টেংরাটিলা গ্যাসক্ষেত্রের ছবি ও নমুনা সংগ্রহ করছে ড্রোন

Sunamganj Picture(Tangra Tila Drone).07.02.2016সুনামগঞ্জ প্রতিনিধিঃ সুনামগঞ্জের দোয়ারাবাজার উপজেলায় টেংরাটিলা গ্যাসক্ষেত্রের ছবি ও নমুনা সংগ্রহ করছে ড্রোন। রোববার থেকে শুরু হওয়া এ প্রক্রিয়ায় তথ্য সংগ্রহ চলবে সোমবার পর্যন্ত। এর সাথে যোগ দিয়েছেন আরো ৩ জন বিদেশী বিশেষজ্ঞ ।

বাংলাদেশ  পেট্রোলিয়াম এক্সপ্লোরেশন এ্যান্ড  প্রোডাকশন  কোম্পানি লি. (বাপেক্স) ভূ-তত্ত্ব বিভাগের বিভাগীয় প্রধান মিজানুর রহমান বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, ড্রোনের সঙ্গে মি.এক্সিন ও খ্রিস্টিনার নেতৃত্বে আরো ৩ জন বিদেশী বিশেষজ্ঞ যোগ দিয়েছেন।  এ নিয়ে টেংরাটিলায় ১৩ জন বিদেশী বিশেষজ্ঞ দল কাজ করছেন। তিনি আরো জানান,  সোমবারও এ বিশেষজ্ঞদল ড্রোনের সাহায্যে কাজ করেন।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, বিদেশী ১৩ জনের বিশেষজ্ঞদল ৪ ভাগে বিভক্ত হয়ে  ষষ্ট দিনের মতো কাজ করে যাচ্ছেন। একটি দল টেংরাটিলা এলাকায় গ্যাস উদগীরণের ফলে কি কি রোগ এলাকাবাসীদের মধ্যে দেখা দিয়েছে তার তথ্য সংগ্রহ করছেন। দ্বিতীয় দলের সদস্যরা এলাকার উদগীরিত গ্যাস, পানি ও মাটির নমুনা এবং তৃতীয় দলের সদস্যরা গ্যাস সিপেজ’র ছবি ও নমুনা এবং মৎস্য সম্পদের ক্ষয় ক্ষতি পরিমাণ এবং চতুর্থদল ড্রোনের মাধ্যমে গ্যাসক্ষেত্রে ছবি ও বিভিন্ন নমুনা সংগ্রহ করছেন। স্থানীয়রা জানান, বিদেশি প্রতিনিধি দলের সদস্যরা টেংরা গ্রামের প্রায় শতাধিক শ্বাসকষ্ঠ,চর্ম ও আর্সেনিক রোগীসহ বিভিন্ন রোগীর সাক্ষাৎকার নিয়েছেন।

গত বুধবার থেকে বিদেশি প্রতিনিধিদলে  ড. ইয়ান বর্থ উইক, ক্লিপ  বেটন, পল লিয়েনস্টার, স্টিভ উইলান, ম্যাথিউ  মেনস রিলে, ডায়ানা, নিকোলাস, হিলিফ  শেড, ক্রিস ইভান্স,  ডেভ লি ও ড্যান বিজাল এবং রোবাবার থেকে মি.এক্সিন ও খ্রিস্টিনার নেতৃত্বে আরো ৩ জন বিদেশী বিশেষজ্ঞ দল কাজ করছেন।

এ বিশেষজ্ঞরা টেংরাটিলা গ্যাসফিল্ডের পাশের গ্রাম গিরিসনগর, আজবপুর,  কৈয়াজুরি,  টেংরাবাজার এবং শান্তিপুরের মানুষের ঘরবাড়ী, গাছগাছালি ও হাওরের ফসলি জমি ঘুরে  দেখেন। এ সময় তারা মাটি, পানি, গাছ-গাছালি ও গ্যাসের চাপ পরীক্ষা-নিরিক্ষা করেছেন।

এ সময় প্রতিনিধিদলের বাপেক্সে প্রশাসন বিভাগে ডিজিএম জাকির  হোসেন, বাপেক্সে ক্যামিস্ট আসিফ, সিলেট জালালাবাদ গ্যাসের জিএম আমির  হোসেন,  দোয়ারাবাজার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাইফুল ইসলাম, সুরমা ইউনিয়ন পরিষদের  চেয়ারম্যান শাহজাহান মাস্টারসহ বাপেক্সের আরও চারজন ভূ-তত্ত্ববিদ উপস্থিত ছিলেন।

