বাতাস বিক্রি করে লাখপতি!

28633d88e02c37974c9f24f5a545a9c1-সিলেটের সকাল ডেস্ক : আপনার বাড়িটি কি গ্রামীণ এলাকায়? প্রকৃতির বিশুদ্ধ বাতাস কি প্রতিনিয়ত পান? সেটা হলে আপনার হয়তো উপার্জনের অন্য কোনো পথ না খুঁজলেও চলবে। সামান্য পরিশ্রমেই সেই বাতাস বিক্রি করে হয়ে যেতে পারেন লাখপতি!
যুক্তরাজ্যের এক ব্যবসায়ী ‘বিশুদ্ধ বাতাস’ বিক্রি করে অল্প দিনেই কামিয়েছেন হাজার হাজার পাউন্ড। তাঁর এই বাতাসের ক্রেতা চীনের ধনাঢ্য ব্যক্তিরা।
লিও ডি ওয়াটস (২৭) নামের ওই ব্যক্তি যুক্তরাজ্যের সমারসেট, ওয়েলস ও ডরসেটের গ্রামীণ এলাকা থেকে বাতাস সংগ্রহ করেন; প্রতিটি এলাকার বাতাস গুণমানে আলাদা। এরপর তা বোতলে ভরে তিনি পাঠিয়ে দেন চীনের সাংহাই ও বেইজিংয়ের মতো দূষিত শহরগুলোতে। প্রতি বোতল বাতাস বিক্রি হয় ৮০ পাউন্ড করে, বাংলাদেশি টাকায় যা ৯ হাজারের বেশি। মাত্র কয়েক সেকেন্ড প্রাণভরে নিশ্বাস নিতে এই পরিমাণ অর্থ ব্যয় করেন সেখানকার ধনী ব্যক্তিরা।
মাস কয়েক আগে ‘ইথার’ নামের একটি কোম্পানিও খুলেছেন লিও ডি ওয়াটস। ব্যবসা শুরুর পর কয়েক সপ্তাহের মধ্যে কেবল ডরসেট এলাকা থেকে সংগৃহীত বাতাসই বিক্রি হয়েছে ১৮০ বোতল।
ওয়াটসের কোম্পানির ওয়েবসাইটে গর্ব করে লেখা হয়েছে, এই বাতাস বনের গাছপালার ভেতর দিয়ে প্রবাহিত হয়। এ সময় তা বিশুদ্ধ পানি শোষণ করে। এমন পরিবেশের মধ্য দিয়ে প্রবাহিত হওয়ার পরই বাতাস বোতলে ভরা হয়।
ইথার কোম্পানির বাতাসের মূল ক্রেতা চীনের ধনাঢ্য ব্যক্তিরাই। তবে সেখানকার সাধারণ লোকজন মাঝেমধ্যে তা কেনেন। অনেকে অভিনবত্ব বিবেচনা করেও এই বাতাস কেনেন। হয়তো সারা জীবনে তাঁরা বোতলের মুখ খুলেও দেখবেন না; কাছে রেখে দিতেই কিনেছেন তা।
এ ছাড়া ‘বিশেষ’ প্যাকেজও রেখেছেন ব্যবসায়ী ওয়াটস। চীনা নববর্ষ সামনে রেখে তিনি হাজির করেছেন ‘চায়নিজ নিউ ইয়ার স্পেশাল’ প্যাকেজ। এর আওতায় ১৫ বোতল বিশুদ্ধ বাতাস বিক্রি করছেন ৮৮৮ পাউন্ডে।
বাতাস সংগ্রহের প্রক্রিয়া: হাতে তৈরি বিশেষ ধরনের জালের মাথায় বোতল স্থাপন করা হয়। এরপর সেই জাল উঁচু করে ধরে বাতাসের গতিপথের উল্টো দিকে হাঁটা হয়। কাজটি করা হয় এমন জায়গায়, যার অবস্থান দূষিত এলাকাগুলো থেকে অনেক দূরে। এই প্রক্রিয়াকে ওয়াটস বলছেন, ‘এয়ার ফার্মিং’ বা বাতাস চাষ।

শেয়ার করুন