সুনামগঞ্জে বিদ্যুৎ–সংযোগের নামে অর্থ আত্মসাৎ

az-Electr24সুনামগঞ্জ সংবাদদাতা : সুনামগঞ্জ সদর উপজেলার জাহাঙ্গীরনগর গ্রামে পল্লী বিদ্যুৎ-সংযোগের প্রতিশ্রুতি দিয়ে ১২০টি পরিবারের কাছ থেকে লাখো টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। এরপর ছয় মাসেও কোনো বাড়িতে সংযোগ দেওয়া হয়নি।
গ্রামের বাসিন্দাদের অভিযোগ, গত বছরের জুন-জুলাই মাসে পরিবারপ্রতি ৫ থেকে ১৫ হাজার টাকা করে নেওয়া হয়। তখন তাদের বলা হয়, গ্রামটিতে বিদ্যুৎ-সংযোগ দিতে এই টাকা ঢাকায় ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের দেওয়া হবে।
টাকা দিয়েছেন এমন নয়জন নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, একই গ্রামের বাসিন্দা একটি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক আবদুল মান্নানসহ আরও কয়েকজন এই টাকা নিয়েছেন। টাকা নেওয়ার দুই মাস পর এলাকায় বিদ্যুতের খুঁটি বসিয়ে লাইন টানা হয়। এরপর লোকজন ঘরে ঘরে বিদ্যুতের যাবতীয় কাজ করান। কিন্তু এখনো বিদ্যুতের সংযোগ পাননি। এখন সংযোগ ‘ফি’ হিসেবে প্রত্যেকের কাছ থেকে আরও দেড় থেকে দুই হাজার টাকা করে আদায় করা হচ্ছে। মিটারের কথা বলে এই টাকা নেওয়া হলেও মিটারের জন্য পল্লী বিদ্যুতের নির্ধারিত ফি মাত্র ৬০০ টাকা।
গ্রামের আরেকজন বাসিন্দা বলেন, ‘আমরা বিষয়টি নিয়ে কথা বলতে চাইলেই যাঁরা টাকা নিয়েছেন, তাঁরা নানাভাবে ভয়ভীতি দেখান। বাড়াবাড়ি করলে নাকি কোনো কাজ হবে না, বিদ্যুৎও পাওয়া যাবে না। এখন বলা হচ্ছে, মিটারের জন্য আরও টাকা লাগবে। টাকা দিলে মিটার লাগানো হবে।’
শিক্ষক আবদুল মান্নান টাকা নেওয়ার বিষয়টি স্বীকার করে বলেন, গ্রামে বিদ্যুৎ-সংযোগ আনতে তাঁরা কয়েকজন মিলে এক বছর ধরে চেষ্টা করছেন। বিশেষ ব্যবস্থায় দ্রুত এ কাজ করিয়েছেন। তাই বিভিন্ন জায়গায় খরচপাতি দিতে হয়েছে। গ্রামবাসী উদ্যোগী হয়েই তাঁদের কাছে এ টাকা দিয়েছেন। এখন মিটার লাগানো হলেই বাতি জ্বলবে। তিনি বলেন, ‘আমরা টাকা নিয়েছি, এটা সত্য। তবে আপনারা যে পরিমাণ টাকার কথা শুনেছেন, সেটি সঠিক নয়।’
এ ব্যাপারে সুনামগঞ্জ পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির সহকারী জেনারেল ম্যানেজার (সদস্য সেবা) মৃণাল কান্তি চৌধুরী বলেছেন, ‘আমরা সব সময় বলে আসছি বিদ্যুতের জন্য কাউকে টাকা না দিতে। জাহাঙ্গীরনগর গ্রামের মানুষের কাছ থেকে টাকা নেওয়ার বিষয়টি আমরাও শুনেছি। পরে রসিদ ছাড়া আর কোনো টাকা না দিতে বলে দেওয়া হয়েছে। এই টাকা নেওয়ার সঙ্গে আমাদের কোনো কর্মী জড়িত নন।’

শেয়ার করুন