১৪ বছর ধরে নির্বাচন হচ্ছে না জগন্নাথপুর ও বিশ্বনাথের দুই ইউপিতে

Election-Commission-Bangladeshসিলেটের সকাল ডেস্ক : জগন্নাথপুর উপজেলার মিরপুর ও বিশ্বনাথ উপজেলার দশঘর ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচন দীর্ঘ ১৪ বছর ধরে হচ্ছে না। জগন্নাথপুর ও বিশ্বনাথ উপজেলার সীমান্ত নিয়ে বিরোধের কারণে নির্বাচন থেকে বঞ্চিত রয়েছেন দুই ইউনিয়নবাসী। এ নিয়ে দুই ইউনিয়নবাসীর মধ্যে ােভ ও হতাশা বিরাজ করছে। যদিও একটি প নির্বাচনের দাবিতে হাইকোর্টে রিট করলেও আরেক প আপিল করেছেন। এতে নির্বাচনের ভবিষ্যত অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। একই সুতোয় গাঁথা দুই ইউনিয়নের ভাগ্য। আর কবে দুই ইউনিয়নের নির্বাচন হবে এ ব্যাপারে নিশ্চিতভাবে কেউ কিছু বলতে পারছেন না।
স্থানীয় বিভিন্ন সূত্রে জানাগেছে, সর্বশেষ ২০০৩ সালে জগন্নাথপুর উপজেলার মিরপুর ইউনিয়ন ও বিশ্বনাথ উপজেলার দশঘর ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। এ সময় মিরপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন আলহাজ্ব আকমল হোসেন ও দশঘর ইউনয়নের চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন যুক্তরাজ্য প্রবাসী শফিক উদ্দিন। এরপর ২০০৮ সালে জগন্নাথপুর উপজেলা পরিষদের নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে নির্বাচন করার জন্য আলহাজ্ব আকমল হোসেন মিরপুর ইউনিয়ন পরিষদ থেকে অব্যাহতি নেন। এ সময় তিনি ইউপি সদস্য জমির উদ্দিনকে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব দিয়ে যান। এরপর থেকে এখন পর্যন্ত দীর্ঘ ১৪ বছর অতিবাহিত হলেও আর কোন নির্বাচন হয়নি। চেয়ারম্যান বিহীন পুরনো ইউপি সদস্যদের দিয়ে কোন রকমে জোড়াতালি দিয়ে চলছে কার্যক্রম। এতে অনির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের সচ্ছতা-জবাব দিহিতা ও ইউনিয়নের কাঙ্খিত উন্নয়ন নিয়ে জনমনে নানা প্রশ্নের সৃষ্টি হয়েছে।
বিগত ২০০৭ সালে দেশে জাতীয় পরিচয়পত্রের কাজ চলাকালীন সময়ে জগন্নাথপুর উপজেলার মিরপুর ইউনিয়নের লহড়ি গ্রামের একটি অংশ নিয়ে জগন্নাথপুর ও বিশ্বনাথ উপজেলার সীমান্ত নিয়ে বিরোধের সৃষ্টি হয়। এ সময় স্থানীয় হাজী আব্দুল মালিক নামের এক ব্যক্তি এ নিয়ে হাইকোর্টে মামলা দায়ের করেন। এ মামলার কারণে দুই ইউনিয়নবাসীর ভাগ্য অনিশ্চিত হয়ে যায়। যদিও গত বছর মিরপুর ইউনিয়নের শ্রীরামসি গ্রামের বাসিন্দা মাহবুবুল হক শেরিন মিরপুর ইউনিয়নের নির্বাচন হওয়ার দাবিতে হাইকোর্টে রিট করেন। কিন্তু এ সময় আরেকটি প আপিল করায় আবারো নির্বাচন অনিশ্চিত হয়ে পড়ে।
খোঁজ নিয়ে জানাগেছে, স্থানীয় একটি মহল মিরপুর ইউনিয়নের নির্বাচন চাইলেও আরেকটি প চান না। এক প নির্বাচনের পে আইনি লড়াইয়ে রায় পেলেও আরেক প আপিল করে বসেন। যে কারণে মিরপুর ইউনিয়নের নির্বাচন অনিশ্চিত হয়ে যায়।
এদিকে-একই কারণে ২০০৩ সাল থেকে দীর্ঘ ১৪ বছর ধরে বিশ্বনাথ উপজেলার দশঘর ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচন হচ্ছে না। ২০১৩ সালে দশঘর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান শফিক উদ্দিন স্থায়ীভাবে যুক্তরাজ্যে চলে যাওয়ার সময় ইউপি সদস্য হাবিবুর রহমান ছাতিরকে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের দায়িত্ব দিয়ে যান। এরপর থেকে এখন পর্যন্ত পুরনো অনির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের দিয়ে কোন রকমে চলছে দশঘর ইউনিয়ন পরিষদের কার্যক্রম। এ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে মিরপুর ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান ও জগন্নাথপুর উপজেলা পরিষদের বর্তমান চেয়ারম্যান আলহাজ্ব আকমল হোসেন জানান, ২০০৭ সালে দেশে জাতীয় পরিচয়পত্রের কাজ চলাকালীন সময়ে মিরপুর ইউনিয়নের লহড়ি গ্রামের একটি অংশ নিয়ে জগন্নাথপুর ও বিশ্বনাথ উপজেলার বিরোধ সৃষ্টি হয়। এরপর থেকে হাইকোর্টে মামলা-মোকদ্দমা চলছে। যে কারণে জগন্নাথপুর উপজেলার মিরপুর ও বিশ্বনাথ উপজেলার দশঘর ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচন হচ্ছে না।
অপরদিকে-আগামী মার্চ মাসের শেষের দিকে দেশে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচনকে কেন্দ্র করে দেশের অন্যান্য ইউনিয়নের মতো মিরপুর ও দশঘর ইউনিয়নবাসীর মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা দেখা দিয়েছে। তারাও চান দেশের অন্যান্য ইউনিয়নের সাথে এ দুইটি ইউনিয়নের নির্বাচন হোক। তাই এ দুইটি ইউনিয়নের সকল সমস্যার সমাধান করে নির্বাচন হওয়ার দাবি জানিয়ে সরকারের সংশ্লিষ্ট উর্ধ্বতন কর্তৃপরে জরুরী হস্তপে কামনা করেছেন মিরপুর ও দশঘর ইউনিয়নবাসী।

শেয়ার করুন