জামায়াত-শিবির নিষিদ্ধের দাবি সিলেটে গণজাগরণের

01সিলেটের সকাল : সকল যুদ্ধাপরাধীদের সর্বোচ্চ শাস্তি কার্যকরের পাশাপাশি দ্রুত জামায়াত-শিবিরের রাজনীতি নিষিদ্ধের দাবি জানিয়েছে গণজাগণ মঞ্চ, সিলেট। একইসঙ্গে গত তিন বছরে খুন হওয়া লেখক, ব্লগার, প্রকাশক ও গণজাগরণ কর্মীদের হত্যাকারীদের বিচার দাবি জানানো হয়েছে।
শুক্রবার গণজাগরণ মঞ্চের ৩ বছর পূর্তি অনুষ্ঠানে এমন দাবি জানানো হয়। ৩ বছর পূর্তি উপলক্ষ্যে বিকেল সাড়ে ৩ টা থেকে সিলেট কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে জাগরণ গান ও সমাবেশে আয়োজন করে গণজাগরণ মঞ্চ, সিলেট। জাতীয় সঙ্গীতের মধ্য দিয়ে এ অনুষ্ঠানের শুরু হয়।
সমাবেশে বক্তারা বলেন, ২০১৩ সালের ৫ ফেব্রুয়ারি যুদ্ধাপরাধী কাদের মোল্লার যাবজ্জীবন কারাদন্ডের প্রতিবাদে সারাদেশে লাখো মানুষ রাস্তায় নেমে এসেছিলো। প্রতিবাদে সোচ্ছার হয়েছিলো। এই স্বতস্ফূর্ত প্রতিবাদই পরবর্তী গণজাগরণ মঞ্চের আন্দোলনে রুপ নেয়। এই আন্দোলনের ফলে আইন সংশোধন করে কাদের মোল্লার ফাঁসি রায় কার্যকর করা হয়। আরো কয়েকজন যুদ্ধাপরাধীর ফাঁসি কার্যকর হয়।
বক্তারা বলেন, একদিকে যখন যুদ্ধাপরাধীদের বিচার কার্যকর হচ্ছে অপরদিকে তখন ধর্মীয় উগ্রাবাদী গোষ্ঠি একের পর এক লেখক, ব্লগার, প্রকাশক ও গণজাগরণ মঞ্চের সংগঠকদের হত্যা করে যাচ্ছে। সরকার যুদ্ধাপরাধীদের বিচার করলেও এইসব হত্যাকান্ডের বিচারের ব্যাপারে অনেকটাই উদাসীন। বক্তারা লেখক, ব্লগার, প্রকাশক ও গণজাগরণ কর্মীদের হত্যার বিচার দাবি করেন।
বক্তারা বলেন, কয়েকজন যুদ্ধাপরাধীদের রায় কার্যকর হলেও গণজাগরণ মঞ্চের আন্দোলনের যৌক্তিকতা এখনো ফুরিয়ে যায় নি। এখনো জামায়াত-হেফাজত চক্র তাদের নীল নকশা বাস্তবায়নে তৎপর রয়েছে। এখনো হামলা হত্যা চালিয়ে বাংলাদেশকে একটি উগ্রবাদী জঙ্গি রাষ্ট্রে পরিণত করতে চাচ্ছে। তাই একটি উদার অসাম্প্রদায়িক মুক্তিযুদ্ধের চেনতার বাংলাদেশ গড়তে গণজাগরণ মঞ্চকে রজপথে সক্রিয় থাকতে হবে।
গণজাগরণ মঞ্চ, সিলেটের মুখপাত্র দেবাশীষ দেবু’র স্বাগত বক্তব্যের মধ্য দিয়ে শুরু হওয়া আলোচনা পর্বে বক্তব্য রাখেন সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব ব্যরিস্টার মো. আরশ আলী, প্রবীন রাজনীতিবিদ কর, মহানগর মুক্তিযোদ্ধা সংসদের কমান্ডার ভবতোষ রায়বর্মন রানা, সিলেট প্রেসক্লাব ফাউন্ডেশনের সভাপতি আল আজাদ, সিলেট জেলা প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক সংগ্রাম সিংহ, সম্মিলিত নাট্য পরিষদ, সিলেটের সভাপতি অনুপ কুমার দেব, সহ-সভাপতি খোয়াজ রহিম সবুজ, সাধারণ সম্পাদক ও গণজাগরণ সংগঠক রজতকান্তি গুপ্ত, লেখক ও সাংবাদিক অপূর্ব শর্মা, প্রগতি লেখক সংঘের সাধারণ সম্পাদক মাধব রায়, কবি আবিদ ফয়সাল, উদীচী সিলেটের সাধারণ সম্পাদক রতন দেব, কবি প্রণবকান্তি দেব, রনেন সরকার রনি, সংস্কৃতিকর্মী ধ্রুব গৌতম, বিমান তালুকদার, সুপ্রিয় দেব শান্ত, অরুপ বাউল, উত্তরা সেন পম্পা, আবু বকর আল আমিন, সাইফুর রহমান চৌধুরী, কামাল আহমদ, গণজাগরণ মঞ্চের সংগঠক আব্দুল বাতেন, রাজীব রাসেল, দেবজ্যোতি দাস, গণজাগরণ মঞ্চের সংগঠক ও ছাত্র ইউনিয়ন সিলেটের সাধারণ সম্পাদক সপ্তর্ষি দাস, সহ-সাধারণ সম্পাদক দিপঙ্কর দাশ গুপ্ত, ছাত্রফ্রন্ট সিলেটের সভাপতি পাপ্পু চন্দ, সাধারণ সম্পাদক সাকিব চৌধুরী প্রমুখ।
অনুষ্ঠানে সঙ্গীত পরিষদ পরিবেশন করে উদীচী সিলেট, নগরনাট, সিলেট, আংশুমান দত্ত অঞ্জন ও সান্তনু সেন তাপ্পু।
সন্ধ্যায় শহীদ মিনার চত্বর থেকে বের হয় আলোর মিছিল। ২০১৩ পরবর্তী সময়ে খুন হওয়া রাজীব হায়দার, জগৎজ্যোতি তালুকদার, দীপ, অভিজিৎ রায়, ওয়াশিকুর রহমান বাবু, অনন্ত বিজয় দাশ, নিলয় নিল, ফয়সাল আরেফিন দিপনের ছবি নিয়ে আলোর মিছিলটি চাঁদনীঘাটে গিয়ে শেষ হয়। আলোর মিছিল থেকে এসব লেখক, ব্লগার, প্রকাশ ও গণজাগরণ সংগঠকদের হত্যা বিচার দাবি করা হয়।

শেয়ার করুন