মোগলাবাজারে ব্যবসায়ী খুনের ঘটনায় মামলা : আটক নেই

downloadসিলেটের সকাল : দক্ষিণ সুরমার মোগলাবাজারে মাটিকাটার ব্যবসায়ী আব্দুস সাত্তার খুনের ঘটনায় এখনও কাউকে গ্রেফতার করতে পারেনি পুলিশ। খুনিরা এলাকা ছেড়ে আত্মগোপনে চলে গেছে। এ ঘটনায় নিহত সাত্তারের ভাই নুরুজ্জামান সাচ্চু বাদি হয়ে ২ জনের নাম উল্লেখ করে মোগলাবাজার থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। নং- ৩ (০৮-০২-১৬)।
মামলার আসামীরা হচ্ছে- মোগলাবাজার থানার হরগৌরী গ্রামের মন্তাই মিয়ার পুত্র এনাম (৩৫) এবং একই থানার কন্দিয়ারচর গ্রামের ছমির আলীর পুত্র সাইস্তা মিয়া (৪০)। তারা বাড়ি-ঘর ছেড়ে পালিয়ে গেছে।
মামলা সুত্রে জানা গেছে, এনামের সাথে যৌথভাবে মাটি কাটার ঠিকাদারী ব্যবসা করে আসছিলেন আব্দুস সাত্তার (৩০)। এনাম মালিকগণের কাছ থেকে সমুদয় টাকা গ্রহন করে এবং আঃ সাত্তার এনামের নিকট প্রাপ্য টাকা ফেরত চাইলে সে টাকা দিতে ঢালবাহানা করলে এতে তাদের মধ্যে বিরোধ দেখা দেয়। ঘটনার দিন এ নিয়ে মধ্যস্থতাকারীরা মোগলাবাজারস্থ স্বপনের চায়ের দোকানে এক বৈঠক হয়। উক্ত বৈঠকে এক পর্যায়ে এনাম ও সাইস্তা মিয়া আব্দুস সাত্তারের শার্টের কলার ধরে দোকানের বাইরের নিয়ে যায়। সেখানে তারা সাত্তারকে উপর্যুপরি কিলঘুষি মারতে থাকলে সাত্তারের নাক দিয়ে রক্তক্ষরণ শুরু হলে এক পর্যায়ে সে জ্ঞান হারিয়ে মাটিতে পড়ে যায়। ঘটনার খবর পেয়ে সাত্তারের পরিবারের লোকজন ও স্থানীয়রা আব্দুস সাত্তারকে উদ্ধার করে মুমুর্ষ অবস্থায় সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করেন। এর পরদিন ৮ ফেব্রুয়ারী সকাল ১১ টায় চিকিৎসাধীন অবস্থায় আঃ সাত্তার মৃত্যুও কুলে ঢলে পড়েন। বিকেল ৫ টার দিকে পুলিশ ময়না তদন্ত শেষে নিহতের লাশ তার আত্মীয় স্বজনের কাছে হস্তান্তর করে। ওইদিন রাত সাড়ে ৮ টার দিকে নামাজের জানাযা শেষে নিহতের লাশ তার পারিবারিক কবরস্থানে দাফন সম্পূন্ন হয়েছে। নিহত আব্দুস সাত্তার মোগলাবাজার থানার রাঘবপুর গ্রামের মৃত আরজমন্দের পুত্র।
পারিবারিক সুত্র জানায়, নিহত আব্দুস সাত্তার জাতীয় যুব সংহতি থানা কমিটির সদস্য এবং মোগলাবাজার ইউনিয়ন কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক ছিলেন।
মোগলাবাজার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোঃ খায়রুল ফজল জানান, আব্দুস সাত্তার নিহত হওয়ার খবর পেয়ে মামলার এজাহারনামী আসামী এনাম ও সাইস্তা বাড়ি-ঘর ছেড়ে পালিয়ে গেছে। তবে তাদেরকে গ্রেফতারের জন্য সম্ভব্য সকল স্থানে অভিযান চালানো হচ্ছে।

শেয়ার করুন