হাওরে অতিথি শিকার বন্ধ হচ্ছে না

p12মৌলভীবাজার সংবাদদাতা : সরকারিভাবে নিষেধাজ্ঞা থাকা সত্ত্বেও মৌলভীবাজারের হাইল হাওরে পরিযায়ী পাখি শিকার চলছেই। শীতের শুরু থেকেই জালের ফাঁদ পেতে হাওরে পাখি শিকার করা হচ্ছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। গোপনে চড়া দামে এসব পাখি বিক্রি করা হচ্ছে।
বন্য প্রাণী ব্যবস্থাপনা ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগ শ্রীমঙ্গলের রেঞ্জ কর্মকর্তা সাহেব আলী মিয়া বলেন, গত বুধবার অভিযানে হাইল হাওর থেকে ২১টি পাখিসহ প্রচুর পরিমাণ জাল উদ্ধার করা হয়েছে। অভিযানের খবর পেয়ে পালিয়ে যাওয়ায় শিকারিদের কাউকে আটক করা যায়নি। পাখি শিকার সরকারিভাবে নিষিদ্ধ।
বন্য প্রাণী ব্যবস্থাপনা ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগ এবং স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শীত আসার সঙ্গে মৌলভীবাজার সদর ও শ্রীমঙ্গল উপজেলায় বিস্তৃত হাইল হাওর এবং ওই হাওরে পাখির অভয়াশ্রম বাইক্কা বিলে বিপুলসংখ্যক পরিযায়ী পাখি আসে। এ সময় পাখি শিকারিরা হাওরের বিভিন্ন স্থানে বিলের পাড়ে ‘ফান্দা জাল’ পেতে রাখেন। রাতের বেলা পাখিরা খাবারের সন্ধানে এক স্থান থেকে অন্য স্থানে উড়ে যাওয়ার সময় এসব জালে আটকা পড়ে। দিনের বেলায়ও জালের সূক্ষ্ম ফাঁদ চোখে ধরা না পড়ায় অনেক পাখি আটকা পড়ে। দিন ও রাতে বিভিন্ন জাতের শতাধিক পাখি ধরা ও মারা পড়ছে। ভোরে শিকারিরা জালে আটকা পাখিগুলো ধরে বস্তা বা খাঁচায় পুরে নির্দিষ্ট স্থানে নিয়ে বিক্রি করেন। অত্যন্ত গোপনে শ্রীমঙ্গলের কালাপুর ও ভৈরববাজারে পাখি বিক্রি করা হয়।
বুধবার বন্য প্রাণী ব্যবস্থাপনা ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগ, বিজিবি ও শ্রীমঙ্গলের বন্য প্রাণী সেবা ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে হাওরের বৌলাছড়া, ভূনবীর, পূর্ব শ্রীমঙ্গল, পশ্চিম ভাড়াউড়া প্রভৃতি এলাকায় অভিযান চালানো হয়। এ সময় বিভিন্ন স্থানে পেতে রাখা প্রায় তিন হাজার মিটারের ১৫০টি জাল উদ্ধার করা হয়। এসব জালে আটকা অবস্থায় জীবিত ও মৃত ২১টি পাখি উদ্ধার করা হয়েছে। উদ্ধার করা পাখির মধ্যে চারটি সরালি, পাঁচটি ওটা ও দুটি নিশিবক জীবিত ছিল। জালে আটকা থাকার কারণে দুটি নিশিবক ও দুটি সরালি আহত হয়। এগুলোকে চিকিৎসার জন্য বন্য প্রাণী সেবা ফাউন্ডেশনে নিয়ে আসা হয়। সাতটি সুস্থ পাখিকে তাৎক্ষণিক অবমুক্ত করা হয়। মারা যাওয়া পাখির মধ্যে ছিল পাঁচটি খঞ্জনি, একটি মাছরাঙা ও চারটি বিভিন্ন জাতের ছোট পাখি।
অভিযানে অংশ নেওয়া বন্য প্রাণী সেবা ফাউন্ডেশনের পরিচালক সজল দেব বলেন, রাতের বেলা কিছু পাখি হাওরে আসে। শিকারিরা এ সময় জাল পেতে পাখি ধরেন। দিনের বেলায়ও জাল পেতে রাখেন। পরে এগুলো গোপনে বিক্রি করা হয়।

শেয়ার করুন