মদন মোহন কলেজে ছাত্রলীগের দু’গ্রুপের সংঘর্ষ : আহত ২

Untitled-1 copyসিলেটের সকাল রিপোর্ট : সিলেট নগরীর মদন মোহন কলেজের ছাত্রলীগের দু’গ্রুপের সংঘর্ষ হয়েছে। এতে সত্যজিত ও রাকিন নামে দু’জন আহত হয়েছে। এ ঘটনায় সায়েম নামের এক ছাত্রকে আটক করা হয়েছে।

IMG_9607প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশ জানায়,  শনিবার মদন মোহন কলেজে অনার্স প্রথম বর্ষের পরীক্ষা চলাকালে দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে শিক্ষকরা হঠাৎ করে আওয়াজ শুনতে পান। কলেজের ছাত্রকে মারপিঠ করা হয়েছে এমন খবর পেয়ে সাথে সাথে ছুটে আসেন কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. আবুল ফতেহ ফাত্তাহ ও সিনিয়র শিক্ষকরা। এসময় শিক্ষকরা দেখতে পান, একটি মোটর সাইকেলে আহত সত্যজিৎ দাসকে ওসমানী হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। তার শরীরে প্রচুর রক্তকরণ হয়েছে বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকরা। শনিবার বিকেলে সত্যজিতের শরীরে অস্ত্রপাচার করা হয়েছে। তবে বর্তমানে সে আশাংকামুক্ত রয়েছে বলে জানা গেছে।

এদিকে হামলার পর কলেজ ছাত্রলীগ কর্মীরা হামলাকারী সিলেট জেলা ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ও সিলেট সরকারি কলেজের বিবিএ ২য় বর্ষের ছাত্র সায়েম আহমদকে আটক করে করে মারপিঠ করলে কলেজের অধ্যক্ষ ড. আবুল ফতেহ ফাত্তাহ ও সিনিয়র শিক্ষকরা তাকে উদ্ধার করে অধ্যক্ষের কার্যালয়ে নিয়ে আসেন। পরে পুলিশকে খবর দিলে জেলা ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক সায়েম আহমদকে আটক করে পুলিশী হেফাজতে ওসমানী মেডিকেল কলেজে ভর্তি করে। পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে একটি ছোরা উদ্ধার করেছে।
তবে একটি সূত্র জানিয়েছে, কলেজ পূজা উদযাপন পরিষদের সভা থেকে বের হয়ে সত্যজিৎ দাস কলেজের সাইফুর রহমান ভবনের বাথরুমের পাশে জেলা ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক সায়েম আহমদকে দেখতে পান। সায়েমের কোমরে ছোরা দেখে তাকে ক্যাম্পাসে আসার কারণ জানতে চায় সত্যজিৎ। এনিয়ে বাদানুবাদের একপর্যায়ে সায়েম সত্যজিৎতের পেটে ও কানে ছুরিকাঘাত করে দৌঁড়ে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে। পরে কলেজের শিক্ষার্থী ও ছাত্রলীগ কর্মীরা ধাওয়া করে সায়েমকে মির্জাজাঙ্গাল এলাকা থেকে আটক করে উত্তম মধ্যম দিয়ে অধ্যক্ষের কার্যালয়ে নিয়ে আসে।
তবে জেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক এম রায়হান চৌধুরী দাবি করেছেন, জেলা ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক সায়েম আহমদ তার ছোট বোনকে নিয়ে মদন মোহন কলেজে অনার্স প্রথম বর্ষের পরীক্ষার জন্য নিয়ে যান। এসময় মদন মোহন কলেজে ছাত্রলীগ কর্মী সত্যজিৎ দাস তার ছোট বোনকে ইভটিজিৎ করলে সায়েম তার সাথে থাকা ছোরা দিয়ে সত্যজিৎকে কুপ দেয়। এসময় মদন মোহন কলেজের ছাত্রলীগ কর্মীরা পাল্টা সায়েমের উপর হামলা চালিয়ে তাকে আহত করে।

আহত সত্যজিত

আহত সত্যজিত

কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. আবুল ফতেহ জানান , ঘটনা শুনে আমরা তাৎক্ষণিক ভাবে ছুটে যাই। পরে দেখি, আহত সত্যজিৎকে মোটর সাইকেলে করে ওসমানী হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। এসময় সায়েম নামের একটি ছেলেকে আটক করে মারপিঠ করার সময় আমরা তাকে উদ্ধার করে কলেজ অফিসে নিয়ে আসি। পরবর্তীতে তাকে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়।
কতোয়ালী মডেল থানার ওসি সোহলে আহমদ বিষয়টির সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, সত্যজিৎকে কুপিয়ে আহত করার ঘটনায় সায়েম নামের একজনকে আটক করা হয়েছে। সত্যজিতের শরীরে অস্ত্রপাচার করা হয়েছে। সায়েমও পুলিশী হেফাজতে চিকিৎসাধীন রয়েছে। এই ঘটনায় এখন পর্যন্ত কোন মামলা দায়ের করা হয়নি।

এ নিয়ে দু’গ্রুপের মধ্যে উত্তেজনা বিরাজ করছে।

শেয়ার করুন