সিলেট বনবিভাগে কোটি টাকার গাড়ি হচ্ছে ভাঙাড়ি

ফাইল ছবি

ফাইল ছবি

নোমান বিন আরমান : সিলেট বনবিভাগে কোটি টাকার গাড়ি এখন ভাঙাড়ি পণ্য হওয়ার পথে। প্রায় পাঁচ বছর থেকে জব্দ করা গাড়িগুলো রক্ষণাবেক্ষণ ও আইনি জটিলতায় ধ্বংস প্রায়। বনবিভাগে গাছসহ বিভিন্ন পণ্য চুরিসহ নানা অভিযোগের আলামত হিসেবে ২০১১ থেকে ২০১৫ সাল পর্যন্ত ৩০ টি গাড়ি ও একটি ইঞ্জিন চালিত নৌকা জব্দ করে বন বিভাগ। এসব গাড়ি বিষয়ে কোনো নীতিমালা না থাকায় তা ভাঙারি হচ্ছে দিনদিন।
সরেজমিনে সিলেট বিভাগীয় বন কর্মকর্তার কার্যালয়ে গিয়ে দেখা যায়, কম্পাউন্ডে দীর্ঘদিন থেকে পড়ে থাকা গাড়ির ধাতব অংশ নষ্ট হয়ে মরিচা ধরে গেছে। সাদা ও রঙিন রঙন হয়েছে মেঠো। নিজের গাড়ি চিনতেও মালিকদেরও কষ্ট হয়। জব্দ করা গাড়িগুলোই বন কম্পাউন্ডের অর্ধেকের বেশি জায়গা দখল করে আছে। এতে বনবিভাগের স্বাভাবিক কাজেও সমস্যার সৃষ্টি করছে। আইনি জটিলার কারণে এসব গাড়ি ফিরে পেতে কয়েক বছর লেগে যায়। দীর্ঘ আইনি প্রক্রিয়ার পর ফিরে পেলেও তা আর ব্যবহারের উপযোগী থাকে না বলে অভিযোগ গাড়ি মালিকদের। তখন ভাঙাড়ি হিসেবেই এগুলো বিক্রি করতে বাধ্য হন তারা।
বন বিভাগ সূত্রে জানা যায়, সিলেট বিভাগ থেকে ২০১১ থেকে ২০১৫ সাল পর্যন্ত মোট ৩০ টি গাড়ি ও একটি ইঞ্জিন চালিত নৌকা জব্দ করা হয়। এরমধ্যে ২০১১ সালে ২টি, ২০১২ সালে ৩টি, ২০১৩ সালে ৫টি, ২০১৪ সালে ৭টি, ২০১৫ সালে ১৩টি গাড়ি ও ১টি ইঞ্জিন চালিত নৌকা জব্দ করা হয়। জব্দ করা বাহনের মধ্যে রয়েছে, ১১ টি পিক-আপ ভ্যান, ১৬ টি ট্রাক, ১টি লেগুনা, ১টি ট্রাক্টর ও ১টি ট্রলি।
সূত্র জানায়, সিলেট মেট্রোপলিটন ম্যাজিষ্ট্রেট আদালত ও চীফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে ৪২ ধারায় মামলা চলমান আছে ১০টি গাড়ির , ইতোমধ্যে ম্যাজিষ্ট্রেট আদালতে মামলা নিস্পত্তি হয়েছে ৯টি গাড়ি, ১টি গাড়ি বিরুদ্ধে মামলা থাকায় তা এখনো বন বিভাগের কাছে হস্তান্তর করা হয়নি ও ৯টি গাড়ি বন অদ্যাদেশ আইন ৬৮ ধারায় বন বিভাগ থেকে নিস্পত্তি হয়েছে। এছাড়া ২০১৪ সালে সাতটি পিক-আপ ও একটি ট্রাকসহ মোট আটটি , ২০১৫ সালে একটি পিক-আপ ও দুইটি ট্রাকসহ মোট তিনটি গাড়ির মামলা আদালতের মাধ্যমে নিস্পত্তি হয়।
এ বিষয়ে বিভাগীয় বন কর্মকর্তা আর এস এম মুনিরুল ইসলাম জানান, বিভিন্ন সময় বন থেকে চুরি করে সংগ্রহ করা গাছ ও কাঠ পরিবহনের সময় গাড়ি গুলো জব্দ করা হয়ে থাকে। জব্দ করা গাড়িগুলোর মামলা আদালতে বিচারাধীন। আইনি বাধ্যবাধকতার কারণে এ গাড়িগুলোর মামলা নিস্পত্তি হতেও দীর্ঘসূত্রিতা দেখা দেয়। এছাড়া গাড়ির মালিকানা সমস্যা থাকার কারণেও আইনি জটিলতা সৃষ্টি হয়। এসব আইনি জটিলতার কারণে গাড়িগুলো নিলামে তোলাও সম্ভব হচ্ছে না। তিনি আরও জানান, বিগত বছর গুলোর তুলনায় গত কয়েক মাসে জব্দকৃত গাড়ির পরিমাণটা অনেক বেশি।

শেয়ার করুন