দোয়ারাবাজার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাইফুল ইসলাম জানান, গত বুধবার থেকে টেংরাটিলা গ্যাসফিল্ড বিস্ফোরণের পর আন্তর্জাতিক সালিশি আদালতে নাইকো’র দায়ের করা মামলা  মোকাবিলার জন্য  পেট্রোবাংলা ও বাপেক্সের নিয়োজিত কাউন্সেলিং প্রতিষ্ঠানের ১১ সদস্যের প্রতিনিধিদল বুধবার টেংরাটিলা সরেজমিনে পরিদর্শনে আসেন। প্রতিনিধিদলের সদস্যরা সকাল  থেকে  টেংরাটিলা গ্যাসক্ষেত্রের আশপাশের গ্রাম, বাজার, স্কুল রাস্তাঘাট পরিদর্শন করেন।

উল্লেখ্য, পেট্টোবাংলার চেয়ারম্যান ইশতিয়াক আহমদ সম্প্রতি জ্বালানি সচিব, সিলেটের বিভাগীয় কমিশনার, সিলেট গ্যাস ফিল্ড লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও  দোয়ারাবাজার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে চিঠি দিয়ে বিষয়টি জানিয়েছেন এবং এ ব্যাপারে প্রতিনিধিদলকে সহযোগিতার করার জন্যও অনুরোধ করেন।

চিঠিতে উল্লেখ করা হয়,  টেংরাটিলা গ্যাসফিল্ডে ২০০৫ সালের ৭ জানুয়ারি ও ২৪ জুন দুই দফা  ব্লো-আউটের পর নাইকো রিসোর্সেস (বাংলাদেশ) লি. international center for settlement of investment disputes (icsid)-এ বাংলাদেশ সরকার, বাংলাদেশ  পেট্রোলিয়াম এক্সপ্লোরেশন এ্যান্ড  প্রোডাকশন  কোম্পানি লিমিটেড (বাপেক্স) ও  পেট্রোবাংলার বিপক্ষে দুটি (icsid) Arbitration case  করে। যা বর্তমানে চলমান রয়েছে। (icsid) আরবিটেশন ট্রাইব্যুনাল কর্তৃক নির্ধারিত শিডিউল অনুযায়ী বাপেক্স ও পেট্রোবাংলাকে আগামী ২৫ মার্চের মধ্যে ক্ষয়ক্ষতির বিবরণ-সংবলিত কাগজ দাখিল করতে হবে।

এজন্যই বাপেক্স ও  পেট্রোবাংলার পক্ষে মেমোরিয়াল তৈরির জন্য মামলা দুটি পরিচালনার লক্ষ্যে নিয়োজিত আন্তর্জাতিক কাউন্সিল প্রতিষ্ঠান আমেরিকার ওয়াশিংটনের ‘ফোলি হগ এলএলপি’র ১১ সদস্যের প্রতিনিধিদল টেংরাটিলা সফর করবেন।  টেংরাটিলা গ্যাস কূপ খননকালে সংগঠিত  ব্লো-আউটজনিত কারণে স্থানীয় গ্রামবাসীর দুদর্শার চিত্র দেখবেন তারা। প্রতিনিধিদল স্থানীয় ক্ষতিগ্রস্ত  লোকজনের সাক্ষাৎকার গ্রহণের কথা উল্লেখ করা হয়।

২০০৫ সালের ৭ জানুয়ারি রাত ১০টায় টেংরাটিলা গ্যাসফিল্ডে প্রথম দুর্ঘটনা ঘটেছিল। আগুনের তাপে ওইদিন গভীর রাতেই গ্যাসফিল্ডের প্রডাকশন কূপের রিগ  ভেঙে আগুন ২০০  থেকে ৩০০ ফুট ওঠানামা করছিল। পরে এক মাসেরও বেশি সময় জ্বলার পর আপনা-আপনি নিভে যায় আগুন।

দ্বিতীয় দফা বিস্ফোরণ ঘটেছিল একই বছরের ২৪ জুন রাত ২টায়। মধ্যরাতে নাইকো’র তরফ  থেকে প্রথমে বিপদ সংকেত বাজানো হয়। পরে রাত তিনটায় নাইকো’র পক্ষ  থেকে  লোকজনকে এলাকা  ছেড়ে তিন কিলোমিটার দূরে চলে যাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছিল। রাত সাড়ে তিনটায় দাউ দাউ করে জ্বলে ওঠা আগুন ১০ কিলোমিটার এলাকাজুড়ে আতঙ্ক ছড়িয়েছিল। কূপ এলাকার তিন কিলোমিটার দূরেও ভূ-কম্পন অনুভূত হয়েছিল। দু’দফা অগ্নিকা-ে গ্যাসফিল্ডের তিন বিসিক গ্যাস পুড়ে যায় এবং ৫.৮৯  থেকে কমপক্ষে ৫২ বিসিক গ্যাসের রিজার্ভ ধ্বংস হওয়াসহ আশপাশের  টেংরাটিলা, আজবপুর, গিরিশনগর, কৈয়াজুরি,  টেংরাবাজার এবং শান্তিপুরের মানুষের ঘরবাড়ি, গাছগাছালি ও হাওরের ফসলি জমি ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

শেয়ার করুন