনার পাশাপাশি বিলেতের সমাজে কারীর প্রতি অপরিসীম ভালোবাসার নিদর্শন স্বরূপ রফু মিয়া নামক এক রেস্টুরেন্ট ব্যবসায়ীর হৃদয় ছোঁয়া অসাধারণ গল্প এক ভিডিও ডকুমেন্টারীর মাধ্যমে তুলে ধরেন। রেস্টুরেন্ট ব্যবসায়ীদের গত রেফারেন্ডামের সময়ে ব্রেক্সিটের সমর্থন এবং রেস্টুরেন্টে বিলেতের বাইরের দেশ থেকে কর্মী নিয়োগের ব্যাপারে সমতার দাবী তোলেন। এছাড়া, তার তত্বাবধানে বিলেতের নতুন টিভি চ্যানেল আই অন টিভি এবং লী রাজ একাডেমির শিগগির আত্মপ্রকাশের ঘোষণা দেন।
অনুষ্ঠানে পোশাকের ব্যাপারে কঠোর নিয়ম সবাইকে একই রূপে দেয়া যায়, উপস্থাপকের বিভিন্ন বিখ্যাত ব্যক্তির কণ্ঠ নকল এর মাধ্যমে হাস্যরস অনুষ্ঠানে রস যুগিয়েছিলেন, রফু মিয়ার গল্প সবার হৃদয়ে মানবিকতার ঢেউ তুলেছিলেন, ব্রিটিশরা যে আমাদের দেশে গান পাউডার নিয়ে গিয়েছিল এবং আমরা এর বদলে কারি পাউডার নিয়ে এসেছি, ইতিহাসের এই বাস্তবতাও অনুষ্ঠানের আয়োজক অন্যের বক্তব্যের 1উদ্ধৃতি দিয়ে মূলধারার ব্রিটিশদের কাছে তুলে ধরার সৎ সাহস দেখিয়েছেন। রাজ পরিবারের সদস্য ডাচেছ অব ইর্য়ক এব চ্যারিটি “চিলড্রেন ইন ক্রাইসিস” ও সাড়া জাগিয়েছিল অনুষ্ঠানে যা অনুষ্ঠানে উপস্থিত লোকজনের অকাতরে দান দেখে বোঝা যায়।
টিভি, ই মেইল, ক্ষুদে বার্তা ও বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রায় ২ লক্ষ ৬ হাজার জনগণের মনোয়নে যেসব রেস্টুরেন্ট ও ব্যক্তিবর্গ চূড়ান্ত পর্যায়ে বিজয়ী হয়েছেন তারা বিজয়ের হাসি নিয়ে বাড়ি ফিরেছেন। এ রকম একটি জাকজমকপূর্ণ অনুষ্ঠানের জন্য নতুন প্রজন্মের প্রতিনিধি পরিচালক জাস্টিন আলী হক ও জেফরি আলী অবশ্যই কৃতিত্বের দাবি রাখেন।
সাজু আহমদ: প্রকৌশলী ও লন্ডন প্রবাসী সাংবাদিক

শেয়ার করুন